১৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:১৫
ফাইল ছবি
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে মশার যন্ত্রণায় সিলেট নগরবাসীর ঘরে থাকার জো দেই। ঘরের ভেতরে রাজস্ব মশারা। দিনদিন বেড়েই চলছে এ উপদ্রব। ফলে করোনার আতঙ্কের মধ্যেই উঁকি দিচ্ছে ডেঙ্গুর শঙ্কা।
এদিকে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সিলেট নগরীতে থমকে আছে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান। ফলে নগরজুড়ে বিস্তার লাভ করছে মশারা।
যদিও গত ৩১ মার্চ গণভবন থেকে সারাদেশের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 'মশার হাত থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য এখন থেকেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার' নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সেই নির্দেশনা সিলেটে এখন পর্যন্ত উপেক্ষিত।
সিলেট নগরীর সবকটি ওয়ার্ডেই বেড়েছে মশার উপদ্রব। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী।
মশক নিধনে সিলেট সিটি করপোরেশনের কোনা বরাদ্দ না থাকলেও চলতি মৌসুমেই ওষুধ কেনা হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকার। ওষুধ ছিটানোর আগে মশার আবাসস্থল ধ্বংস করার জন্য নালা, নর্দমা, ছড়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও তা এখনও শুরু হয়নি। সীমিত পরিসরে নগরজুড়ে মশার ওষুধ ছিটানো শুরু করলেও তা কোন কাজে আসছে না।
নগরীর ১৬ নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ টিটু জানান, আমাদের এলাকায় মশার উৎপাত ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। আগে সন্ধ্যা হলে মশার উপদ্রব থাকলেও এখন সারাদিনই মশার উৎপাত। ঘরের জানালা খোলা যায় না। গরমের আর মশার উৎপাতে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছি। মশার কারণে ঘরে থাকাই দায় হয়ে ওঠেছে। আবার এইসময়ে বাইরেও বের হতে পারছি না।
সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একদিন মশার ওষুধ ছিটানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওষুধ ছিটানোর পর দুদিন মশার উপদ্রব কম থাকলেও আবারও উপদ্রব শুরু হয়েছে। ওয়ার্ডের ড্রেন, ছড়া পরিষ্কার করা হয় নি বলেই মশার উপদ্রব কমছে না।
এদিকে, মশার উপদ্রব বাড়ায় বৃষ্টি শুরু হলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের শঙ্কর কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, আমি নিজেও মেয়র মহোদয়ের সাথে এ ব্যাপারে আলাপ করেছি। বৃষ্টি শুরু হলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হতে পারে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে আশংকা তাঁর।
তিনি বলেন, এমনিতেই করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নাজুক অবস্থায় আছে, তার সাথে ডেঙ্গু যোগ হলে সামাল দেয়া মুশকিল হবে। তিনি মশার আবাসস্থল ধ্বংস করতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার পক্ষে মত দেন।
তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়নি। নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় ড্রেন কালভার্ট নির্মাণাধীন থাকায় অনেক জায়গাতেই বন্ধ রয়েছে ড্রেন ও ছড়ার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ। আর জমে থাকা ময়লা পানিতে প্রজনন হচ্ছে মশার প্রজনন।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, নগরীতে গত একমাস ধরেই মশার ওষুধ ছিটানোর কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৬ জন করে কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন এ কাজে।
তবে তা কোনো কাজে আসছেনা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করতে পারি নি এখনো। আর তাই কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না মশার উপদ্রব।
ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা খুব তাড়াতাড়ি পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করবো। তবে এর পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। সকলকে তাদের বাড়ির আশপাশের নালা, নর্দমা পরিষ্কার রাখতে হবে। ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। এতে করে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাবেন নগরবাসী।
এ ব্যাপারে জানতে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এ বিষয়টি আমি নিজেও অনুধাবন করছি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সকলের মধ্যে কিছুটা ভয়ভীতি কাজ করছে। নগরীর পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মনেও ভীতির সঞ্চার হয়েছে। এমনকি এদের কাজে আসার পথেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় অনেকেই কাজে আসতে চাচ্ছে না। তার পরেও আমাদের পক্ষ থেকে অনেকের সাথে কথা হয়েছে এবং কয়েকজন কাজে আসবে বলেও জানিয়েছে। তাদের নিয়ে আমরা ছয়টি টিম করেছি। আগামী পরশুদিন থেকেই তারা মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেবে।
এদিকে সিলেটের বিভিন্নস্থানে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য কয়েকটি ড্রেন ও ছড়ায় পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আগে প্রতিটি ওয়ার্ডের ড্রেনগুলো দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবো এবং পরে মশক নিধনের জন্য স্প্রে ছিটাবো।
মেয়র আরও বলেন, মশার ঔষধের জন্য আমরা যে চাহিদাপত্র দিয়েছিলাম তা হঠাৎ করে সকলকিছু বন্ধ হয়ে পরায় পুরোপুরি আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। এইটাও কাজে দেরি হওয়ার একটা অন্যতম কারণ। তবে কিছু ওষুধ আমরা আগে থেকে স্টক করে রেখেছিলাম, যা দিয়ে বর্তমানে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আশেপাশে ছিটানো হচ্ছে, যাতে করে সেখানে মশার প্রাদুর্ভাব না দেখা দেয়।
আপনার মন্তব্য