শাকিলা ববি

১০ মার্চ, ২০২০ ০০:২৫

করোনা মোকাবেলায় শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল হচ্ছে কোয়ারান্টাইন সেন্টার

সিলেটে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে কোয়ারেন্টাইনে থাকা দুবাই ফেরত যুবকের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েনি।  তবে দেশে ইতোমধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমিত ৩জন রোগী সনাক্ত হয়েছেন। তাই করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সিলেট নগরীর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালকে কোয়ারান্টাইন সেন্টার হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সিলেটের প্রধানতম চিকিৎসা্ কেন্দ্র এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তবে এই হাসপাতালে সবসময়ই লেগে থাকে রোগীর চাপ। তাই শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালের অন্য রোগীদের সরিয়ে এই হাসপাতালকে কোয়ারান্টাইন সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানান ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়।

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার প্রবাসী যুবক জ্বর, কাশি ও মাথাব্যথা নিয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে রাখা হয় শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে।  বর্তমানে পুরো শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালকে কোয়ারান্টাইন সেন্টারে রূপান্তরের কাজ চলছে।

ওসমানী হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালের অন্তঃবিভাগের রোগীদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। কোয়ারান্টাইন সেন্টারে রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য ডাক্তার ও নার্সদের প্রস্তুত করা হচ্ছে। এছাড়াও ওসমানী মেডিকেলের বহির্বিভাগ, জরুরী বিভাগ ও লেবার রুমেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। শিগ্রই ওসমানী মেডিকেলে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্যের জন্য হট লাইনও চালু করা হবে।
    
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, ওসমানী মেডিকেল বিভিন্ন ধরনের রোগী সেবা নিতে আসেন। অনেক জনসমাগম এখানে। কিন্তু কোয়ারান্টাইন সেন্টারের জন্য দরকার নিরিবিলি স্থান। যেখানে অন্য কোনো রোগী থাকবে না। তাই শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে আমরা করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য কোয়ারান্টাইনের ব্যবস্থা করছি। আজ (মঙ্গলবার) থেকে এই হাসপাতালের রোগীদের স্থানান্তর করা হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগীদের সেবা দিতে ডাক্তার ও নার্সদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোয়ারেন্টাইন অর্থ হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাউকে পৃথক রাখা। এটা যে হাসপাতালে হতে হবে তা নয়। বাড়িতেও কোয়ারেন্টাইনে থাকা যায়। যদি কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাকে জনবহুল এলাকা থেকে দূরে রাখতে হবে।

হিমাংশু লাল রায় আরও বলেন, ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে আক্রান্তকে কমপক্ষে ১৪ দিনের জন্য আলাদা করে (কোয়ারেন্টাইনে) রাখা প্রয়োজন। এই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সচেতনতার বিকল্প নেই। তাই করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য ও জনসচেতনতা বাড়াতে আমরা দু’এক দিনের মধ্যে হট লাইন চালু করছি।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. দেবপদ রায় সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সিলেট বিভাগের প্রতিটি জেলার সিভিল সার্জনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে কোয়ারান্টাইনের ব্যবস্থা রাখার জন্য বলা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০০ রোগীর সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে লক্ষ্যেই আমাদের প্রস্তুতি চলছে। রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য ডাক্তার ও নার্সদের বিশেষ পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের উপসর্গ হচ্ছে জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া। তাই কোয়ারান্টাইন সেন্টারে তাদের এইসব রোগের চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে নিজের বাসায়ও কোয়ারান্টাইনে থাকা যায়। যেমন কেউ যদি বিদেশ থেকে আসলে তার জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া হয় তাহলে প্রাথমিক ভাবে তিনি যত্রতত্র ঘুরাঘুরি না করে বাসায় কোয়ারান্টাইনে থাকতে পারেন।  রক্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর যদি কারো শরীরে করোনাভাইরাস ধরা না পরে তাহলে তিনি জ্বর, কাশির চিকিৎসা নিয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারবেন।

ডা. দেবপদ রায় বলেন, এই ভাইরাস থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় হলো যারা ইতিমধ্যেই যারা আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলা করতে হলে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। এছাড়াও ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বাড়াতে হবে। যেমন নিয়মিত জীবাণুনাশক, সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়া, কাশি বা হাঁচি দিচ্ছেন এমন ব্যক্তি থেকে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা, হাত না ধুয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা, যেখানে সেখানে থুথু না ফেলা ইত্যাদি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত