২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৮:৩৭
কাজির বাজার ব্রিজের নিচে পিলারের মধ্যে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরে থাকা সেই মোটর সাইকেলটির মালিকের পরিচয় মিলেছে। তবে পরিচয় মিললেও গাড়ির মালিকের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। সিলেট হ-১১-৮৪-৭৯ নাম্বারের হিরো ফ্যাশন প্লাস মটর সাইকেলটি গত ২০দিন যাবত কাজির বাজার ব্রিজের নিচে পিলারের মধ্যে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরে আছে।
সিলেট বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, সিলেট হ-১১-৮৪-৭৯ নাম্বারের মটর সাইকেলটি আমিনুর রহমান নামে একজনের নামে রেজিস্ট্রেশন করা। আমিনুর রহমান দক্ষিন সুরমা এলাকার লাওয়াই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। ১৮ বছর আগে এই গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে বলে জানান বিআরটিএ কতৃপক্ষ।
৫ ডিসেম্বর কাজির বাজার ব্রিজের নিচে পিলারের মধ্যে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সেদিন থেকেই স্থানীয় ও কাজীর বাজার ব্রিজে সময় কাটাতে আসা মানুষজনের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠে এই মোটর সাইকেল। অনেকেই মনে করছেন ছিনতাইকরীরা এই কাজ করছে। কেউ মনে করছেন পরিকল্পিত ভাবে কাউকে হত্যা করে মটর সাইকেলটি ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই পরিত্যক্ত মটর সাইকেলের পিছনে বড় ধরনের কোনো অপরাধ রয়েছে বলেও মনের করেন ওই এলাকার মানুষজন।
২০ দিন পেরিয়ে গেলেও মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করেনি সংশ্লিষ্ট কেউ। পুলিশ বলছে, নদীতে পানি কম থাকায় যে জায়গায় মোটর সাইকেলটি পড়ে আছে সেখান থেকে উদ্ধার করা দুঃসাধ্য ব্যপার।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্ধা বলেন, অনেক দিন ধরে মটর সাইকেলটি এখানে পড়ে আছে। যেদিন মোটর সাইকেলটি এখানে পরে থাকতে দেখা যায় সেদিন পুলিশ, সাংবাদিক, ফায়ার সার্বিসের লোকজনও এটি এসে দেখে যায়। ছবি তুলে নিয়ে যায় কিন্তু এখনো মোটর সাইকেলটি কেউ উদ্ধার করেনি। তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, এই এলাকা ছিনতাইকারীদের অভ্যারন্য হয়ে গেছে। প্রায় প্রতিদিনই এই ব্রিজে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সকালে মহিলারা যখন হাঁটতে আসেন তখনও ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। এই ব্রীজ এলাকায় পুলিশ প্রশাসনের আরও নজরদারী বাড়ানো দাবী জানা তাঁরা।
সিলেট কোতোয়ালি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, মটর সাইকেলটি যেখানে পড়ে আছে সেখান থেকে উদ্ধার করা অসম্ভব। ফায়ার সার্বিসের লোকজনও ওই জায়গা পরিদর্শন করে এসে অপারগতা জানিয়েছে। তাছাড়া কোনো অভিযোগও নেই। কেউ যদি কোনো অভিযোগ করেন বা মটর সাইকেলের মালিক যদি অভিযোগ করেন তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিব।
তবে এবিষয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি সার্ভিস) মো. জেদান আল মুসা। তিনি বলেন, পরিত্যক্ত অবস্থায় কোনো গাড়ি থাকলে সেটা উদ্ধার করে মালিকের হাতে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এসব ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগের প্রয়োজন হয় না। মোটর সাইকেলটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হবে।
আপনার মন্তব্য