০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:৪০
কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা শীর্ষ সন্ত্রাসী নুর মোহাম্মদ ওরফে নুর আলম (৩৪) নিহত হয়েছে। সে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার আসামি।
রোববার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে টেকনাফের জাদিমুরা রোহিঙ্গা শিবিরের পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস এ তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, নুর চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সে নুর আলম নাম নিয়ে ‘স্মার্টকার্ড’ও নিয়েছিল। রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশনের ঠিকানায় বাংলাদেশি স্মার্টকার্ড তৈরি করেছেন। কার্ডে নাম দিয়েছেন নুর আলম। পিতার নাম কালা মিয়া এবং মাতার নাম সরু বেগম। জন্ম তারিখ ২৫ নভেম্বর ১৯৮৩ ইংরেজি। এনআইডি নম্বর-৬০০৪৫৮৯৯৬৩। স্মার্টকার্ডে উল্লেখ তার স্থায়ী ঠিকানা হচ্ছে পশ্চিম ষোলশহর পার্ট-২, হিলভিউ রোড, ৪২১১ পাচঁলাইশ, চট্টগ্রাম।
এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছে। তারা হলেন, থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহা (৩৬), কনস্টেবল আশেদুল (২১), অন্তর চৌধুরী (২১) আহত হয়।
ওসি বলেন, টেকনাফের জাদিমুরা রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড়ি এলাকায় যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার আসামি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদের অবস্থান নিয়েছে এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে সন্ত্রাসীরা পিছু হটলে সেখান থেকে নুরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শংকর চন্দ্র দেব নাথ বলেন, রবিবার সকালে পুলিশ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ এক রোহিঙ্গাকে নিয়ে আসেন। তার বুকে ও পেটে ৬টি গুলির চিহ্ন রয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ওসি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদক ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। নিহত রোহিঙ্গার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
আপনার মন্তব্য