তাহিরপুর প্রতিনিধি

১৮ মার্চ, ২০২০ ১৯:৪৯

করোনা আতঙ্কেও কমেনি তাহিরপুরে পর্যটকদের আনাগোনা

করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে গত ১৭ মার্চ নিরাপত্তার সার্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  ও জনসমাগম বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন দেশের উপাসনালয়ও। সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এমন পরিস্থিতিতেও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন পর্যটনস্পটগুলোতে কমেনি পর্যটকের আনাগোনা। প্রতিদিত পর্যটকরা ভিড় করছেন উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। এতে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।

জানা যায়, উপজেলার শাহ আরেফিন(রাঃ)ওরস ও গঙ্গাস্নানের জনসামাগমে করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের আশংকায় এবার এই দুটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করেছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু উপজেলায় প্রতিদিনেই টাংগুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক, সীমান্তের বিভিন্ন ছড়া, ট্যাকেরঘাট, শিমুল বাগান, যাদুকাটা নদীসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ভীড় করছেন।
 
স্থানীয় তরুণ স ম খোকন বলেন, সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের আতংকে রয়েছে। বিশ্বের অনেক শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেছে। অথচ তাহিরপুর উপজেলার চিত্র ভিন্ন। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক আসছেন। যার ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশংকা রয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সুমন চন্দ্র বর্মন বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হতে পারে সে সব কাজ থেকে আমাদের সবাইকেই দুরে থাকতে হবে। আর জনসমাগমে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশংকা রয়েছে। এই উপজেলা এখনো পর্যন্ত কোন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায় নি। আর আমাদের পক্ষ থেকে এই ভাইরাসটি সম্পর্কে সচেতনতা ও প্রতিরোধের জন্য জনসাধারনের মাঝে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি।      

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি জানান, এই উপজেলার পর্যটকদের আগমন কিছুটা কমেছে। আমি নিয়মিত করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ লিফলেট বিতরণ সহ বিভিন্নভাবে এর প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আর উপজেলার পযটন সমৃদ্ধ এলাকাতে জনসমাগম বন্ধ কার্যকর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য এখনো কোন নির্দেশনা আসেনি। তবে করোনা ভাইরাস রোধে উর্ধবতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে কিছু দিনের জন্য হলেও পর্যটকদের আগমন বন্ধে কঠোর অবস্থানে যাব।
 
তাহিরপুর উপজেলার পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু চৌধুরী বাবুল জানান, আগে নিজেদের নিরাপত্তা ও সুস্থ থাকতে হবে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য এউপজেলায় হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের দুটি বড় উৎসবে জনসমাগম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যটন সমৃদ্ধ এলাকা গুলোতেও পযটকদের আগমন কি ভাবে আপাদত বন্ধ করা যায় সে বিষয় সবার সাথে আলোচনা করে প্রদক্ষেপ গ্রহণ করব।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত