মিনহাজ উদ্দিন, গোয়াইনঘাট

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৯:০৪

ইমরানকে নিয়ে উজ্জীবিত আ. লীগ, সেলিমের ভরসা নীরব ভোট

সিলেট-৪

৩ দিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সীমান্ত জনপদখ্যাত ২৩২ সিলেট ৪ সংসদীয় আসনের ৩টি উপজেলার ২১ ইউনিয়নের মোট ৩ লক্ষ ৫৮ হাজার ৪ শত ৭৯ জন ভোটার এবারের নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনের সর্বত্রই এখন বইছে ভোটের হাওয়া। কে হচ্ছেন সিলেট-৪ আসনের আগামী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি? এ নিয়ে চলছে জল্পনাকল্পনা।

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সাংসদ ইমরান আহমদ নাকি বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিম রয়েছেন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। আওয়ামী লীগ চায় আসনটিতে তাদের অবস্থান বহাল রাখতে, আর বিএনপি চায় আসনটি উদ্ধার করে আবারো তাদের ঘরে ফসল তুলতে। এই সমীকরণকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের চলছে প্রচার প্রচারণা। এ আসনের দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে দেশি ও প্রবাসী নেতাকর্মীর পাশাপাশি দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর সহধর্মীনীরাও গণসংযোগ প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, প্রচার প্রচারণায় আওয়ামী লীগ বিএনপিরসহ সবকটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা একাট্টা হয়েই কাজ করছেন নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে।

প্রচার প্রচারণায় মঞ্চ থেকে সমান তালে তীর ছুড়া হচ্ছে প্রতিপক্ষ শিবিরে। আওয়ামী লীগের সমাবেশ থেকে দিলদার সেলিমের শারীরিক অসুস্থতা আর দীর্ঘদিন থেকে এ আসনে জনবিচ্ছিনতার সমালোচনা করা হচ্ছে। অপর দিকে বিগত দশ বছর কোন উন্নয়নই হয়নি বলে অভিযোগ করা হচ্ছে বিএনপির বিভিন্ন সমাবেশ থেকে। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী বর্তমান  সাংসদ ইমরান আহমদকে নৌকা প্রতিকে বিজয়ী করতে এ আসনের ৩টি উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রবাসীরাও মাঠে একাট্টা হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিমের হয়ে গোয়াইনঘাটের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরীসহ সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্বে পুরো আসন জুড়ে চলছে বিএনপির নির্বাচনকালীন প্রতিদিনের সভা সমাবেশ।

সিলেট-৪ আসনে বর্তমান সরকারের বাস্তবায়িত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে ইমরান আহমদকে নিয়ে অনেকটাই সস্তিতে রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। জনগণের স্বার্থে মেঘা উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের বাস্তবায়ন করে ভোটারদের মন জয় করে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সাংসদ ইমরান আহমদ বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদী তারা।  

অপর দিকে বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ দিলদার হোসেন সেলিম অনুসারীদের আশাবাদ নীরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে বিজয়ী হওয়ার। এই আসনের বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার আতংকে দিন কাটছে। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন উপজেলায় বিএনপির কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ দলটির নেতাকর্মীদের।

গোয়াইনঘাট বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন জানান, আজকের আধুনিক গোয়াইনঘাট বিনির্মাণে যাকে ভুলা যাবেনা তিনি হলেন বর্তমান সাংসদ ইমরান আহমদ। শিক্ষা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ অবকাঠামোগতসহ এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে তিনি এই দশ বছর উন্নয়ন করেননি। আমি মনে করি জনগণও তার কাজের মূল্যায়ন করতে ভুলবেন না।

কোম্পানিগঞ্জের ভোলাগঞ্জ এলাকার রমজান আলী নামের একজন পাইপ ফিটিংসের মিস্ত্রি জানান, আমি বিএনপির প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। জনগণ এবার বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবে বলে আমি মনে করি।  

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা হলে গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইব্রাহিম জানান, সিলেট-৪ আসন জুড়ে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। তাই আমরা বিজয়ের ব্যাপারে কোন শঙ্কিত নই। আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুত এ আসনের প্রায় সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এখন দৃশ্যমান। আর জনগণতো এখন সচেতন, তারা জানে কাকে ভোট দিলে উন্নয়ন হয়। এ অঞ্চলের অসমাপ্ত উন্নয়ন বাস্তবায়নে ইনশাল্লাহ ৩০ ডিসেম্বর জনগণই সিলেট-৪ আসনে নৌকার কাণ্ডারি ইমরান আহমদকে আবারো বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।

কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহাব উদ্দিন জানান, ইতিপূর্বে আমাদের প্রার্থীর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ কর্মীরা গ্রেপ্তার আতংকে শঙ্কিত হয়ে বাড়ি ছাড়া।

গোয়াইনঘাটের নন্দিরগাওয়ের বাসিন্দা যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা গোলাপ মিয়া জানান, নির্বাচনের জন্য দেশে এসেছি উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রতীক নৌকার হয়ে কাজ করতে। আমি আশাবাদী আমাদের ক্যাম্পেইনে কোন ত্রুটি নেই। জনগণ ভোটাররাও আমাদের সাথে আছেন। ইনশাল্লাহ আসন্ন ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের দলীয় মনোনীত প্রার্থী ইমরান আহমদ নৌকা প্রতিকে বিজয়ী হয়েই হাসবেন শেষ হাসি। তখনই আমরা আত্মতৃপ্তি নিয়ে পাড়ি জমাবো সুদূর প্রবাসে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট শাহজাহান সিদ্দিকী জানান, আমরা আশাবাদী। ফেয়ার ইলেকশন হলে এই আসনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট উৎসব হবে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ইমরান আহমদ এমপি জানান, আমি যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা করে দিয়েছি। জাফলং ব্রিজ, হাইটেক পার্ক, সিলেট-কোম্পানিগঞ্জ জাতীয় সড়ক, সিলেট-তামাবিল মহাসড়ককে ফোরলেনে নিয়ে গিয়ে প্রকল্পের কাজের সূচনা, বিদ্যুৎসহ সর্ব ক্ষেত্রে যা করেছি তা দৃশ্যমান রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনেও জনগণ উন্নয়নের প্রতীক নৌকায় ভোট দিবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

অপরদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক সাংসদ দিলদার হোসেন সেলিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণতন্ত্রের মুক্তির নির্বাচন। নির্বাচনের সুষ্টু পরিবেশ বহাল থাকলে এ নির্বাচনে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে আবারো আমাকে নির্বাচিত করবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত