১৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:৫৮
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার রাজনগর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী ইদন মিয়ার হত্যা মামলার ৮ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
নিহতের ভাই মামলার বাদী মো. চাঁন মিয়া জানান, মাধবপুর থানায় গত ৬ এপ্রিল ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করা হয়। কিন্তু পুলিশ কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। পরবর্তীতে মামলাটি ডিবি পুলিশে দেওয়ার জন্য হবিগঞ্জ পুলিশ সুপারের নিকট আবেদন করলে মামলাটি ডিবি পুলিশের উপর ন্যস্ত করা হয়। মামলার পর থেকেই আসামিরা সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গতবছরের ২৩ জুলাই ইদন মিয়া বাড়ি ফেরার পথে কালিকৃষ্ণনগর গ্রামের দুলাল মিয়া, রফিকুল ইসলাম, বাবুল মিয়া, সুচন মিয়াসহ কয়েকজন তাকে রাস্তায় আটক এবং মারপিট করে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ইদন মিয়া বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাধবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৪- তারিখ ৩/০৮/২০১৯)। তারপর থেকে আসামীরা ইদন মিয়ার উপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। গত ২ এপ্রিল রাতে ইদন মিয়া বাড়ির পাশে তার বোন জুবেদা খাতুনের বাড়ি বরুড়া যান।
সেখান থেকে রাত ১০ টার সময় বাড়িতে ফিরার সময় আসামিরা ইদন মিয়াকে আটক করে পিটিয়ে আহত করে নগদ ২৮ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে ইদন মিয়া চিৎকার শুরু করলে আসামিরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজনসহ ইদন মিয়ার স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় ইদন মিয়াকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইদন মিয়ার অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ইদন মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ৩ এপ্রিল ইদন মিয়াকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ইদন মিয়ার ভাই মো. চাঁন মিয়া বাদী হয়ে কালিকৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত নুর মিয়ার ছেলে মো. মন্নান মিয়া, নুর উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলামসহ ১৪ জনের নাম সহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে গত ৬ এপ্রিল মাধবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা দায়ের করার ৮ দিন পরও পুলিশ কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। এ নিয়ে নিহতের পরিবারের হতাশা দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) এসআই মোজাম্মেল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইদন হত্যার পর সুরতহাল করা হয়েছে এবং ময়না তদন্ত করা হয়েছে।
ময়না তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
আপনার মন্তব্য