২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৬:১৩
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিনদিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাকে নানা অভিযোগ জানাতে গিয়ে বৈঠক চলাকালীন সময়ে উঠে এসেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।
মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে বিভিন্ন অভিযোগ জানাতে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন।
ঐক্যফ্রন্ট নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ‘আচরণ’ দেখে এবং অভিযোগ শুনতে অনীহার কারণে বৈঠকের দেড় ঘণ্টার মাথায় তারা সভা ত্যাগ করে বেরিয়ে আসেন।
সভা থেকে বেরিয়ে এসে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, সারা দেশে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের হত্যা, আক্রমণ অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। পুলিশ বিরোধী দলের ওপর চড়াও হচ্ছে। বিষয়গুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে জানিয়েছি। কিন্তু তার আচরণ দেখে মনে হয়েছে তিনি এতে গুরুত্ব দেননি। এসব বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দেখাননি। এমন আচরণ করেছেন যেন আমরা মিথ্যা অভিযোগ করেছি। এ অবস্থায় আমরা সভা বর্জন করে সেখান থেকে উঠে এসেছি।
মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১০ জন নেতা আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে করতে যান। বৈঠকের একপর্যায়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সভা ত্যাগ করে উঠে আসনে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আসলে সরকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে। নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে তার জবাব জাতির কাছে এসে গেছে। ঢাকা শহর দেখে মনে হচ্ছে না দেশে নির্বাচন হচ্ছে। এ নির্বাচন সাংবিধানিক ধারা রক্ষার নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্য কি?
নির্বাচন থেকে সরে আসবেন কি না এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, এ সিদ্ধান্ত জনগণ নেবে। তবে আমরা সরকারকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেব না।
ঐক্যফ্রন্ট নেতা এবং গণস্বাস্থ্যের কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, পুলিশ সর্বত্র লাঠিয়াল বাহিনীর কাজ করছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিষয়টি আমরা বলার পর তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন। আমরা তাকে বলেছি সাংবাদিকেরা ভালোভাবে চলাফেরা করলে জনগণের লাভ হতো সেটা বন্ধ করে দিয়েছেন। মনে হচ্ছে উনি ওপরের কারও নির্দেশে চলছেন।
তিনি বলেন, অভিযোগ জানানোর সময় আমরা ভেবেছিলাম সিইসি সহানুভূতি দেখাবেন। কিন্তু তিনি তার ধারের কাছেও গেলেন না। উল্টো পুলিশের পক্ষ নিলেন।
বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, সেনাবাহিনী ইসির নিয়ন্ত্রণে। তাদের বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। তাদের ক্যাম্পে রেখে পুলিশ তাণ্ডব চালাচ্ছে। এসব করে সেনাবাহিনীকে হেয় করা হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ ড. কামাল হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
আপনার মন্তব্য