২০ মে, ২০১৬ ১৮:৩৬
কুষ্টিয়ায় খুন হওয়া হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক মীর সানোয়ার রহমান ছিলেন বাউলভক্ত। প্রগতিশীল রাজনীতির সাথেও যুক্ত ছিলেন তিনি। শুক্রবার তাকে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আহত হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুজ্জামানও ছিলেন বাউল ভক্ত।
শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া সদরের বটতৈলে সানোয়ার রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহত সানাউর রহমান সম্পর্কে সংবাদিক পুলক ঘটক ফেসবুকে লিখেছেন, 'মীর সানাউর রহমান একজন ঠিকাদার। একসময় বাম রাজনীতির সাথে ছিলেন। এখন কোনো রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নেই। সমাজ সেবা; মানুষের উপকার- এগুলো করতেন। একটা হোমিও দোকান দিয়েছিলেন যেখানে বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা দেয়া হত। তার দোকানে সম্ভবত: প্রগতিশীল ও বাউলতত্বে বিশ্বাসী লোকজনের আড্ডা হত। ছেলে পাইলট। ছেলেকে দেখতে গিয়ে ওনার স্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এর পর থেকে তিনি আরও বেশী করে সমাজ সেবা ও দাতব্য কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। আজ জঙ্গিরা তার উপর চাপাতি চালিয়েই জুম্মাবার উদ্বোধন করল। সাথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক সাইফুজ্জামান ছিলেন। তার অবস্থাও গুরুতর। ঢাকায় আনার প্রস্তুতি চলছে।'
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুর রহমান জানান, সানোয়ার ও সাইফুজ্জামানের মধ্যে বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। সানোয়ার বাউল মতের অনুসারী ছিলেন। তার সঙ্গে সাইফুজ্জামানও প্রায়ই বাউল গানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতেন।
গত দুই বছরে পীর, ফকির ও বাউলসহ সুফিবাদী ধারার বেশ কয়েকজন মানুষকে হত্যার মতো কুষ্টিয়ার এ ঘটনাতেও জঙ্গিবাদীদের হাত থাকতে পারে বলে পুলিশের সন্দেহ।
সদর মডেল থানার ওসি শাহবুদ্দিন চৌধুরী জানান, ৫৫ বছর বয়সী সানোয়ারের বাসা কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুরে। শিশিরপাড়া মাঠ এলাকায় এক বাংলো বাড়িতে প্রতি শুক্রবার গরীব রোগীদের বিনা খরচে চিকিৎসা দিতেন তিনি।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, সানোয়ার ও সাইফুজ্জামান সকালে মোটরসাইকেলে করে শিশিরপাড়ার ওই বাড়িতে যাওয়ার সময় রাস্তার ওপরেই আক্রান্ত হন। একটি মটরসাইকেলে করে আসা তিন হামলাকারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে সানোয়ারকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ সময় সাইফুজ্জামান বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল ও পরে সেখান থেকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সহকর্মীরা জানান, কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুরের এক বাসায় ভাড়া থাকতেন সাইফুজ্জামান। তিনি লেখাপড়া করেছেন বিশ্বভারতীতে।
এই কুষ্টিয়া থেকেই গত ১৫ মে শরিফুল ইসলাম ওরফে শিহাব নামে আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের সন্দেহভাজন এক সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে, যাকে ঢাকার জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব রাব্বী তনয় হত্যা মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে হরকাতুল জিহাদের (হুজি) কুষ্টিয়া অঞ্চলের প্রধানসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় গোয়েন্দা পুলিশ।
কুষ্টিয়ার পাশের জেলা চুয়াডাঙ্গায় গতবছর ১০ ডিসেম্বর খুন হন স্থানীয় একটি বাউল উৎসবের আয়োজক জাকারিয়া সরদার। তাকেও একই কায়দায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
তার আগে ২০১৪ সালের নভেম্বরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলাম লিলনকে। তিনিও একজন লালন ভক্ত ছিলেন।
আপনার মন্তব্য