২৫ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:৩২
সৌদি আরব থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে ভিডিও বার্তা দেওয়া হবিগঞ্জের হুসনা আক্তারকে (২৪) কফিলের (মালিকের) বাসা থেকে সৌদি আরবের রিক্রুটিং এজেন্সি (মকতব) অফিসে নেয়া হয়েছে । সেখানেও তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন হুসনার স্বামী শফিউল্লাহ। স্ত্রীকে নিরাপদে দেশে ফেরত আনতে সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন হুসনার স্বামী । এদিকে হুসনাকে ফিরিয়ে আনতে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে সহায়তায় নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বরাবরে আবেদন করেছেন হুসনার স্বামী ।
জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের লেবার উইংয়ের কর্মকর্তা কে এম সালাহউদ্দিন সোমবার রাতে এক বার্তায় জানান, হুসনার এখন নিরাপদে রয়েছেন বলে টেলিফোনে জানিয়েছেন। তিনি এখন নাজারান শহরে সেইফ হোমে পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন।
তাকে সেখান থেকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে বলে জানান লেবার উইংয়ের এই কর্মকর্তা।
হুসনার পারিবারিক সূত্র জানায়, মাত্র দিন বিশেক আগে দালাল শাহীন মিয়া ও প্রস্তাবিত রিক্রুটিং এজেন্সি ‘আরব ওয়ার্ল্ড ডিস্ট্রিবিউশন’ এর প্রলোভনে পড়ে এজেন্সি আল-সারা ওভারসীস (আরএল-৭৫২) সৌদি যাবার সিদ্ধান্ত নেয় হবিগঞ্জের মেয়ে হুসনা। তবে গত ৬ নভেম্বর সৌদি যাওয়ার পর থেকে সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে স্বামীকে জানান। শফিউল্লাহ ছুটে যান দালাল ও আরব ওয়ার্ল্ড ডিস্ট্রিবিউশন অফিসে, তারা হুসনাকে দেশে আনতে দুই লাখ টাকা দাবী করেন। কোন উপায়ন্তর না পেয়ে ২৪ নভেম্বর ব্র্যাকের সহায়তায় চেয়ে আবেদন করেন হুসনার স্বামী শফিউল্লাহ।
হুসনার স্বামী শফিউল্লাহ বলেন, ২৪ নভেম্বর হুসনাকে কপিলের বাসা থেকে সৌদি আরবের রিক্রুটিং এজেন্সি (মকতব) অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় হুসনা আমাকে কল করে বলে মক্তব অফিসে নিয়ে তাকে নির্যাতন করছে রিক্রুটিং এজেন্সির লোকজন। এরপর তারা হুসনার কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত হুসনার সাথে কোনো যোগাযোগ হয়নি। এসব জানাতে আমি আবারো ‘আরব ওয়ার্ল্ড ডিস্ট্রিবিউশন’ এর অফিসে যাই। সেখানে তারা আমাকে হুমকি দেয় ও অনেক গালাগালি করে। কোনো উপায় না পেয়ে আমি ব্র্যাকের কাছে সহযোগিতা চাই। তারা আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বরাবরে আবেদন করেছি ব্র্যাকের সহায়তায়।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রীকে নিরাপদে দেশে ফেরত আনতে ২৪ নভেম্বর ব্র্যাকের সহায়তায় চেয়ে আবেদন করেন হুসনার স্বামী শফিউল্লাহ। নিরাপদে হুসনাকে দেশে ফেরত আনতে সার্বিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এর প্রেক্ষিতে হুসনার স্বামীকে দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বরাবরে আবেদন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান আবেদন রিসিভ করেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে হুসনাকে ফেরানো যাবে বলে জানান ব্র্যাকের তথ্য কর্মকর্তা আল আমিন নয়ন।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান জানান, কোন উপায় না পেয়ে ২৪ নভেম্বর ব্র্যাকের সহায়তায় চেয়ে আবেদন করেন হুসনার স্বামী শফিউল্লাহ। এরপর নিরাপদে হুসনাকে দেশে ফেরত আনতে পরিবারটিকে সার্বিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেয় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। আমরা জানতে পেরেছি, বর্তমানে হুসনাকে সৌদি আরবের রিক্রুটিং এজেন্সি (মকতব) অফিসে নেয়া হয়েছে। তবে হুসনার পরিবারের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত তাদের হুমকি দিচ্ছে দালাল ও এজেন্সি অফিস থেকে। আমরা সুমি, হুসনাদের এমন নিপীড়ন বন্ধ চাই।
আপনার মন্তব্য