হোসাইন আহমদ সুজাদ

০২ মে, ২০২০ ২৩:৪২

হাওরের ৮৬ শতাংশ ধান কাটা শেষ

সিলেট বিভাগের হাওরাঞ্চলের ৮৬ শতাংশ বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আর পুরো বিভাগে ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে ৬৭ শতাংশ। বিভাগের মধ্য সবচেয়ে বেশি বোরোর আবাদ হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়। এ জেলায় আবাদ হয়েছে ২ লাখ ১৯ হেষ্টর জমিতে।

এ বছর সিলেটে আগাম বন্যা এবং বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছে সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ইতোমধ্য সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার ৮০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে।  

সুনামগঞ্জ জেলাতে এবার ধান উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ লাখ মেট্রিক টন। যার মধ্য থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ধান সরকার কিনবে। অপরদিকে মৌলভীবাজারে ধান কাটতে নেমেছে জেলার চা শ্রমিকরা। ইতোমধ্য জেলার ৮৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। হবিগঞ্জে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার ৮০০ হেষ্টর জমিতে। ইতোমধ্য জেলায় ৫৭ শতাংশ আর হাওর অঞ্চলের ৮০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

অপর দিকে সিলেট জেলাতে এবার ৮০ হাজার ৫৬৫ হেষ্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। তার মধ্য হাওরে থাকা ৬০ শতাংশ ধান ইতোমধ্য কাটা হয়ে গেছে আর সমতলে কাটা হয়েছে ২৬ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন



কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, হাওরের নিচু জায়গার ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়ে গেছে। ফলে এখন বন্যা হলেও কোন ক্ষতির শঙ্কা নেই। দ্রুততার সাথে ধান কাটতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে হাওরের কৃষকদেরকে এবার ৫৪ টি হারভেস্টার মেশিন দেওয়া হয়েছে এবং পুরো বিভাগে দেওয়া হয়েছে ৮৩ টি।

কৃষি সম্পসারণ অধিপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ শ্রীনিবাস দেবনাথ জানান, সিলেট বিভাগের ৬৭ শতাংশ ধান কাটা হলেও হাওরাঞ্চলের ৮৬ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। বাকি ধান আগামী কিছু দিনের মধ্যেই কাটা শেষ হবে।

শ্রীনিবাস দেবনাথ বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে শ্রমিক সংকট রয়েছে। কিন্তু আগাম বন্যার পূর্বাভাস থাকায় পুরোদমে ধান কাটা চলছে। এবার হাওরে নেক ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাবে দেখা দেয়নি। যে কারণে চিটা পড়ে ধান নষ্ট হয়নি। অনুকূল আবহাওয়ায় খুবই ভালো ধান হয়েছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সিলেট বিভাগের ৪ লাখ ৭৪ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। বোরো ধানের সম্ভাব্য লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ টন।

এদিকে, সরকারিভাবে ধান কেনার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি ধান উৎপাদন হয়েছে বলে দাম না পাওয়ার শঙ্কা করছেন কৃষকরা। খাদ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে এবার ২৬ টাকা কেজি দরে সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ৫৪ হাজার ২৭৮ টন ধান কেনা হবে। এছাড়া রাইস মিল ৩৫ টাকা কেজি দরে ২৭ হাজার ৮৩৫ টন আতপ চাল ও ৩৬ টাকা কেজি দরে ৩৩ হাজার ৫২২ টন সেদ্ধ চাল কিনবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত