২৪ জুলাই, ২০২৬ ২২:৫৩
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘সুপ্রাচীনকাল থেকে পুণ্যভূমি সিলেটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিদ্যমান। এই সম্প্রীতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমাদের সকলকে সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে সকল ধর্ম-বর্ণের লোকজনের সহাবস্থান রয়েছে। এই সম্প্রীতির মেলবন্ধন ভবিষ্যতেও অটুট রাখতে হবে।’ আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সবাই মিলেমিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। এজন্য দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব, বলদেব ও সুভদ্রা মহারাণীর উল্টো রথযাত্রা মহোৎসবের আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সিলেটের রিকাবীবাজারস্থ রথযাত্রা প্রাঙ্গণে সুপ্রাচীনকাল থেকে রথযাত্রা মহোৎসবের আচার-অনুষ্ঠানাদি পালিত হয়ে আসছে। এই রথযাত্রা প্রাঙ্গণটিকে রথযাত্রা উদ্যাপনের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন- সিলেট দেবালয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি এল প্রশান্ত কুমার সিংহ।
কোষাধ্যক্ষ সমেন্দ্র সিংহ’র পরিচালনায় আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন- সিলেট দেবালয় রথযাত্রা উদ্যাপন কমিটির উপদেষ্টা ড. দীলিপ কুমার দাস চৌধুরী অ্যাডভোকেট, সিলেট দেবালয় রথযাত্রা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নৃপেন্দ্র সিংহ, মাইবাম রতন সিংহ, সময় টিভির সিনিয়র সাংবাদিক দিগেন সিংহ, নামব্রাম রতন সিংহ, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সজল ঘোষ প্রমুখ।
এদিকে, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শুক্রবার (২৪ জুলাই) উল্টো রথযাত্রা উদ্যাপিত হয়। সিলেট নগরের রিকাবীবাজারস্থ রথযাত্রা প্রাঙ্গণে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রায় হাজারো ভক্ত-অনুরাগীর সমাগম ঘটে। ভক্তদের উপস্থিতিতে এক বর্ণিল আবহ তৈরি হয়। রথযাত্রা মহোৎসবকে কেন্দ্র করে সিলেটে ৯ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এর আগে, গত ১৬ জুলাই সিলেটের ২৫টি দেবালয় ও মন্দির থেকে রথযাত্রা নিয়ে রিকাবীবাজারস্থ রথযাত্রা প্রাঙ্গণে সমবেত প্রথম রথযাত্রা মহোৎসব উদ্যাপিত হয়। রিকাবীবাজারস্থ রথযাত্রা প্রাঙ্গণে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব, বলদেব, সুভদ্রা মহারাণীর পূজা, আরতী, হরিনাম সংকীর্ত্তন, মহাপ্রসাদ বিতরণ, হরিলুট ও ভক্তিমূলক সঙ্গীতসহ নানা আচার সম্পন্ন হয়।
উল্টো রথযাত্রা মহোৎসবে সিলেট দেবালয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সহ-ধর্মীয় সম্পাদক প্রহল্লাদ সিংহের নেতৃত্বে গীত গোবিন্দ থেকে দশাবতার পাঠ, কীর্ত্তন ও আরতী পরিবেশন করা হয়।
সিলেটের রিকাবীবাজারের রথযাত্রা প্রাঙ্গণের ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছর সিলেট দেবালয় রথযাত্রা উদ্যাপন কমিটি দায়িত্ব পালন করে। সহযোগিতায় ছিল সিলেট সিটি কর্পোরেশন। রথযাত্রা মহোৎসব নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রতিটি রথ মন্দির থেকে আনা-নেওয়া করা হয়।
এবার রথযাত্রায় অংশগ্রহণকারী মন্দির ও দেবালয়গুলো হলো- শ্রীশ্রী কৃষ্ণ বলরাম জিউর আখড়া, লামাবাজার; শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দির, আম্বরখানা; শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ জগবন্ধু বিগ্রহ মন্দির, শিবগঞ্জ; শ্রীশ্রী নৃসিংহ জিউর দেবতা, কালীঘাট; শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু জিউর মন্দির, রাজবাড়ী, মির্জাজাঙ্গাল; শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়া, নয়াবাজার; আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), যুগলটিলা; শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির, নরসিংটিলা; শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়া, কালীঘাট; শ্রীশ্রী মহাপ্রভু মন্দির, নরসিংটিলা; লালাদিঘিরপাড় মণিপুরীপাড়া মহাপ্রভুর মন্দির; লালাদিঘীরপাড়; শ্রীশ্রী মহাপ্রভু মন্দির, সাগরদিঘিরপাড়; শ্রীশ্রী গোপীনাথ জিউর আখড়া, মাছিমপুর; শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির, বড়বাজার; শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়া, সুবিদবাজার; শ্রীশ্রী মহাপ্রভু জিউর আখড়া, লামাবাজার; শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির, দক্ষিণ কাছ; শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়া, জিন্দাবাজার; শ্রীশ্রী ব্রজনাথ জিউর মন্দির, শিবগঞ্জ; নিম্বার্ক আশ্রম, মির্জাজাঙ্গাল; সিলেট দেবালয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটি, লামাবাজার ও শ্রীশ্রী মহাপ্রভু আখড়া, পনিটুলা; শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির, বহর নোয়াগাঁও; শ্রীশ্রী রাধামাধব জিউর মন্দির, ইসকন, কৃষ্ণপুর, গোটাটিকর ও শ্রীশ্রী মহাপ্রভুর আখড়া, আখালিয়া, নতুন বাজার, সিলেট।
এদিকে, রথযাত্রা মহোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য সিলেট দেবালয় রথযাত্রা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি এল প্রশান্ত সিংহ ও সিলেট দেবালয় রথযাত্রা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নৃপেন্দ্র সিংহ এক যৌথ বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
তারা বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের এই উৎসব সফল ও স্বার্থক করার জন্য সিলেটের সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন, সামাজিক সংগঠনসহ সিলেটের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রীতির নগর সিলেটে এর যথার্থতা আবারও শতভাগ প্রমাণিত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে।’
আপনার মন্তব্য