২৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:২৩
সুনামগঞ্জের ছাতকে আওয়ামী লীগের বিবদমান দু’গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮নভেম্বর) বিকেলে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের জাউয়াবাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অর্ধশতাধিক রাউন্ড সিয়ারসেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই ঘন্টা সংঘর্ষ চলাকালে সড়কের উভয় পাশে যাত্রী ও মালবাহী গাড়ি আটকা পড়ে র্দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এবং পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ও তার সহোদর শামীম আহমদ চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ও সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল হুদা মুকুট পরস্পরকে কটুক্তির প্রতিবাদে গত দু’সপ্তাহ ধরে এখানের আওয়ামী লীগের বিবদান দু’গ্রুপের মধ্যে টান-টান উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্রকরে পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেলে খিদ্রাকাপন এলাকায় জাউয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভা আহবান করে কালাম চৌধুরী ও শামীম চৌধুরীর সমর্থকরা। আওয়ামী লীগের একটি মিছিল খিদ্রাকাপন সভাস্থলে যাওয়ার পথে জাউয়াবাজারে এমপি মানিক এবং কালাম চৌধুরী ও শামীম চৌধুরীর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও দফায়-দফায় সংঘর্ষে জাউয়াবাজার থেকে খিদ্রাকাপন পর্যন্ত সড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় দু’ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশ ২৬ রাউন্ড টিয়ারসেল ও ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত আল-আমিন, আশরাফ, সেলিম, দুলন শাহ, ও সৌরভকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শাহীন তালুকাদর, আজির উদ্দিন, আব্দুল আলিম মিলন তালুকদার, রিপন, সেবুল, এমরান, তারেক, কালা শাহ, আজিদ, ফজলে নুর, রুবেল, জামিল, আব্দুল খালিক, নুরুজ্জামান, রবি মিয়া, শিবুল, শিপন, জালালসহ অন্যান্য আহতদের স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জাউয়াবাজার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজা মিয়া তালুকদার জানান, আওয়ামীলীগের শান্তিপূর্ন মিছিলে অতর্কিত হামলা করা হয়েছে। এতে তাদের অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ জানান, মিছিলকারীরা সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের বিরুদ্ধে কু-রুচিপূর্ন শ্লোগান দেয়ায় বাজারে উপস্থিত যুবলীগ নেতা-কর্মীরা পাল্টা মিছিল বের করে। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে সংষর্ষ বেধে যায়।
ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। জাউয়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতয়েন করা হয়েছে।
আপনার মন্তব্য