বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

০৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:০৭

সিলেট-২: মুহিবসহ মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা এখন ঢাকায়

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিভিন্ন দল থেকে ১২জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু ৯ জনের প্রার্থীতা বহাল থাকলেও (২ ডিসেম্বর) রোববার বাছাইপর্বে বাদ পড়েন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরের এক সময়ের জনপ্রিয় ও আলোচিত আ’লীগ নেতা দুই দুইবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমানসহ তিনজন। বাকি দু’জনের একজন হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডক্টর এনামুল হক সরদার। তিনি ইমরান আহমদ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এবং আ’লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এছাড়া তিনি সাবেক এমপি ও সিলেট জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলয়ের নেতা হিসেবেও এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।

অপরজন ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাজ্যস্থ বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুর রব মল্লিক। তবে, বাছাইপর্বে টিকতে না পারলেও মনোনয়ন ঠেকাতে আ’লীগ নেতা মুহিবুর রহমান ও এনামুল হক সরদার ঢাকায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে বিএনপির আব্দুর রব মল্লিক লন্ডনে থাকায় তার পিএস রুবেল আহমদও ঢাকায় রয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে লন্ডন থেকে বিএনপির আব্দুর রব মল্লিকও ঢাকায় পৌছার কথা জানিয়েছেন।
 
জানা গেছে, ২০০৮ সালে মুহিবুর রহমান আ’লীগের মনোনয়ন পাওয়ার কথা থাকলেও মনোনয়ন পান তৎকালীন যুক্তরাজ্য আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি দলীয় হেভিওয়েট প্রার্থী নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন শফিক চৌধুরী। এর আগে প্রার্থীতা নিয়ে শুরু হওয়া দ্বন্ধে শফিক চৌধুরী ও মুহিবুর রহমান বলয়ের নেতাকর্মীরাও দু’পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েন।

এরপর ২০১৪ সালে একইভাবে শফিক চৌধুরী ও মুহিবুর রহমান আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন চান। কিন্তু তাদের বাদ দিয়ে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ইয়াহইয়া চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। শফিক চৌধুরী মহাজোটের ইয়াহইয়া চৌধুরীর পক্ষে অবস্থান নিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন মুহিবুর রহমান। ওই বছরের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে মুহিবুর রহমানকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন এহিয়া চৌধুরী। ২০১৮ সালের নির্বাচনে মুহিবুর রহমান মনোনয়ন না চাইলেও শফিক চৌধুরীর সঙ্গে পাল্লাদিতে মনোনয়ন চান যুক্তরাজ্য আ’লীগের বর্তমান যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। আর আনোয়ারুজ্জামানকে সহযোগিতার জন্যে দেশে ফিরে নৌকার পক্ষে প্রচারণায় নামেন মুহিব। কিন্তু এবারও শফিক চৌধুরী ও আনোয়ার চৌধুরীকে বাদ দিয়ে মহাজোটের শরিকদল জাপাকে এ আসনটি দেওয়া হয়। ফলে হঠাৎ করেই বারবার আ’লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মুহিবুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন। কিন্তু বাছাইপর্বে এক শতাংশ ভোটারের সাক্ষরের সত্যতা যাচাইকে মিথ্যা দেখিয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

একইভাবে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিক চৌধুরী বলয়ের নেতা ডক্টর এনামুল হক সরদারের মনোনয়নও বাদ দেওয়া হয়। ফলে মনোনয়ন বৈধ করতে একটি বেসরকারি বিমানে সোমবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার ফ্লাইটে সিলেট থেকে এনাম সরদার ঢাকায় পৌঁছান। আর ওইদিন রাতে সড়ক পথে মুহিবুর রহমানও ঢাকায় পৌঁছান। অন্যদিকে পিএসকে আগে পাঠালেও আজ মঙ্গলবার বিএনপি নেতা আব্দুর রব মল্লিকও ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে।

ডক্টর এনামুল হক সরদার এ প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য করতে রাজী না হলেও মুহিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তাই সোমবার রাতে ঢাকায় পৌঁছে মঙ্গলবার সকালে নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনি আপিল করেছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত