সিলেটটুডে ডেস্ক

২০ মার্চ, ২০২৬ ১৬:০৫

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঈদ উদযাপন

বাংলাদেশে যখন ৩০ রমজান চলছিল, তখন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ ঈদ উদযাপিত হয়েছে।

চাঁদপুর
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এবারও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সাদ্রা দরবার শরিফসহ জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করা হচ্ছে।

আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় সাদ্রা দরবার শরিফ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরিফের পীরজাদা আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী। সকাল সাড়ে ৮টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার মাঠে ঈদের আরেকটি জামাত হয়। এই জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরিফের পীরজাদা আরিফুল্লা চৌধুরী।

পাশের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের টোরামুন্সীরহাট বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহমান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে লোকজন ঈদের নামাজ আদায় করার জন্য আশপাশের গ্রাম থেকে মুন্সীরহাট মসজিদে আসছেন। ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে মুন্সীরহাট বাজারে বসেছে বিভিন্ন খেলনা ও খাবারের দোকান। শিশু-কিশোরেরা দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আনন্দ করছে। তাঁরা বিভিন্ন দোকানে মুখরোচক খাবার কিনে খাচ্ছে এবং খেলার সামগ্রী কিনছে।

ঈদের নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লি মো. ইউসুফ বলেন, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ ও রোজা পালন করে আসছেন, তাঁরাও সেই পথ অনুসরণ করছেন।

আরেক মুসল্লি মির্জা আব্বাস উদ্দিন বলেন, শিশুসন্তানদের নিয়ে এসেছেন ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে। এক দিন আগে রোজা রাখায় তাদের ৩০ রোজা পূর্ণ হয়েছে। তিনি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

মুন্সীরহাট বাজারের পূর্ব পাশে টোরা ঈদগাহ ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে সকাল সোয়া ৯টায় আরেকটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মো. বরকত উল্যাহ। এই ঈদের জামাতেও কয়েক শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।

সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা আরিফুল্লা চৌধুরী বলেন, ১৯২৮ সাল থেকে তাঁরা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা এবং পবিত্র রমজানের রোজা রেখে আসছেন। প্রথমে এসব ঈদের জামাতে লোকজন কম হলেও এখন দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় ঈদ উদ্‌যাপন করা হচ্ছে।

সাদ্রা দরবার শরিফের মুসল্লি ইয়াহিয়া চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘ যাচাই-বাছাইয়ের পর আফগানিস্তান, মালির চাঁদ দেখার সংবাদ ব্যাপক প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দেহজনক হওয়ায় আমরা তা গ্রহণ করিনি। এই অবস্থায় সন্দেহের ওপর রোজা ভেঙে ঈদ করা যায় না। যার ফলে রমজানের ৩০ রোজা পূর্ণ করে আজ (শুক্রবার) ঈদ উদ্‌যাপন করছি।’

আজ ঈদ উদ্‌যাপন করা গ্রামগুলো হচ্ছে হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপপুর, বাসারা, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সীরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলব উপজেলার দশানি, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামের কিছু অংশ।

জানা গেছে, ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরিফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) সৌদি আরবসহ অন্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদ্‌যাপনের প্রথা চালু করেন।

বরিশাল
বরিশাল জেলার পাঁচ সহস্রাধিক পরিবার ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঈদ উদ্‌যাপন করা হয়। জেলার প্রায় অর্ধশত মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার সকালে বরিশাল নগরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিবাড়ি এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। সাগরদী তাজকাঠী মিয়াবাড়ী এলাকার জাহাগীরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজে কয়েক শ মুসল্লি অংশ নেন।

জানা গেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদ্‌যাপনকারী মুসল্লিরা চট্টগ্রামের চন্দনাইশের জাহাগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরিফের অনুসারী। পৃথিবীর কোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে তার সঙ্গে মিল রেখে তাঁরা রমজানের রোজা রাখা শুরু করেন এবং ঈদুল ফিতরের নামাজও আদায় করেন। একইভাবে ঈদুল আজহাও পালন করেন।

নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হরিনাফুলিয়ার চৌধুরী বাড়ি শাহ সুফি মমতাজিয়া জামে মসজিদের মুসল্লি মমিন উদ্দিন কালু জানান, তাঁদের এলাকায় প্রায় ১ হাজার পরিবার ঈদ উদ্‌যাপন করছে।

নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তাজকাঠীর হাজি বাড়ির জাহাগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া জামে মসজিদের মুসল্লি আমীর হোসেন জানান, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাগরদী, তাজকাঠীসহ আশপাশের ৫০০ পরিবার শুক্রবার সকালে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করে।

জানা গেছে, জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার খানপুরা, কেদারপুর, মাধবপাশাসহ পাঁচ-ছয়টি গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবারের ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন চলছে। মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় এবং সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন, পতাং, লাহারহাট গ্রামের জাহাগিরীয় শাহ সুফি দরবারের প্রায় ২ হাজার অনুসারী রয়েছেন।

ফরিদপুর
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১৩টি গ্রামের বাসিন্দাদের একটি অংশ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা প্রতিবছরের মতো এবারও এক দিন আগে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করেন।

গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে বোয়ালমারীর শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের সহস্রাইল, দড়ি সহস্রাইল, ভুলবাড়িয়া, বারাংকুলা, বড়গাঁ, মাইটকুমড়া, গঙ্গানন্দপুর, রাখালতলী, কাটাগড়, কলিমাঝি, বন্ডপাশা, জয়দেবপুর ও দিঘিরপাড়।

শুক্রবার সকাল থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে এসব গ্রামে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয়ে ১০টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় বোয়ালমারীর সহস্রাইল দায়রা শরিফ, রাখালতলি ও মাইটকুমরা মসজিদে। এসব ঈদের জামাতে পাশের আলফাডাঙ্গা উপজেলার শুকুরহাটা ও ইছাপাশা গ্রামের কিছু মুসল্লিও অংশ নেন।

জানা গেছে, ১৩টি গ্রামের কিছু মুসল্লি বহু বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রমজান মাসের রোজা রাখা শুরু করেন এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করে আসছেন। সেই হিসেবে তাঁরা গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতে সৌদি আরবে চাঁদ দেখার খবর নিশ্চিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের সিদ্ধান্ত নেন।

সহস্রাইল দায়রা শরিফের সমন্বয়ক মো. মাহিদুল হক বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামের মির্জাখীল শরিফের অনুসারী। সেখানকার সিদ্ধান্ত এবং সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আমরা রোজা রাখা ও ঈদ উদ্‌যাপন করে থাকি। সে অনুযায়ী এবারও আমরা ঈদ পালন করেছি।’

এ বিষয়ে শেখর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইস্রাফিল মোল্লা বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি এই এলাকার কিছু মানুষ আগাম রোজা রাখেন এবং ঈদ উদ্‌যাপন করেন। এটি তাঁদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও অনুসরণের অংশ।

ঈদ উদ্‌যাপন করা মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরিফ প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী সুফি দরবার। দরবারটির অনুসারীরা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রমজানের রোজা রাখেন এবং ঈদ উদ্‌যাপন করেন।

ভোলা
ভোলার পাঁচ উপজেলার ১৪ গ্রামের প্রায় ৩ হাজার পরিবার আজ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করছে। সকাল ৯টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা টবগী গ্রামে মরহুম খলিফা মজনু মিয়ার বাড়ির আঙিনায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে তজুমদ্দিন উপজেলার ছালাম মেম্বার বাড়ি, আব্দুল্লাহ মাঝি বাড়ি, লালমোহন উপজেলার লাঙ্গলখালীর পশ্চিম পাশে পাটোয়ারী বাড়ির জামে মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মো. রাশেদুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আমার বাবা মরহুম মজনু মিয়া ছিলেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা দরবারে আউলিয়ার সুরেশ্বর দরবার পীরের একজন মুরিদ। তিনিই ছিলেন ভোলা জেলার খলিফার দায়িত্বে। মজনু মিয়া দীর্ঘ বহু বছর ধরে এখানে সুরেশ্বর দরবার পীরের মুরিদদের নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন করেছেন।

আমার বাবার মৃত্যুর পর আমাকেই এর দায়িত্ব পালন করতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ সকালে বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নসহ জেলার পাঁচ উপজেলার ১৪টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ও রতনপুর গ্রাম, বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ও মুলাইপত্তন গ্রাম, তজুমদ্দিন উপজেলার শিবপুর, খাসেরহাট, চাঁদপুর ও চাঁচড়া গ্রাম, লালমোহন উপজেলার পৌর শহর, ফরাজগঞ্জ গ্রাম এবং চরফ্যাশন উপজেলার পৌর শহর, দুলারহাট, ঢালচর ও চরপাতিলা গ্রামে ঈদ উদ্‌যাপন করা হয়েছে।

জানা যায়, সুরেশ্বর পীরের মুরিদ ছাড়াও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এবং ভান্ডারি শরিফ পীরের মুরিদ পরিবারের সদস্যরা শত বছরের বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন করে আসছেন।

লক্ষ্মীপুর
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে লক্ষ্মীপুরে ১১টি গ্রামে ঈদ উদ্‌যাপিত হচ্ছে। জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, বারো ঘরিয়া, হোটাটিয়া, শরশোই, কাঞ্চনপুর ও রায়পুর উপজেলার কলাকোপাসহ ১১টি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লি আজ শুক্রবার সকালে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

আজ সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে রামগঞ্জ উপজেলার খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এ ছাড়াও প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লি নিজ নিজ গ্রামের ঈদগাহে নামাজ আদায় করেন। মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর অনুসারী হিসেবে এসব এলাকার মানুষ পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদিনার সঙ্গে সংগতি রেখে ঈদসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে। ৪৬ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদ্‌যাপন করছেন তাঁরা।

নওগাঁ
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুসল্লিদের একটি অংশ প্রতিবছরের মতো এবারও এক দিন আগে এই উৎসব পালন করছেন। আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৮টায় উপজেলার নজিপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলোনিপাড়ায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মো. কামারুজ্জামান।

নামাজে কয়েকটি এলাকার নারী-পুরুষসহ প্রায় ১০০ জন মুসল্লি অংশ নেন। ঈদের নামাজ আদায়ের পর তাঁরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন।

জামাতে অংশ নেওয়া স্থানীয় মেহেদী হাসান বলেন, ২০০৫ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও জেলার মহাদেবপুর, ধামইরহাট, পোরশা থেকে মুসল্লি এসে নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট ও বগুড়া থেকেও মুসল্লি আসেন।

পটুয়াখালী
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার একটি গ্রামের মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৮টায় উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদে এই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মনিরুল ইসলাম।

আয়োজকেরা জানান, সৌদি আরবের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে তাঁরা কয়েক বছর ধরে ঈদের জামাতের আয়োজন করে আসছেন। এবারও প্রায় ১০০ জন মুসল্লি জামাতে অংশ নেন। আগে ঈদের জামাত আয়োজনের জন্য থানার অনুমতি নিতে হলেও এখন মোবাইল ফোনে অবহিত করলেই হয় বলে জানান তাঁরা।

স্থানীয় মুসল্লি সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছি।’

আয়োজক কমিটির সদস্য জালাল আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘ওআইসিসহ বিশ্বের বেশির ভাগ মুসলিম আজ ঈদ উদ্‌যাপন করছেন। আমরা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে তাঁর দেখানো পথেই ঈদ পালন করছি।’

নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

রাজশাহী
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার একটি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হচ্ছে। আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৮টায় উপজেলার কৃষ্ণপুর মুসলিম জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

নামাজে ইমামতি করেন চারঘাট উপজেলার ইমাম শাজিরুল ইসলাম সাগর। এবারের জামাতে মোট ২১ জন মুসল্লি অংশ নেন। এর মধ্যে ২০ জন পুরুষ এবং একজন নারী ছিলেন।

নামাজ শেষে মুসল্লিরা জানান, চাঁদ কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের জন্য উদিত হয়। ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে সব জায়গা থেকে চাঁদ দেখা না গেলেও বিশ্বজুড়ে একই দিনে হিজরি মাস গণনা করা উচিত, এমন বিশ্বাস থেকেই তাঁরা সৌদির আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদ্‌যাপন করছেন।

জানা গেছে, গ্রামের এই পরিবারগুলো ১০ বছর ধরে এভাবে ঈদ পালন করে আসছেন। শুরুর দিকে মুসল্লি সংখ্যা কম থাকায় নিজ বাড়িতেই নামাজের আয়োজন করা হতো। মুসল্লি সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় মসজিদে জামাতের আয়োজন করা হচ্ছে। সৌদি আরবকে পৃথিবীর কেন্দ্র ধরে এবং চাঁদ ওঠার খবর নিশ্চিত হয়েই তাঁরা এই উৎসবে মেতে ওঠেন।

জামালপুর
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের তিন উপজেলায় ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার ১৪টি গ্রাম, ইসলামপুর উপজেলার পাঁচটি ও মাদারগঞ্জ উপজেলায় একটি গ্রামে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।

আজ সকাল সাড়ে ৮টায় সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টার বাড়ি জামে মসজিদ মাঠে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের জামাতে ইমামতি করেন বলারদিয়ার জামে মসজিদের খতিব আজিম উদ্দিন মাস্টার। এতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশগ্রহণ করেন।

ঈদের নামাজ পড়তে আসা মুসল্লি মো. আপন বলেন, ‘আমার পরিবার থেকে আমি একাই সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদের নামাজ আদায় করি। মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখা গেছে, তাই আমরা নামাজ আদায় করছি।’

উপজেলার বলারদিয়ার, মূলবাড়ী, সাতপোয়া, সাঞ্চারপাড়, পঞ্চপীর, পাখাডুবি, বনগ্রাম, বালিয়া, বাউসী, হোসনাবাদ, পাটাবুগা, পুঠিয়ারপাড় ও বগারপাড় গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক মানুষ এ নামাজে অংশ নেন।

বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টার বাড়ি জামে মসজিদ মাঠে ঈদের জামাতের ইমাম আজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, ‘২০ বছর ধরে আমাদের এই মসজিদের সামনে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। আগে ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ হতো। এখন বিভিন্ন জায়গায় জামায়াত ভাগ করে দেওয়ায় কিছুটা কম মুসল্লি দেখছি।’

এ ছাড়া ইসলামপুরের নৌয়ারপাড়া ইউনিয়নের রামবদ্রা গ্রামে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত