কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

২৫ মার্চ, ২০১৯ ১৬:০৪

কমলগঞ্জে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার অটোরিক্সার আঘাতে কলেজ ছাত্র নিহত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় সিএনজি অটোরিক্সার আঘাতে সুমন মিয়া (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যুতে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১০টায় উপজেলা চৌমুহনা চত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে।

বিক্ষোভ সমাবেশ শিক্ষার্থীরা সুমনের হত্যাকারী সিএনজি চালকের ফাঁসি ও নিরাপদ সড়কের দাবি করেন। সমাবেশ থেকে বক্তারা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সুমনের ঘাতককে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

এ ঘটনায় নিহত সুমনের বাবা বাবুল মিয়া বাদী হয়ে রোববার রাতে কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনা এলাকায় চতুর্দিকের রাস্তায় শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।

বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থী রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন নিহত সুমনের সহপাঠী জাফর সাদেক জামি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক গোলাম রব্বানী তৈমুর, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাকের আলী সজিব, ছাত্রলীগ নেতা মিনহাজ নাসির, হামিম মাহমুদ, সুমন আহমেদ, হাসান আহমদ প্রমুখ।

এ সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাশ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোমিন তরফদার, সাংবাদিক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, সাংবাদিক সুব্রত দেবরায় সঞ্জয়, সাংবাদিক সাজিদুর রহমান, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক শাব্বির এলাহী, সমাজসেবক রাসেল হাসান বক্ত, ব্যবসায়ী আনহার আলী প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সড়কে একটি গাড়ি আরেকটি গাড়ির সাথে প্রতিযোগিতা করে চলছে। যার ফলে প্রায় সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। সড়কে দুর্ঘটনায় যারা নিহত হয়েছে তাদের সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়। এসময় তারা অভিযুক্ত সিএনজি চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফুর রহমান মামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার পর থেকে চালক পলাতক রয়েছে। তবে সিএনজি অটোরিক্সাটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আনা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় আসামিকে গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, রোববার দুপুর ১২টায় কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কের চৌমুহনী এলাকায় পায়ে হেঁটে যাবার সময় উপজেলা প্রশাসনের অদূরে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির সামনে একটি সিএনজি অটোরিক্সা (মৌলভীবাজার-থ-১২৬৪৩০) পিছন থেকে সুমনকে প্রচন্ডভাবে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে সেখান হতে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। তার অবস্থার অবনতি হলে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেণজ হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথে আহত সুমনের মৃত্যু হয়। নিহত সুমন মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের ৩য় বর্ষের মেধাবী ছাত্র এবং কমলগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিন কুমড়াকাপন গ্রামের বাবুল মিয়ার বড় ছেলে। সুমনের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত