COVID-19
CORONAVIRUS
OUTBREAK

Bangladesh

Worldwide

48

Confirmed Cases,
Bangladesh

05

Deaths in
Bangladesh

15

Total
Recovered

658,205

Worldwide
Cases

30,442

Deaths
Worldwide

141,419

Total
Recovered

Source : IEDCR

Source : worldometers.info

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

১১ জুন, ২০১৯ ১৮:৩৮

জাফলংয়ে গাছ চুরি অভিযোগে বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

সিলেটের গোয়াইনঘাটে জাফলং ইউনিয়নের চৈলাখেল মৌজার ২য় খণ্ড থেকে ৯ম খণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় রূপায়িত গাছপালা লুট করে পরিবেশ নষ্ট করার দায়ে জাফলং বিট কর্মকর্তা আব্দুল খালিকসহ ৩জনের নাম উল্লেখ করে আরও গং আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা নং-২৭৬,তারিখ-০৮/০৬/২০১৯ ইং।

শনিবার (৮ জুন) মোহাজের জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় মোহাজের প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন উক্ত ভূমি ১৯৫১ সালে ভারত প্রত্যাগত মোহাজের জনগোষ্ঠীর ভোগ দখলীয়। এসব ভূমিতে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা আব্দুল খালিক, তার নিযুক্ত দালাল মুজিবুর রহমান, জুবায়ের আহমদ ঠান্ডাসহ গং ব্যক্তিবর্গ বল পূর্বক এবং রাতের আধারে গাছপালা, পাহাড় কেটে  কয়লা ও পাথরের ডাম্পিং ইয়ার্ড তৈরি করে অবৈধ রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। মোহাজের জনগোষ্ঠীর তরফ থেকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। উক্ত এলাকার ভূমি মোহাজেরদের বৈধ এবং ভোগ দখলীয় সম্পত্তি।

মোহাজেরদের জন্য অধিগ্রহণকৃত এবং গেজেটভুক্ত ভূমির আংশিক ভূমি বন বিভাগের নামে গেজেটভুক্ত হওয়ায় এ ব্যাপারে মোহাজের গং হাইকোটে রিট পিটিশন (মামলা নং-২৯১৩/১৪)করে। হাইকোর্ট থেকে গত ১০/০৪/২০১৭ ইং মোহাজেরদের কার্যক্রম ব্যতীত উক্ত এলাকার ভূমিতে বন বিভাগসহ সকল দপ্তরের কার্যক্রম মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকিবে মর্মে আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু উচ্চ আদালতের এসব আদেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন থেকে বন বিট কর্মকর্তা আব্দুল খালিক, মুজিবুর রহমান, জুবায়ের হোসেন ঠান্ডাসহ সিন্ডিকেট চক্র অবৈধভাবে গাছপালা,পাহাড় কেটে সাবাড় করছে বলে অভিযোগ করেন মোহাজের প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম ।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয় সর্বশেষ গত ৭জুন রাতে উক্ত মৌজাধীন ৪র্থ খণ্ডে জে.এল.নং-১০৪,দাগ নং-১৭০,১৪৫ (যাহা মোহাজেরদের ভূমি বলিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোয়াইনঘাট হইতে ইতিপূর্বে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়) এ বিট কর্মকর্তা আব্দুল খালিকের নির্দেশে রূপায়িত গাছপালা ও পাহাড় কেটে বিনষ্ট করে চক্রটি। রাতের আধারে শত শত গাছপালা কেটে ৩নং বিবাদীর বাড়ীতে মজুদ করে রাখা হয়।

এ ব্যাপারে মোহাজের প্রতিনিধি ফরমান আলী বলেন, গাছপালা উজাড় করে বিক্রি করে  টাকা আত্মসাতে বিট কর্মকর্তা আব্দুল খালিকসহ তার নিযুক্তরা জড়িত। অথচ নিরীহ মোহাজেরদের নামে মিথ্যা মামলাসহ হয়রানি করা হচ্ছে দীর্ঘদিন যাবত। বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত হলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। ইতিপূর্বে আমরা এ ব্যাপারে একাধিক মামলা ও থানায় জি.ডি করেছি।

এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য ব্যবহৃত মোবাইলে বার বার ফোন করলেও বিট কর্মকর্তা আব্দুল খালিক রিসিভ করেননি।   

গোয়াইনঘাট থানার সেকেন্ড অফিসার ও জিডির তদন্ত কর্মকর্তা জুনেদ আহমেদ বলেন, এ ব্যাপারে জিডি হয়েছে। তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সিলেটের গোয়াইনঘাটে জাফলং বনায়নে বন বিভাগ এবং মোহাজের জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন যাবত পরস্পর মুখামুখি অবস্থান করছে। এই দুপক্ষের বিরোধের জেরে গাছপালা উজাড় করে লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাটও হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের চৈলাখেল মৌজার ২য় খণ্ড হতে ৯ম খণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ১৯৫১সালে ভারত প্রত্যাগত গেজেটমূলে মোহাজের জনগোষ্ঠীর লোকজন দাবি করে আসছেন। পাশাপাশি উক্ত এলাকায় সিলেট বন বিভাগের জাফলং বন বিভাগও জাফলংয়ের এই বৃহৎ অঞ্চল তাদের বলে দাবি করছে। এই ঘটনায় আদালতে পরস্পর একাধিক মামলা রয়েছে।


আপনার মন্তব্য

আলোচিত