রিপন দে, মৌলভীবাজার

২৪ মার্চ, ২০১৯ ১৯:০৮

‘আমারে আর কে মা ডাকবো?’

বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে ছিলেন ওয়াসিম আফনান। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীর সাথে তিনি ঢাকা থাকেন। ফলে ওয়াসিমই ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র অবলম্বন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তাই পাগলপ্রায় মো. আবু জাহেদ মাহবুব ও মীনা পারভিন দম্পত্তি।

রোববার হবিগঞ্জে নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের রুদ্র গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বিলাপ করছেন ওয়াসিমের মা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীলা পারভীন। ছেলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরলেই আবার আবার বিলাপ করে ওঠছেন- “আমারে কে মা ডাকবে আর, ও ওয়াসিম... আমাকে আর কে মা ডাকবে বাবা”। কিছুক্ষণ বিলাপ করার পর আবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।

‘মা, আরও ১৫টা দিন। আমার থিসিস (গবেষণাপত্র) বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিয়েই বাড়িতে ফিরব, আর তোমার হাতের মজার মজার রান্না খাব। হোস্টেলের খাবার আর ভালো লাগে না।’

এই ছিল ওয়াসিমের শেষ কথা। ছেলের লাশের পাশে কাঁদতে কাঁদতে এই কথাগুলো বলছিলেন মিনা।

সন্তান হারা মাকে স্বান্তনা দিতে পারছে না কেউ। সবার চোখেই জল। পুরো বাড়িজুড়ে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশ।

ওয়াসিমের বাবা আবু জায়েদ মাহবুব (৬০) কান্না জড়িত চোখে তাকিয়ে আছেন ওয়াসিমের সহপাঠীদের দিকে। চোখ দিয়ে পানি ঝরছে অবিরত। প্রতিবেশী আত্মীস্বজন সহপাঠি কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।

শোকের মাতম চলছে পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যেও। পুরো এলাকাজুড়েই রোববার এই একই আলোচনা- ওয়াসিমের মৃত্যু। কেউ মেনে নিতে পারছে না এমন ঘটনা।

নিহত ওয়াসিমের চাচা মফিজুর রহমান টিপু বলেন, আমাদের সবার আদরের সন্তানটি চলে গেছে নির্মম ভাবে। মামলা করে আর কি করব? আমাদের ক্ষতিপূরণ দরকার নেই। আমাদের ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না।

শনিবার সন্ধ্যা সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুরে বাসচাপায় নিহত হন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র ওয়াসিম আফনান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভাড়া নিয়ে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে বাসের হেল্পার চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ওয়াসিমকে হত্যা করে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত