১১ জুলাই, ২০১৫ ১৯:১৫
‘অতদিনতো ই ছড়ারে ছড়া কওয়া যাইতো না, দখল করতে করতে ছড়ারে নালা বানাই লাইছলা। সিটির মানুষে উদ্ধার করার পর অখন অতদিনে মনে অর ইনো একটা ছড়া আছিল।’
জল্লারপাড়ের মূলসড়কের দক্ষিণমুখী অংশের ছড়া উদ্ধারের পর বর্তমান দৃশ্য দেখে এভাবেই সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় মন্তব্য করলেন জিন্দাবাজার এলাকায় ঈদের বাজার করতে আসা বাগবাড়ির বাসিন্দা তৈয়ব আলী। শুধু তৈয়ব আলী নন, এই ছড়ার উদ্ধার কার্যক্রমে স্থানীয় এলাকাবাসীও খুশি।
শনিবার বেলা ১২টায় উদ্ধারের পর ছড়ার বর্তমান অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব ও প্রধান প্রকৌশলী ভারপ্রাপ্ত নুর আজিজুর রহমান।
এসময় রাস্তায় চলাচলকারী নাগরিকরা তাদের কাছেও সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের স্বার্থে জল্লারপাড় ছড়াসহ অন্যান্য ছড়াগুলো উদ্ধারের আহবান জানান।
তবে পরিদর্শনকালে ছড়ার উপর পলিথিন, বিভিন্ন শপিং ব্যাগ, মার্কেট ও রেস্টুরেন্টের আবর্জনা দেখতে পেয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এসময় তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীকে এই ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, ছড়ার উপর ময়লা আবর্জনা ফেললে পরিবেশ দূষনের পাশাপাশি এতে করে ছড়ার পানি প্রবাহরে ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হবে। তিনি সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত ডাস্টবিনে ময়লা আবর্জন ফেলার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহবান জানান।
জল্লারপাড়ের এই ছড়ার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অব্যাহত থাকবে জানিয়ে এনামুল হাবীব আরও জানান, শুধু এই ছড়া নয়, পর্যায়ক্রমে সিলেটের প্রতিটি ছড়া পুরনো চেহারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনের স্বার্থে এর বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন থেকে সিলেট নগরী দিয়ে বহমান জল্লারপাড় ছড়ার উপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নামে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। অভিযানের প্রথম দিনে জল্লারপাড়রোডের মূলসড়কের পাশঘেষে ছড়ার জায়গায় গড়ে তোলা একটি দোকানের (মাদানী ইলেকট্রনিক্স) একাংশ ভেঙে ছড়ার জায়গা দখলমুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, জিন্দাবাজার-কাজি ইলিয়াস-দাড়িয়াপাড়া দিয়ে প্রবাহমান ছড়াটি জল্লারপাড় ছড়ায় এসে সংযুক্ত হয়েছে এবং পরর্তীতে জল্লারপাড় ছড়াটি তালতলাতে গিয়ে বলরামের খালের সাথে সংযুক্ত হয়ে সুরমা নদীতে মিশেছে।
আপনার মন্তব্য