০৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৯:৩০
দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত সংগঠন ‘স্বপ্ন ফেরিওয়ালা’ এর উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্থাপন করা হয়েছে ‘মানবতার দেয়াল’। কমলগঞ্জের উপজেলা চৌমুনীতে এ দেয়ালটি স্থাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে মানবতার দেয়ালের কাছে গেলে দেখা যায়, অনেকগুলো কাপড় সেখানে ঝুলানো রয়েছে। নিচে রয়েছে আরো অনেক কাপড়-চোপর। এ সময় দেখা যায় কয়েকজন শীতার্ত মানুষ সেখান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় কাপড় সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন।
কাপড় সংগ্রহ করতে আসা রিকশাচালক জব্বার মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘আমরা দিনদু:খি মানুষ শীত আইলে অনেক কষ্ট করি থাকা লাগে। রিক্সা চালাইয়া যে টেকা পাই, মালিকের ভাড়া দিয়া যে টেকা থাকে তা দিয়া কোনোমন্তে সংসার চালাইলাই। ৬ জনর সংসারও আমি একলা রোজগারী। ৪ পুরী (মেয়ে) স্কুলে পড়ে তাদের পড়ালেখার পয়সাও জোগানী লাগে। শীতও ভালা গরম কাপড় কিনতাম পারি না। মাইনষে কইল ওউ ওয়াল থাকি টেকা ছাড়া কাপড় নেয়া যায়। কাপড় দেখিয়া ২টা কাপড় আমি অন থাকি লইছি একটা আমার লাগি, আর একটা আমার ছোট পুরীর লাগি। যে মানুষগুনতে আমরার লাখান মানুষর লাগি কাপড়র এ ব্যবস্থা করছইন তারারে উপরওয়ালায় দোয়া করবা।’
‘মানবতার দেয়াল’ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বপ্ন ফেরিওয়ালা’র সভাপতি শাহিনুর রহমান দিপু সমাজের বিত্তবান সচ্ছল মানুষের প্রতি মানবিক আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজের হতদরিদ্র অবহেলিত মানুষের জন্য কিছু করতেই সংগঠনের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমরা আশা করি সমাজের বৃত্তবান মানুষেরা তাদের অপ্রয়োজনীয় জামাকাপড় এ সব দেয়ালে রেখে যাবেন।
স্বপ্ন ফেরিওয়ালা’র সিনিয়র সহ-সভাপতি সংবাদকর্মী সজীব দেবরায় বলেন, সমাজের অসহায় অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ থেকে আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ‘মানবতার দেয়াল’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। প্রাথমিক অবস্থায় উপজেলা চৌমুনীতে একটা দেয়াল আমরা স্থাপন করেছি, অচিরেই আরো কয়েকটি স্থানে এসব দেয়াল স্থাপন করা হবে। আমরা আশা করি এসব দেয়ালে রাখা কাপড় অসহায় শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাগব করতে সাহায্য করবে।
স্বপ্ন ফেরিওয়ালা’র সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকিন আহমেদ তুহিন বলেন, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহারের অতিরিক্ত এবং অপ্রয়োজনীয় কিন্তু ব্যবহারযোগ্য অনেক পোশাক আমাদের ঘরে অকারণে এবং অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। এই পোশাকগুলো যদি এখানে জমা দেয়া হয় তাহলে শীতার্ত মানুষ উপকৃত হতে পারে। আমরা উপজেলা চৌমুনাতে একটা দেয়াল স্থাপন করেছি, কয়েকদিনের মধ্যে উপজেলার আরো কয়েকটি জায়গায় আমরা এসব দেয়াল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি।
আপনার মন্তব্য