০১ মে, ২০১৯ ১৭:১৪
আবু সিনা ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহৃত সিলেটের দেড়শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী ভবনকে প্রত্নত্বাত্তিক অধিদপ্তরের তালিকাভূক্ত করে সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য গণস্বাক্ষর গ্রহণ কর্মসুচি হাতে নিয়ে সিলেটের ঐতিহ্য রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ নাগরিক সমাজ । আগামী ২ মে বৃহস্পতিবার এই কর্মসুচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
মঙ্গলবার রাতে নগরীর চৌহাট্টা এলাকার একটি রেস্তোরাঁর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাজের সভা থেকে নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ২ মে বৃহস্পতিবার বেলা ৫টায় সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসুচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।
গণতন্ত্রী পার্টির সিলেট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফ মিয়া'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের সভাপতি কমরেড ধীরেন সিংহ, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জাকির আহমদ, ওয়াকার্স পার্টির কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরোর সদস্য সিকান্দর আলী, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা আহবায়ক উজ্জ্বল রায়, বাসদ সমন্বয়ক আব জাফর, নাগরিক মৈত্রী সিলেটের সমন্বয়ক সমর বিজয় সী শেখর, সিপিবি জেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সদস্য এডভোকেট হুমায়ুন রশীদ সুয়েব, বাসদের জুবায়ের আহমদ চৌধুরী ও প্রণবজ্যোতি পাল, সিপিবি'র যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল হাসান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা প্রায় দেড়শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনা নিয়ে চলমান দেড় মাসেও আন্দোলন ও গণমাধ্যমে ভবনটি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরেও প্রত্নত্বাত্তিক অধিদপ্তরের নির্লিপ্ততায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের গবেষণাপত্রে ভবনটির প্রাচীনত্ব ও নির্মানশৈলী নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও এই ধরনের ভবনগুলো খুঁজে বেড় করা ও তালিকাভুক্ত করা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সিলেটের জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু এই ভবনটি রক্ষায় সিলেট ও ঢাকাতে একাধিক কর্মসুচি পালন করা সত্বেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সিলেটের জেলা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা দুঃখজনক।
এ অবস্থায় ভবনটিকে অবিলম্বে দেশের ঐতিহ্যবাহী ভবনের স্বীকৃতি প্রদান করে প্রত্নতাত্ত্বিক তালিকাভুক্ত করার দাবিতে সিলেটের সর্বস্তরের মানুষের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হবে। এই কর্মসুচিতে একাত্বতা প্রকাশ করে বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, পেশাজীবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের গণস্বাক্ষর দেয়ার আহবান জানানো হয়। আগামী ২রা মে এই কর্মসুচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
আপনার মন্তব্য