১৬ জুন, ২০১৬ ১৫:৩৮
হামলার পর আহত টুটুল (ফাইল ছবি)
গত বছর ৩১ অক্টোবর লালমাটিয়ায় ‘শুদ্ধস্বর’ প্রকাশনীর কার্যালয়ে ঢুকে এর প্রকাশক আহমেদুর রশিদ টুটুলকে নিজ হাতে কুপিয়েছিলেন সুমন হোসেন পাটোয়ারি ওরফে সাকিব ওরফে সিহাব ওরফে সাইফুল (২০)। নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) এই সদস্য চাপাতি দিয়ে টুটুলকে তিনটি কোপ দেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) মিন্টো রোডে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম।
রাজধানীর বিমানবন্দরের পদচারী সেতুর পাশে বাসস্টেশন এলাকা থেকে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সুমনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিবির কাছে সুমন এ সব তথ্য দেন বলে পুলিশের দাবি।
গত ৩১ অক্টোবর লালমাটিয়ায় প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে প্রকাশক আহমেদুর রশিদ টুটুল ও আজিজ সুপার মার্কেটের ‘জাগৃতি’ প্রকাশনার কার্যালয়ে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনের ওপর পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দীপন নিহত হন ও টুটুলসহ তিনজন মারাত্মক আহত হন। পরদিন ৪ অক্টোবর এ সব ঘটনায় মোহাম্মদপুর ও শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়। এর পর ডিবি ঘটনা দুটির তদন্ত শুরু করে।
এর পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়সহ ১০ জন লেখক, ব্লগার ও ভিন্নমতাবলম্বী খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত ১৯ মে সুমনসহ এবিটির ছয় সদস্যের নাম ও ছবি ঢাকা মহানগর পুলিশের অফিশিয়াল সাইটে প্রকাশ করেছিল ডিবি। এতে তথ্যদাতাদের জন্য দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সুমন ছাড়াও বাকি পাঁচজন শরিফ, সেলিম, সিফাত, রাজু ও সাজ্জাদ নামে পরিচিত।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উত্তর বাড্ডার সাতারকুল এলাকার এবিটির একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অভিযান চালায় ডিবি। এ সময় এবিটির সঙ্গে সংঘর্ষে ডিবির এক সদস্য গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে এবিটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে এবিটির আরও পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর গত ১৩ জুন চট্টগ্রাম থেকে এবিটির আরও দুজন গ্রেপ্তার হন। এবিটির এসব সদস্যের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে হামলার সার্বিক সমন্বয়কারী ছিলেন শরিফ ও দীপন হত্যার মিশনের দায়িত্বে ছিলেন সেলিম। এসব তথ্য জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে সুমনসহ পাঁচজন জঙ্গি অংশ নেয়। এদের সবার হাতে চাপাতি ছিল। গ্রেপ্তারের পর সুমন স্বীকার করেন যে, তিনি টুটুলকে চাপাতি দিয়ে তিনবার আঘাত করেন।
সুমন মোহাম্মদপুরে এবিটির বোমা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। সে চট্টগ্রাম থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে সেখানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতো। ২০১৫ সালের প্রথম দিকে সে এবিটিতে যোগ দে। প্রথমে চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ নেয় সুমন। পরে বড় কাজের জন্য ঢাকায় আসেন সুমন। মহাখালীর একটি বাসা ভাড়া করে সুমন ও আরও কয়েক জনকে চাপাতি ও ছোট অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেয় আরেক জঙ্গি শরিফ।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সুমনের কাছ থেকে আরও তথ্য জানতে সুমনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে।
আপনার মন্তব্য