২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৪:২৭
ছবি: সংগৃহীত
পাবনার সাঁথিয়ায় জুমার নামাজে নির্ধারিত ইমামকে সরিয়ে নিজে ইমামতি করাকে কেন্দ্র করে চরম হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে যুক্ত হয়েছেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকরা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার জামাতের ঠিক আগ মুহূর্তে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঝামেলার আশঙ্কায় আগে থেকেই উপস্থিত থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং শেষ পর্যন্ত মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতেই জুমার নামাজ সম্পন্ন হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন গত শুক্রবারেও একই মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন স্থানীয় বিএনপি কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মুসল্লিদের আপত্তির মুখে তা সম্ভব হয়নি। গতকাল আবার তিনি নামাজ পড়াতে এলে খুতবা শুরুর মুহূর্তে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে পড়েন।
সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. করিমের অভিযোগ, "ক্ষমতা ও দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য জামায়াত এমপি অনুসারীদের নিয়ে এসে নির্ধারিত ইমামের হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন এবং মিনিট দশেক বক্তব্য দেন। এরপর তিনি নিজেই খুতবা দেওয়া ও নামাজ পড়ানোর ঘোষণা দিলে সাধারণ মুসল্লিরা আপত্তি জানান। তখন জামায়াত-শিবির ও এনসিপি কর্মীরা স্থানীয়দের ওপর চড়াও হয়ে ধাক্কাধাক্কি ও কিল-ঘুষি শুরু করলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।"
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, "আমি নিজ থেকে বা ক্ষমতার দাপট দেখাতে যাইনি, স্থানীয় মুসল্লিদের দাবির মুখে গিয়েছিলাম। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঝামেলা বাঁধায় এবং আমাদের স্থানীয় কর্মীদের মারধর করে।"
ঘটনার পর রাত সাড়ে ১০টায় সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করে বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় জামায়াতের নেতাকর্মী ও সাধারণ মুসল্লিদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অন্যায়ভাবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাক গলাচ্ছেন। এর দায়ভার তাকে এবং প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে।"
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমানকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁর অপসারণ দাবি করেন। এমপির দাবি, পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে হামলাকারীদের সুযোগ করে দিয়েছে এবং পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করতে গেলে ওসি গেট আটকে তাদের ঘুরিয়েছেন।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, "রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে বিএনপি এখন সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নিয়েছে। ফ্যাসিবাদের ভূত এখনো এদের মধ্য থেকে যায়নি। বিএনপির কাছে অনুমতি নিয়ে আমাকে মসজিদে নামাজ পড়াতে হবে—এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।"
তবে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে ঝামেলার পূর্বাভাস পুলিশের কাছে আগেই ছিল, তাই সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। নামাজের আগে সামান্য কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হলেও কোনো বড় ধরনের মারধর বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
আপনার মন্তব্য