২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১৩:৩৪
সিলেটে ‘একশনএইড-প্রথম আলো বন্ধুসভা জাতীয় বিতর্ক উৎসব ২০১৯’-এর উদ্বোধন হয়েছে।
"গৃহস্থালির সেবামূলক কাজের মূল্যায়ন, আনবে সমতা, করবে উন্নয়ন" স্লোগান নিয়ে শনিবার লিডিং ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত হচ্ছে সিলেট বিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। সকাল সাড়ে নয়টায় বেলুন ওড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনের অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিতার্কিক ও অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান বন্ধুসভার সভাপতি সাইদুজ্জামান রওশন। তিনি বলেন, ‘নারী-পুরুষ সমানে সমান। কাজগুলোকে আমরা ভাগাভাগি করে সম্মিলিত প্রয়াসে দেশটাকে এগিয়ে নিতে চাই।’ তার সাথে তরুণ বিতার্কিকরা শপথ করেন গৃহস্থালির সেবামূলক কাজে পরিবারের নারী সদস্যদের পাশাপাশি এখন থেকে সমানভাবে অংশ নেবেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘বিতর্কর মাধ্যমে গৃহস্থালির সেবামূলক কাজের মতো বিষয়টিকে তরুণদের মাঝে নিয়ে আসার বিষয়টি অভিনব। চর্চার মাধ্যমে যুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে এই আয়োজন অবশ্যই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। উন্নত বিশ্বে নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করেন। কিন্তু বাংলাদেশে তা হচ্ছে না। সামাজিক এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। নারীকে তার যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে।’
বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা করেন একশনএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার নূরে জান্নাত প্রমা। তিনি বলেন, ‘গৃহস্থালির সেবামূলক কাজকে শ্রম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। মূল অর্থনীতিকে সচল রাখতে ‘কেয়ার ইকোনমি’র অবদান আমাদের বুঝতে হবে। এই শ্রমের কোন স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন না থাকায় নারীরা প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।’
অনুষ্ঠানে লালমনিরহাটের শিউলি নারীদলের সদস্য অজিফা বেগমও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভা, সিলেটের অনুষ্ঠান সম্পাদক তামান্না ইসলাম।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সিলেটের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের বিতর্ক দল অংশ নিচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ, সিলেট এমসি কলেজ, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সিলেট উইমেনস মেডিকেল কলেজ, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিলেট সরকারি কলেজ।
বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে রয়েছেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমদ চৌধুরী, নাট্যব্যক্তিত্ব মু. আনোয়ার হোসেন, জাফর সাদেক ও হুমায়ুন কবির, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ভূঞা, জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা অসিত বরণ দাশ গুপ্ত, আবৃত্তিকার নাজমা পারভীন, শিক্ষক শামীম আল-আজিজ, ধ্রুব রঞ্জন রায়, মো. হাসনাত ইবনে রেজা, তানভীর রেজা খান, রাইতা বিনতে আহসান, মো. শেরফ্-উল-আলম, কাজী মো. জাহিদ হাসান ও রানা মজুমদার।
বেলা আড়াইটায় বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিতর্কের ওপর একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দিনব্যাপী উৎসবের বিভিন্ন পর্বে একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ লোকসংগীত শিল্পী সুষমা দাশ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন।
আপনার মন্তব্য