রনি ইমরান, পাবনা

২৯ আগস্ট, ২০১৯ ২০:৩৬

মেয়েটি এখন সেফহোমে

'মায়ের আঁচলের দেখা পেলনা আশ্রমের বারান্দায় শিকলে বেঁধে রাখা সেই মানসিক রোগী লুবনা। লুবনাকে রাজশাহীর সেফহোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

শিকলে বাঁধা মেয়েটি- এমন শিরোনামে দেশব্যাপী নিউজটি প্রচার হওয়ার পর চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থেকে লুবনার স্বজনদের খোঁজ পাওয়া যায়। খোঁজ পাওয়ার পর চট্টগ্রামের স্থানীয় সাংবাদিকরা লুবনার ব্যাপারে তাদের জানায়, কিন্তু স্বজনরা তাচ্ছিল্য করেন এবং লুবনাকে চেনেনা বলে অস্বীকার করেন।

এদিকে আগে থেকেই মা সকল বাঁধন ছিন্ন করে নতুন ঘর বাঁধার আশায় মেয়েকে শিকলে বেঁধে চলে গেছে। একবারের জন্য মেয়েটিকে দেখতে মমতার আঁচল নিয়ে ফিরেও আসেনি সে। অন্যদিকে চন্দনাইশ হাজীপাড়ায় তার নিকট আত্মীয়রা লুবনাকে অস্বীকার করেছে। এমন অবস্থায় স্বজনহীন অসহায় এই মেয়েটির সম্পর্কে পাবনা জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ জানতে পারেন এবং একজন অভিভাবকের মতো গুরুত্ব সহকারে তা আমলে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ আগস্ট আদালতের আদেশ অনুযায়ী লুবনাকে পাবনা শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দ্র ঠাকুরের আশ্রম থেকে রাজশাহীর সেফহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। পাবনা জেলা সমাজ সেবা অফিসের প্রবেশন অফিসার মো. পল্লব ইবনে শায়েখ লুবনাকে আশ্রম থেকে নিয়ে যান রাজশাহীর সেফহোমে।

পল্লব জানান, তাকে সেফহোমে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এদিকে মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। হাসপাতালে সিট খালি হলেই লুবনাকে সেখানে ভর্তি করা হবে। এক পর্যায়ে মেয়েটি যখন সুস্থ হয়ে যাবে তখন তার পরিবার বা স্বজনদেরকে আইনি প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে আনার চেষ্টা করা হবে। যদি তারা না আসে তবে অসহায় এই মেয়েটির সেফহোমেই হবে আশ্রয়স্থল।

পাবনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটা খুবই কষ্টদায়ক, একজন মা কীভাবে তার সন্তানকে এভাবে ফেলে যেতে পারেন! আর স্বজনরাই বা কেন অস্বীকার করছেন; এটা মানবিক নয়।

দৈনিক জনকণ্ঠ পাবনার সাংবাদিক কৃষ্ণ ভৌমিক বলেন, মেয়েটার বিষয়ে প্রথম জানতে পারি আমার সহধর্মিণীর কাছে থেকে। শুনে খুবই কষ্ট লেগেছে। আমি একজন প্রতিবেদকের মাধ্যমে তার স্বজনদের যাতায়াতে খরচ দেওয়া অফার করলেও তারা আসেনি। এটা খুব কষ্টের।

উল্লেখ্য, লুবনার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে অনেক আগেই। লুবনার মা গতদুই মাস আগে লুবনাকে পাবনা বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করাতে নিয়ে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় শেষমেশ আর ভর্তি করাতে পারেনি। হোটেল থাকার সামর্থ্য না থাকায় শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দ্র ঠাকুরের আশ্রমের বারান্দায় আশ্রয় নেয় মা-মেয়ে দুইজন। কিন্তু সকালে আলো ফোটার আগেই মেয়েকে শিকলে বেঁধে রেখে পালিয়ে যান মা। এমন অবস্থা গত দুই মাস আশ্রম কর্তৃপক্ষ যুবতী মেয়েটিকে নিয়ে বিপাকে পড়ে যায়। তখন কৈতুরী বেগম নামের এক নারী মায়ের আদরে তার দেখাশোনা করেন।

স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি জানার পর তা প্রচার করতে শুরু করে এবং এর প্রেক্ষিতে খবর পৌঁছে যায় লুবনার নানাবাড়ির চট্টগ্রামের চন্দনাইশের হাজীপাড়াতে। সেখানে তার আত্মীয় প্রিয়জনেরা এমন সংবাদে উতলা না হয়ে তাচ্ছিল্য করে এড়িয়ে যায়। এমনকি লুবনাকে চেনে বলে অস্বীকার করেন। এমন এক পরিস্থিতিতে সেফহোম ছাড়া কোনও দরজা আর খোলা ছিলো না তার।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত