২৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:৫৩
সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে নির্মাণ সামগ্রী রেখে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সড়কে নির্মাণ সামগ্রী না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না। খোদ সিটি কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেই সড়কে নির্মাণ সামগ্রী রেখে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনের কাজ করানোর অভিযোগ ওঠেছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কাজ করছেন নাগরিকরা। এসব অনেকগুলোর নির্মাণ সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে সড়কের উপর। ফলে ওইসব সড়ক দিয়ে চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। নির্মাণ সামগ্রীর কারণে সড়ক সরু হয়ে আসার দীর্ঘ যানজটও দেখা দিচ্ছে।
সরজমিনে দেখা যায়, নগরের ব্যস্ততম এলাকা মির্জাজাঙ্গলে কয়েকটি ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এগুলোর নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে জিন্দাবাজার-জল্লারপাড় সড়ক ও ফুটপাতের উপর। নির্মাণ সামগ্রীর কারণে ফুটপাত ও সড়কের একাংশ দখল হয়ে গেছে। যার ফলে পথচারী, এই সড়ক ব্যবহারকারী ও এলাকার মানুষজনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মির্জাজাঙ্গল এলাকায় ভবন নির্মাণ করছেন সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত সনতু। তিনিই নিজের ভবনের নির্মাণ সামগ্রী রেখেছেন সড়কের উপর।শুধু এই এলাকায় নয়, নগরের বাগবাড়ি, সুবিদবাজার, নয়াসড়ক, মদিনা মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় এভাবেই সড়ক দখল করে নির্মাণ সামগ্রী রাখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
মির্জাজাঙ্গল এলাকায় ভবন নির্মাণের সত্যতা স্বীকার করে কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত সনতু বলেন, এভাবে রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী রেখে জনগণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা ঠিক না। কিন্তু জায়গার অভাবে রাখতে হচ্ছে। আমি লজ্জিত জনগণকে এই দুর্ভোগে ফেলার জন্য। আমি মনে করি আমার মত যারা ভুক্তভোগী আছেন তারা বুঝবেন এবং আমাকে ক্ষমা করবেন।
সড়কের ওপর ফেলে রাখা এসব নির্মাণ সামগ্রীর জন্য নগরের সড়কগুলো সংকুচিত হয়ে উঠছে। যার ফলে প্রতিদিনই যানজট ও ছোটখাটো দুর্ঘটনা শিকার হচ্ছেন নগরবাসী।
সড়ক দখল করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে গত বছর অভিযানে নেমে ছিলেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তখন কয়েকজন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীকে অর্থদণ্ডও করা হয় সিসিকের পক্ষ থেকে।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিদায়ক রায় চৌধুরী বলেন, আমরা সিসিকের পক্ষ থেকে সব সময় বলি সড়কে নির্মাণ সামগ্রী না রাখার জন্য। এই কাজটা নাগরিক দায়িত্বের মধ্যেও পরে। নাগরিকরা সহায়তা না করলে সিটি করপোরেশন আর কতটুকু করতে পারবে।
তিনি বলেন, বাড়ি বানাবো আর রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী রাখবো, এটা আমাদের সংস্কৃতি হয়ে গেছে। এসব ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা ছাড়া করার কিছু নেই। আমার সুনির্দিষ্ট কেনো অভিযোগ পেলে অবশ্যই সেটা আমলে নেই। তবে এসব বিষয়ে জনগণের সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ প্রয়োজন।
আপনার মন্তব্য