০৫ মার্চ, ২০২০ ২০:২০
‘জলমহাল ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে হাওর শুকিয়ে মাছ ধরা বন্ধ ও ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী ধুবরিয়াসহ সকল হাওর ও জলমহালের ইজারা বাতিল করতে হবে। অন্যথায় সিলেট অঞ্চলের মৎস্যসম্পদ চিরতরে শেষ হয়ে যাবে’ বলে জানিয়েছেন গ্রামীণ নাগরিকসভার বক্তারা।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকাল ৪ টায় সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে উপজেলার ৪ নম্বর উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের দনারাম বাজারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপারের উদ্যোগে গ্রামীণ নাগরিকসভায় বক্তারা একথা বলেন।
বক্তারা বলেন, ইজারা প্রদানের ২৮ নং শর্তে বলা আছে, ইজারা গ্রহীতা ইজারাধীন জলমহালে যান্ত্রিক বা অন্য কোনো পন্থায় সম্পূর্ণরূপে পানিশূন্য করে মাছ ধরা যাবে না। কিন্তু এই জলমহালে সেচযন্ত্র দিয়ে পানিশূন্য করে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। যা বন্ধ করে ইজারা বাতিল করতে হবে। হাওর-বিল সম্পূর্ণরূপে সেঁচে এভাবে মাছধরার প্রতি মৌসুমের স্বাভাবিক চিত্র হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের গাফলতি ও সাধারণ মানুষের নীরবতায় প্রকৃতির ভয়াবহ ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। সিলেট বিভাগের অধিকাংশ হাওর ও বিলের জলজ জীববৈচিত্র একশ্রেণীর মানুষের লোভের কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
গ্রামীণ নাগরিকসভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের নাগরিক সংগঠক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা সিলেটের যুগ্ম সম্পাদক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ছামির মাহমুদের সঞ্চালনায় মূল বক্তব্য রাখেন বাপা-সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আব্দুল করিম কিম।
তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাওর ও বিলের ইজারাদারেরা ইজারার একাধিক শর্ত ভঙ্গ করে মৎস্য আহরণ করছেন। ইজারার ২৮ নং শর্ত অমান্য করে ধুবরিয়া বিল গ্রুপ জলমহাল সেঁচে মাছ ধরছে এমন অভিযোগ উঠায় আমরা পরিদর্শন করে এর প্রমাণ পেয়েছি।
সভাপতির বক্তব্যে মোস্তাফা শাহজামান বাহার বলেন, সিলেট বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, দেড় দশকে আগে হাওরে ১০৭ প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও এখন তা বিলুপ্তির পথে রয়েছে অন্তত ৪৬ প্রজাতির মাছ। অর্থাৎ সিলেট থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ৪৬ প্রজাতির মাছ। এমন অবস্থা চলতে দেয়া যায়না। সভায় উপস্থিত স্থানীয় নাগরিকেরা এমন সর্বনাশা অবস্থা প্রতিরোধ আন্দোলন শুরু করার জন্য বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
নাগরিকসভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য ৪ নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের ১ নাম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল কাইয়ুম। এতে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট বাবলু ভৌমিক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা মজনু মিয়া, শানুর উদ্দিন, কালা মিয়া, পংকি মিয়া, মসব আলী, সুফি মিয়া, মো. আব্দুর রব, মো. বাবুল মিয়া, সারই মিয়া, আলফু মিয়া, দুধাই মিয়া, আশিক মিয়া, শাহিন আহমদ, আনোয়ার উদ্দিন, আশিক আলী ও মো. নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য