জুড়ী প্রতিনিধি

১২ এপ্রিল, ২০২০ ২১:১৬

জুড়ীর হাটবাজারগুলোতে হচ্ছে ব্যাপক জনসমাগম

করোনাভাইরাসের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের হাটবাজার, যানবাহনকে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষজনকে ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। মানুষকে সচেতন করতে প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার চিত্র ভিন্ন। এসব নির্দেশনা মানা হচ্ছে না সেখানে। জুড়ীর হাটবাজারগুলোতে হচ্ছে ব্যাপক জনসমাগম।

উপজেলা সদর কেন্দ্রিক বাজারগুলোতে দোকান পাট বন্ধ রয়েছে। মানুষজনও বের হচ্ছেন না। তবে মফস্বলের হাটবাজারগুলো থাকে লোকে লোকারণ্য। জনসমাগমে ভরপুর থাকে এলাকার দোকানগুলো। এতে করে করোনা ছড়ানোর আশংকা করছেন সচেতন মহল।

গত ২৫ মার্চ মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ওইদিন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওষুধ সামগ্রী, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ছাড়া সকল প্রকার দোকানপাট বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি জেলার মধ্যে অবস্থিত সাপ্তাহিক হাট বাজারও বন্ধ রাখতে হবে। পরবর্তীতে গত ৬ এপ্রিল অন্য একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, ওষুধের দোকান ব্যতীত সকল প্রকার বাজার, দোকান পাট, কাঁচাবাজার, বিকাল ৫টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে। এ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সকল যানবাহন চলাচলও বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অথচ এই নির্দেশনা অমান্য করে গত শনিবার ফুলতলা বাজারের সাপ্তাহিক বাজার বসে। বৃহস্পতিবার উপজেলা শহরের কামিনীগঞ্জ বাজারের সাপ্তাহিক হাট বাজারও বসে। এতে প্রচুর জনসমাগম হচ্ছে।

সরেজমিনে জুড়ী উপজেলার আরও কয়েকটি বাজারে এ রকম চিত্র দেখা যায়। বিকাল থেকে টিক আগের মত বাজার চলছে। রতনা বাজার, শাহপুর বাজার, নয়াগ্রাম বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে বিকাল থেকেই লোকজন বাজারে আসতে শুরু করেন। রাত ৮ থেকে ৯টা পর্যন্ত ভিড় লেগেই থাকে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের লোকজন গেলে বাজারের দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। কেউ পরিদর্শনে না গেলে চলতে থাকে জনসমাগম।

ফুলতলার বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম, মামুন আহমদ বলেন, আমাদের এখানে ঠিক আগের মতই বাজার চলছে। লোকজন বাড়ছে অন্যান্য দিনের তুলনায়। মানুষ বুঝতে পারছে না করোনার এই ভয়াবহ পরিণতির কথা। মাঝে মধ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ আসে তখন লোকজন চলে যায়। এসব এলাকায় প্রশাসনের টহল আরও বাড়ানো দরকার।

জুড়ী থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, আমরা মানুষকে বুজানোর চেষ্টা করছি। ফুলতলা বাজার উপজেলা সদর থেকে ২৫ কিমি দূরে হওয়ায় আমাদের আসার খবর পেলে লোকজন চলে যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বণিক জানান, মানুষকে সচেতন করতে সব সময় কাজ করছি। পাশাপাশি যারা অকারণে ঘর থেকে বাহির হয় তাদেরকে জরিমানাও করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত