২৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:০০
সুনামগঞ্জের উপজেলা ইউনিটগুলোর সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণের জন্য মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) স্থানীয় মন্ত্রী এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ঢাকায় বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এই বৈঠকে সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর,জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনের সাংসদ মোয়াজ্জোম হোসেন রতনের উপস্থিতিতে ঢাকায় বৈঠকে বসতে নারাজ সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি মতিউর রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১৪ ইউনিটের মধ্যে ২ ইউনিটে সম্মেলন শেষ করে শনিবার কমিটি ঘোষণা করা হলেও তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশাসহ জেলার অন্য উপজেলাগুলোর সম্মেলনের তারিখ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অদৃশ্য চাপে পেছানো হয়েছে। বলা হচ্ছে স্থানীয় সংসদ সদস্যগণকে উপস্থিত রেখে সম্মেলন করার জন্য ইউনিটগুলোর সম্মেলনের তারিখ পেছানো হয়।
এমন উদ্ভট পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সুনামগঞ্জের উপজেলা ইউনিটগুলোর সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি, জেলার অন্যান্য আসনের সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক, সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এমপি মাহবুবুল আলম হানিফ ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ঢাকায় বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই বৈঠকে এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে রাখতে আপত্তি জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি মতিউর রহমান।
ঢাকার ওই বৈঠকে সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমপি মাহবুবুল আলম হানিফ ,সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্যসহ জেলার ৫ জন সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের অংশগ্রহণে জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোর সম্মেলনের তারিখ ফের চূড়ান্ত করার আভাস দেয়া হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের উপস্থিতিতে বৈঠক করতে সম্মত নন। তিনি সাংসদ রতনকে বৈঠকে রাখতে আপত্তি জানিয়েছেন।
আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগে নেতৃবৃন্দ বলেন, এমপি রতনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ক্যাসিনোকাণ্ড জড়িত থাকাসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় দুদক তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। তার অঢেল সম্পদ নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, জেলার অন্যান্য সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ দুদুকের অনুসন্ধান ও তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া অবধি আপাতত এমপি রতনের উপস্থিতি বা অংশগ্রহণে যে কোন ধরণের বৈঠক প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুদ্ধি অভিযানের যে নির্দেশনা দিয়েছে তা উপেক্ষিত হবে বলে মনে করেন জেলা আওয়ামী লীগ’র নেতৃবৃন্দ।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি মতিউর রহমান বলেন, মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপিসহ ঢাকায় বৈঠকের কথা আমাকে জানানো হয়েছিল। আমি বলেছি, দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া অবধি এমপি রতনের উপস্থিতিতে কোন বৈঠকে আমি যাব না।
তিনি আরও বলেন, দুদক জেলার এ সংসদ সদস্য’র ব্যাপারে আলোচিত ক্যাসিনোকান্ড, ঘুষ দুর্নীতি, চাঁদাবাজিসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অঢেল সম্পদের বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত নেমেছে। তাই আপাতত তাকে নিয়ে কোন বৈঠকে বসলে দুদকের তদন্ত কাজ প্রভাবিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে সর্বমহলে।’
আপনার মন্তব্য