হৃদয় দাশ শুভ, শ্রীমঙ্গল

২১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২২:৪৬

সহায়-সম্বলহীন পরিবারের পাশে আব্দুস শহীদ

আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে যখন দলের সবাই ব্যস্ত প্রচার প্রচারণায় তখনই হঠাট করে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ড. মো. আব্দুস শহীদের চোখ আটকে যায় একটি ঝুপড়ি ঘড়ের দিকে। তখনই তিনি জানতে পারেন সেখানে বসবাস করেন সহায় সম্বলহীন একটি পরিবার। পরিবারটি পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট। তাদের পাঁচজনেই নারী।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) মৌলভীবাজার-৪ নির্বাচনী এলাকার শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশীদ্রোণ ইউনিয়নের হরিনাকান্দি গ্রামে।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবেই আওয়ামী লীগের এ সংসদ সদস্য প্রার্থী এ গ্রামে গিয়েছিলেন দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে। গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইছিলেন। এলাকার অধিবাসীরা যে যার মতো আপ্যায়ন করেছেন এ প্রার্থীকে। সেখানে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা প্রণব পালের দুপুরের খাবারও খান। মধ্যান্নভোজের পর যখন জনসংযোগের জন্য পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন ঠিক তখনই প্রণব পালের বাড়ির উঠোনে হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন ড. মো. আব্দুস শহীদ।

একটি ঝুপড়ি ঘরের দিকে বার বার তাকাচ্ছিলেন এ প্রার্থী। ঠিক তখনই কে যেন এসে তাকে অবহিত করলেন, এই ঝুপড়ি ঘরেই আশ্রিতা হয়ে অবিবাহিত পাঁচটি মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন বিধবা সুমি পাল। তাদের নেই কোন বাস্তুভিটা, নেই কোন থাকার কোন নিজস্ব ঘর। বৃদ্ধ স্বামী প্রাণেশ পাল শ্রীমঙ্গল শহরে ফেরী করে চিড়া মুড়ির লাড়ু বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করতেন। এক মাসও হয়নি বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগে মৃত্যুবরণ করেছেন প্রাণেশ পাল। অনিশ্চিত ও অনিরাপদ ভবিষ্যৎ যখন মোটামুটি ধরে নিয়েছিলেন পরিবারের সবাই ঠিক তখনই নিভে যাওয়া স্বপ্ন আবারো নতুন করে দেখার অবকাশ পেলো সহায় সম্বলহীন পরিবারটি ।

এসময় স্থানীয় এ সাংসদ পরিবারটির সাথে আলাপ করে তাদের অভয় দিলেন।  আর তৎক্ষণাৎ সাথে থাকা নেতা কর্মীদেরকে ডেকে নিয়ে আলাপ করলেন কিভাবে এ পরিবারটিকে সমাজে পুনর্বাসন করা যায়। কেউ বললেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের কথা, কেউবা বললেন সেলাই মেশিন প্রদানের বিষয়টি।

কিন্তু আব্দুস শহীদ চাইছিলেন এ পরিবারটির জন্য স্থায়ীভাবে কিছু করে দিতে। তিনি চাইছিলেন, পরিবারটির সদস্যরা সবাই সম্মান নিয়ে সমাজে যাতে বসবাস করতে পারে। যেহেতু নিজের জমি নেই তাই ঘর করে দেওয়াও সম্ভবপর নয়, তাই ড. মো. শহীদ তৎক্ষণাৎ দলের নেতা কর্মীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান যাতে করে এ পরিবারটিকে ১০ থেকে ১৫ শতক ভূমি ক্রয় করে দলিল করে দেওয়া যায়।

তাৎক্ষণিক নেতা কর্মীরাও যে যার যার মতো পাঁচ হাজার, দশ হাজার, বিশ হাজার টাকা প্রদানের অঙ্গীকার করেন। মুহূর্তেই কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জহির আহমেদ লিমন ও স্থানীয় নেতা বদরুল আলম শিপলু এবং স্থানীয় কয়েকজন অধিবাসী পঁচিশ হাজার টাকা প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে ৬নং আশীদ্রোণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রনেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন জানান, "আমরা ভূমি ক্রয়ের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় ধরেছি। তাংক্ষণিকভাবে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের অঙ্গিকার মোতাবেক ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বন্দবস্তও হয়ে গেছে। যা আগামী ২৫ শে ডিসেম্বরের মধ্যে সবাই জমা দেবেন বলে অঙ্গিকার করেছেন। এ ব্যাপারে আমাদের নেতা ড. মো. আব্দুস শহীদ নির্দেশ দিয়েছেন যদি সম্ভবপর হয় তাহলে আগামী নির্বাচনের পূর্বেই যেন এদের জায়গা জমির ক্রয়ের ব্যাপারটি শেষ করা হয় এবং তিনিও এ পরিবারটির আর্থিক সাহায্যে ব্যক্তিগতভাবে এগিয়ে আসবেন। এছাড়াও, আগামী তিন মাসের মধ্যে সরকারীভাবে তাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ, সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও নির্দেশনা প্রদান করেন। তাছাড়া, ভবিষ্যতে আত্মকর্মসংস্থানের নিমিত্তে পরিবারের কমপক্ষে একজন সদস্যকে আত্মনির্ভরশীল করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।"

শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজু দেব রিটন বলেন, "সম্মিলিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ পরিবারের এই পদক্ষেপটি মানবসেবার একটি অপূর্ব দৃষ্টান্ত। অসহায়কে আশার আলো ও নিরাপদ জীবন তৈরি করে দেওয়ার যে চ্যালেঞ্জটুকু সংসদ সদস্য ড. মো. আব্দুস শহীদ গ্রহণ করেছেন তা এক কথায় অসাধারণ। এটা আওয়ামী লীগ সরকারের মানবিকতা ও সামাজিক উন্নয়নের একটি অনন্য মডেল।"

পরিবারটির গৃহকর্ত্রী সীমা রাণী পাল সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, "এ যেন হাতে আকাশের চাঁদ পাওয়া। আসলেন সবাই ভোট চাইতে, কিন্তু আমার পরিবারের জন্য যা করার মনোবাসনা করেছেন তাতে আমি হতবিহব্বল হয়ে পড়েছি। শেখ হাসিনার মফস্বলের একডজন কর্মীরাই যদি মানুষের জীবনকে এভাবে দশ মিনিটে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটিয়ে দিতে পারে, জীবনমানের অভাবিত উন্নয়ন করতে পারে, তাহলে শেখ হাসিনার সরকার যে আমার মতো আরো অসহায় মানুষের জীবনমানের ও ভাগ্যের এভাবে আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারবে সেটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।"

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার- ৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড.মো. আব্দুস শহীদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, "শেখ হাসিনার সরকার ও দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সকল মানুষের ভাগ্যন্নোয়নে সারাদেশব্যাপী কাজ করছেন। আমরা সুযোগ পেলেই এরকম কাজ প্রতিনিয়ত করে থাকি। আমরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ সব সময়ই মানুষের পাশে আছি, থাকব।"

আপনার মন্তব্য

আলোচিত