নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:২২

বিনামূল্যে বাইক সেবাও পাবে শাবির ভর্তিচ্ছুরা

তরুণদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শনিবার। এবারের পরীক্ষায় প্রায় ৭০ হাজার ভর্তিচ্ছু অংশ নেবে। এই বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাগবে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে সিলেটের একদল তরুণ।

প্রতি বছরই শাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার সময় নগরীতে পরিবহন সঙ্কট দেখা দেয়। এই সঙ্কটকে পুঁজি করে ভাড়াও বাড়িয়ে দেয় একশ্রেণির চালকরা। ফলে দুর্ভোগে পড়েন পরীক্ষার্থীরা। এই দুর্ভোগ লাগবে এবার পরীক্ষার্থীদের বিনামূল্যে রাইড শেয়ারের ঘোষণা দিয়েছে মোটরসাইকেল চালকদের সংগঠন ‘সিলেট বাইকিং কমিউনিটি’ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বুস্টার’।

সংগঠনগুলোর সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটে গণপরিবহন না থাকায় পরীক্ষার্থীদেরকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার উপর নির্ভর করতে হয়। আর সেই সুযোগে অটোরিকশা চালকেরা ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় করে থাকে। এতে একদিকে যেমন সিলেটের সুনাম নষ্ট হয় অন্যদিকে ভোগান্তিতে পড়তে হয় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

উদ্যোক্তারা জানান, শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত পরীক্ষা কেন্দ্রে সুন্দরভাবে পৌঁছে দিতে স্বেচ্ছায়, বিনা পারিশ্রমিকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিলেটী বাইকাররা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হতে শিক্ষার্থীদের আশেপাশের কেন্দ্র সনাক্ত করে ও নিরাপদে পৌঁছে দিবে। তাই তারা শহরের ৯টি পয়েন্ট নির্বাচন করেছে এবং প্রত্যেকটি পয়েন্টে ১০-১৩টি বাইক থাকবে। যেখানে থাকবে তাদের স্বেচ্ছাসেবী ও প্রয়োজনীয় বাইকার্স।

যেকোনো প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবীদের নাম্বারে শুধুমাত্র পরীক্ষার দিন যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। তাছাড়া তাদের কন্ট্রোল রুমে আরও ১০ জন বাইকার থাকবে।

সিলেট বাইকিং কমিউনিটির সমন্বয়ক সাহিদ জামান বলেন, গত বছর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীরা যানবাহনের অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছিলেন। সে সময় অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন। ওই অভিজ্ঞতায় সংগঠনের পক্ষ থেকে এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার দিন সকাল সাতটা থেকে দুটি শিফটে সংগঠনের ১৫০টি মোটরসাইকেল আরোহীরা সিলেটে আসা পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে বিনা মূল্যে রাইড শেয়ার করবেন। পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা ‘সিলেট বাইকিং কমিউনিটি’ লেখা টিশার্ট ও মোটরসাইকেলে স্টিকার ব্যবহার করবেন। পুরো কার্যক্রম সম্পর্কে সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে।

বুস্টার সংগঠক সোয়েব আহমেদ ও ফজলে রাব্বি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সংগঠনটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে পৌঁছাতে বিলম্ব কিংবা বিড়ম্বনার শিকার যাতে না হন, সে জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও স্বেচ্ছাসেবীদের নাম ও নাম্বার: সুবিদবাজার পয়েন্টে স্বেচ্ছাসেবী সাগর আহমেদ ০১৭১০৫৬১৩৩৭, আব্দুল্লাহ আল মামুন ০১৭৪৫৯০৪৭৯১, চৌহাট্টা পয়েন্টে নুপুর দে- ০১৭৬৩৮০৩৯০০, পারভেজ- ০১৮৩৭৮৪৪১৭৯, মদিনা মার্কেট পয়েন্টে আফজাল নাঈম-০১৭৬৫৬৫৯০৯৩, পাণ্ডব ০১৭৩০০০৬০৩৬, বন্দরবাজার পয়েন্টে রাজিব কুমার রায় ০১৭১৮৫১৩৭৯৫, রশীদ- ০১৭১১৯১১০৩৮, জিতু মিয়ার পয়েন্ট ও কাজীরবাজার ব্রিজে অনুপম ০১৭৩৩৫০০৪২৬, নাইওরপুল পয়েন্টে সুব্রত হাজরা ০১৭২১৪২৩৫৮৭, এমাদ- ০১৭১৯৬৯৮০৩১, টিলাগড় পয়েন্টে জাহাঙ্গীর আলম ০১৭২৮৩৪২৯৭৫, প্রমথ ০১৭৩৯৭১৬৮৬০, আম্বরখানা পয়েন্টে আরিফ ০১৭২০১৪৬৩৩৭, নুরুল করিম ০১৭২৩৮৬৬০৪৯, রিকাবীবাজার পয়েন্টে সাইফুল ০১৭১২০১০১১০ এবং মুস্তাফিজুর রহমান ০১৭১৪৪০২৫২৪ এর সাথে যোগাযোগ করলেই শিক্ষার্থীরা পেয়ে যাবেন মোটর সাইকেল।

তাছাড়া এসবিসি’র ০১৭৩৪-০০৪৬৩৬, ০১৭১৭-০৯২৭৭৯, ০১৭১০-২১১২৭২ এবং ০১৭২৯৮৮১৬৩২ কন্ট্রোল রুমের নাম্বার সমূহে কল করে যেকোনো তথ্য জানতে পারবেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।

এদিকে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে ভর্তিচ্ছুদের সহায়তার জন্য বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য ২০টি বাস দেওয়া হয়েছে। ২০ টি বাসের মধ্যে ১০ টি বাস কদমতলী বাস টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে থাকবে। ৫ টি বাস রিকাবিবাজার পয়েন্টে, ১ টি করে বাস আম্বরখানা, জেলরোড, সোবহানীঘাট, শহীদ মিনার ও জিন্দাবাজার পানসী রেস্টুরেন্টের সামনে থাকবে।

এসব ছাড়াও ‘এসএও ফাউন্ডেশন’ থেকে সীমিত আকারে বাসস্থান ও যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংগঠনটি ভর্তি পরীক্ষায় আসা শিক্ষার্থীদের বাসস্থান ও যানবাহনসহ সার্বিক সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে।

এসব উদ্যোগের পাশাপাশি সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বাড়তি নজরদারি রাখবে বলে জানিয়েছেন এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) জ্যোতির্ময় সরকার। তিনি জানান, পেশাজীবী ও স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগ অবশ্যই অভিনন্দনযোগ্য। ট্রাফিক বিভাগও অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। ভর্তি পরীক্ষার দিন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করাকে সাংগঠনিকভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়। অটোরিকশা স্ট্যান্ডগুলোতে নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা টাঙানো হবে বলে পরিবহনশ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত