১৮ মার্চ, ২০২০ ১৯:৪৮
দেশের সর্বত্র করোনাভাইরাস যেন ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ পর্যন্ত সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু খোলা রাখা হয়েছে পর্যটন স্থানগুলো। তাই করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য সাময়িকভাবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সকল পর্যটন স্পটগুলো বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ উপজেলার পর্যটন স্থানগুলো লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, বাগাছড়া লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিস্তম্ভ, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি ভ্রমণ করতে প্রতিনিয়তই দেশ-বিদেশের হাজার হাজার দর্শনার্থী আগমন করেন। এসব স্থানে জনসমাগম বেশি হয়। তাই এসব স্থানে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির ভাইরাস সহজেই ছড়িয়ে যেতে পাওে বলে মনে করেন কমলগঞ্জবাসী। তাই কমলগঞ্জ উপজেলার সকল পর্যটন স্থানগুলো সাময়িক বন্ধের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন স্থানীয়রা।
কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ইকো ট্যুর গাইড শেখর দে বলেন, আমরা দেশি বিদেশি পর্যটক নিয়ে ঘুরতে যাই তবে ভিতরে ভয় জাগে করোনার আতংকে। দেশের স্বার্থে ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য পর্যটন স্থানগুলো সাময়িক বন্ধ রাখা ভালো।
লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা সাজু মার্চিয়াং বলেন, লাউয়াছড়া উদ্যানে ভ্রমণে আসা দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীরা আমাদের গ্রামে (পুঞ্জিতে) যান, এতে আমরা ঝুঁকি ও আতংকের মধ্যে থাকি। আমাদের খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দারা শুধু সচেতন থাকলেই হবে না, যদি কোনো করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি আমাদের খাসিয়া পুঞ্জিতে ঢুকেন, তাহলে আমরা সহজে আক্রান্ত হবো। তাই আমরা খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দারা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সাময়িক বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে কমলগঞ্জ উপজেলায় এখন পর্যটক এমনিতেই কম আসছেন। এছাড়া হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশী নজরদারীতে আছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবরোধে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন জনসমাগমকে নিরুৎসাহিত করছে। ভ্রমণকারীদের আপাতত সাময়িক সময়ের জন্য পর্যটন স্পটগুলোতে ভিড় না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আপনার মন্তব্য