COVID-19
CORONAVIRUS
OUTBREAK

Bangladesh

Worldwide

218

Confirmed Cases

20

Deaths

33

Recovered

1,518,783

Cases

88,505

Deaths

330,590

Recovered

Source : IEDCR

Source : worldometers.info

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ মার্চ, ২০২০ ১৯:৪১

স্বাধীনতা দিবসের এমন চিত্র আগে দেখেনি কেউ

স্বাধীনতা দিবস মানেই সড়কে ফুল হাতে মিছিল, শহীদ মিনারে মানুষের ঢল, এপাড়া-ওপাড়া থেকে মাইকে ভেসে আসা দেশাত্মবোধক গান কিংবা সেই বজ্রকন্ঠ- 'আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না'।

অথচ এবার বাংলাদেশের পঞ্চাশে পা দেয়ার লগ্নের স্বাধীনতা দিবসটি একেবারেই ব্যতিক্রম। শহীদ মিনার ফাঁকা। সড়কে মানুষ নেই। পতাকা হাতে ফেরিওয়ালা নেই। স্কুল-কলেজ বন্ধ। ফুলের দোকানের শাটার নামানো। কিছুক্ষণ পর পর মাইকের শব্দ শোনা যাচ্ছে যদিও, তবে তা থেকে ভেসে আসছে নতুন এক আহ্বান- 'কেউ বাইরে বের হবেন না; নাকে-মুখে হাত দেবেন না'।

এ যেন এক অন্যরকম স্বাধীনতা দিবস। এবার ঘরে থেকে, করোনাভাইরাস নামক নতুন এক শত্রুকে পরাজিত করার শপথে সিলেটে পালিত হয়েছে স্বাধীনতা দিবস।

'শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার পর মহান স্বাধীনতা দিবসে এমন দৃশ্য কোনোদিন দেখেনি কেউ'- বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেসবুকে এমনটি লিখেছেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত।

১৯৮৮ সালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় থাকে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও সম্মিলিত নাট্য পরিষদ। রজত নিজেও এই আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্তত ১৫ বছর ধরে।

তিনি বলেন, এর আগে কোনো জাতীয় দিবসে এমনটি হয়নি। শহীদ মিনার এ রকম কখনো ফাঁকা হয়নি। দুপুরে একা একা শহীদ মিনারে গিয়ে বেদিতে একটি ফুলের মালা রেখে এসেছেন বলে জানান রজত।

নৃত্যশিল্পী নীলাঞ্জনা দাশ জুঁই ফেসবুকে লিখেছেন, ''কী যে খারাপ লাগছে। এতো অসহায় লাগছে। ২৬ মার্চ ঘরের ভেতরে আমরা।''

তবে এখন ঘর থেকে বের না হওয়াটাকেও দেশের জন্য লড়াই বলে মনে করেন মুক্তিযোদ্ধা ও নাট্যব্যক্তিত্ব নিজাম উদ্দিন লস্কর।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে সবকটি জাতীয় দিবসই দেখেছি। এমন নিস্তব্ধতা আগে কখনো দেখিনি। এবার অস্বাভাবিক পরিবেশ। তবে সেটা মানুষের জীবনকে স্বাভাবিক করার জন্যই। যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে তার বিস্তার রুখে দেওয়াই হোক এবারের স্বাধীনতা দিবসের শপথ। তাই বাইরে এসে নয়, ঘরে বসেই এ লড়াই করতে হবে।

স্বাধীনতার দিবসের আগের রাত বাঙালির কালরাত। ভয়াল সেই রাতকে স্মরণ করে সিলেটে প্রতিবছর আলোর মিছিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়। এরপর রাত ১২টা থেকে শহীদ মিনারে শুরু হয় শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান অনুষ্ঠান। পরদিন ২৬ মার্চ সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও বিভিন্ন পাড়ামহল্লায় নানা আয়োজনে পালিত হয় বাংলাদেশের জন্মদিন। স্টেডিয়ামে শিশুদের নিয়ে প্যারেড আর ডিসপ্লের আয়োজন করা হয়। তবে এবার কোথাও কোনো আয়োজন নেই। সব নীরব, নিস্তব্ধ। কিছুক্ষণ পর পর বাঁশি বাজিয়ে পুলিশ ও সেনাসদস্যদের টহল ছাড়া সড়কে আর তেমন কেউ নেই।

বৃহস্পতিবার বিকেলে শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ফাঁকা শহীদ মিনার। কেউ নেই। অন্য স্বাধীনতার দিনে ফুলে ফুলে ঢাকা থাকে যে শহীদ মিনারের বেদি সেখানে আজ একটিমাত্র ফুলের মালা নিঃসঙ্গভাবে পড়ে আছে।

স্বাধীনতা দিবসের আগেরদিন থেকে ফুলের দোকানে ভিড় জমে। ফুল ব্যবসায়ীদের দম ফেলবার ফুরসত মেলে না। তবে এবার কেউ ফুল কিনতে আসেনি। ফুলের দোকানও বন্ধ ছিলো দিনভর।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত