০৩ জুন, ২০২৬ ১৬:১২
ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী-হরিপুর) আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালামকে দেওয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের ভিডিওতে মঞ্চের সামনে থাকা চেয়ার ফাঁকা থাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
তবে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্যের মেয়ে কানিজ ফাতেমা। তার দাবি ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অনুষ্ঠানের আসল চিত্র নয়।
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিও ও ছবি প্রচার করা হচ্ছে, তা পুরো অনুষ্ঠানের চিত্র নয়।
তিনি লেখেন, তার বাবার মূল কর্মসূচি ছিল সন্ধ্যার দিকে। তবে জরুরি কাজে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই অতিথিরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা প্রদান করেন। এ কারণে অনুষ্ঠানের ওই মুহূর্তে মাঠে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেলেও পরে কর্মসূচিতে আরও লোকজন যোগ দেন।
তিনি আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভিডিও বা ছবি দিয়ে পুরো আয়োজনকে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। বাস্তব পরিস্থিতি না জেনে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য না করারও আহ্বান জানান তিনি।
জানা যায়, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ডা. আব্দুস সালামকে সংবর্ধনা জানাতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি এ গণসংবর্ধনার আয়োজন করে। বিকেলে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মঞ্চে ডা. আব্দুস সালামসহ স্থানীয় নেতাদের দেখা গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মঞ্চের সামনের সারির সব চেয়ার খালি দেখা যায়। সেখানে কোনো জনগণ উপস্থিত ছিলেন না।
ভিডিওটি গতকাল থেকে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। অনেকেই ভিডিওটি শেয়ার করে প্রশ্ন তুলেছেন, গণসংবর্ধনার মতো একটি অনুষ্ঠানে কেন দর্শক সারির সামনের অংশ ফাঁকা ছিল। কেউ কেউ অনুষ্ঠানটিকে ‘ফাঁকা মাঠের গণসংবর্ধনা’ বলেও মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক।
এদিকে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি অনুষ্ঠান সম্পর্কে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, ভিডিওটি অনুষ্ঠানের একটি ক্ষণিকের দৃশ্য মাত্র। পুরো আয়োজনের সার্বিক চিত্র সেখানে উঠে আসেনি।
আয়োজক কমিটির সদস্য এটিএম মাহাবুব রাহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এমপি সাহেব ঢাকায় একটু জরুরি কাজে যাওয়ার জন্য অনুষ্ঠানে দ্রুত চলে আসেন। তখন আমরা ক্রেস্ট তুলে দিই। পরে সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট একটি ভিডিও ভাইরাল করে হেয় করা হচ্ছে। বিষয়টি দুঃখজনক।’
আপনার মন্তব্য