তাহিরপুর প্রতিনিধি

১৪ এপ্রিল, ২০২০ ১৭:৪১

তাহিরপুরে ফাঁকা মাঠে সবজি বাজার, তবুও নিয়ম মানছে না অনেকে

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত কল্পে গ্রামীণ হাটবাজার, কাঁচা বাজার খোলা স্থানে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বাজার সংলগ্ন ফাঁকা স্কুল মাঠে ও খোলা স্থানে বাজার স্থানান্তর করেছে বাজার কমিটি। তবে স্থানান্তর করা বাজারগুলোতেও সামাজিক দূরত্ব না মেনে ক্রেতা বিক্রেতাগন বেচা কেনা করছেন বলে খবর পাওয়া যায়।

জানা যায়, উপজেলায় তাহিরপুর বাজার, আনোয়ারপুর বাজার, বাগলী বাজার, নতুন বাজার, বাদাঘাট বাজার, একতা বাজার, চানপুর বাজার, জয় বাংলা বাজার, শ্রীপুর বাজার, সোলাইমানপুর বাজার, পন্ডুব বাজার, লামাগাঁও, লাউড়েরগড় বাজার, বিন্নাকুলি বাজারসহ প্রায় ২৫টির অধিক বাজার রয়েছে। সেগুলোতে প্রতিদিন বাজার সংলগ্ন গ্রামের মানুষজন তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রি করেন। আর নিত্য প্রয়োজনীয় সবজিসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসপত্র কিনতেও আসেন স্থানীয়রা। এতে করে প্রচুর জনসমাগম ঘটে এই বাজারগুলোতে।

এই জনসমাগম ঠেকাতে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় বাদাঘাট বাজার, বাগলী বাজার, বড়ছড়া বাজার, নতুন বাজার কমিটির লোকজন ইতোমধ্যে কাঁচা বাজারের দোকানীদের মালামাল সরিয়ে ফাঁকা মাঠে স্থানান্তর করেছে। তবে অন্যান্য বাজার এখনও স্থানান্তর করা হয়নি। আর স্থানান্তর করা বাজারগুলোতে দুপুরে ফাঁকা থাকলেও সকালে ও বিকালে কেউই সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মানেন না।

স্থানান্তর করা নতুন বাজারের দোকানী রহিম মিয়া জানান, সকালে আর বিকালে বেচা কেনার পরিমাণ বেশী। মানুষ জনও বেশি আসলেও আগের তুলনায় বেচা কেনা খুব একটা ভাল না।

বাদাঘাট স্কুল মাঠের বাজারের দোকানী মুসা মিয় বলেন, এই বাজারে সকালে মানুষজন আসে। বেচা কেনাও ভাল হয়। নিয়মের মধ্যেই আমরা বেচা কেনা করছি।

বাদাঘাট বাজার বনিক সমিতির সভাপতি সেলিম হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক মাসুক মিয়া জানান, সরকারী নির্দেশনায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কাঁচা বাজার বাদাঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানান্তর হয়েছে। আর প্রতিদিন সকালের পাইকারি বাজার হাইস্কুল মাঠে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিয়ম মেনেই সবাইকে বেচা কেনা করতে হবে। কোন প্রকার জনসমাগম করা যাবে না সহ বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জী জানান, উপজেলা প্রতিটি বাজারকেই পর্যায়ক্রমে বাজারের পাশে স্কুল, মাদ্রাসা মাঠে ও ফাঁকা স্থানে স্থানান্তর করা হবে। সাময়িক বাজার মনিটরিং করবেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, বাজার ইজারাদার ও বাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই ক্রেতা বিক্রেতাকে বেচা-কেনা করতে হবে। যদি কোন দোকানে নিয়মের বাহিরে জনসমাগম সৃষ্টি করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত