আজ মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১ ইং

Advertise

এগিয়ে যাক বাংলাদেশ

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী  

অভিনন্দন গণহিতৈষী ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে! গণতান্ত্রিকভাবে বাংলাদেশের চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে (২০২১) কমনওয়েলথভুক্ত চুয়ান্নটি রাষ্ট্রের তিনজন অনুপ্রেরণাদাত্রী নারীর একজন হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নাম ঘোষণা করেছেন কমনওয়েলথের মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসি। সমগ্র করোনাকালে নিঃস্বার্থভাবে দেশের মানুষকে যেভাবে শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিয়েছেন তা বিরল বিশ্বে। বঙ্গবন্ধু কন্যার পাশাপাশি অন্য দু’জন যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা হচ্ছেন- নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডেন এবং বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলে।

একজন যোগ্য বৈশ্বিক নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘকাল ধরে তার সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখে চলেছেন। তার যোগ্য নেতৃত্ব এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি সময় ছিল যখন প্রবৃদ্ধিকে উন্নয়নের হাতিয়ার মনে করা হতো। তবে আশির দশক থেকে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মৌলিক চাহিদা পূরণের সক্ষমতার কথা অর্থনৈতিক উন্নয়নের সংজ্ঞায় জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। আসলে রাষ্ট্রের যখন উন্নয়ন হয় তখন অবশ্যই ক্ষুধা থেকে মুক্তি, পরনির্ভরতা থেকে মুক্তি এবং কুসংস্কার থেকে মুক্তির প্রয়োজন হয়। নারী-পুরুষ সমতাভিত্তিক উন্নয়ন একটি দেশের জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন। কিছু কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী কিন্তু নারীর অগ্রযাত্রাকে পেছনের দিকে ঠেলে দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া, টুইটার, লিংকেভিন ফেসবুকসহ নানাভাবে অপপ্রচার করে চলেছে। কারও কারোর বক্তব্য নারী মর্যাদার ক্ষেত্রে রীতিমতো অবমাননাকর। অথচ এগুলো বিভিন্ন মিডিয়া/বিভিন্ন বৈঠকে প্রচারিত হতে পারে তারা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেঁচে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার স্বদেশ থেকে বিদেশে গিয়ে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালায়। অথচ নারীর সমঅধিকার হচ্ছে দেশের অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত পথ ধরে পুরুষ-নারীর সমতাভিত্তিক উন্নয়ন। আর এ সমতাভিত্তিক উন্নয়ন করতে গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজন সর্বাগ্রে দরকার।

সরকার তার সাধ্যমতো করোনাকালেও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়াস গ্রহণ করেছে। তবে বেসরকারি খাতের একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কর্মসঙ্কোচন নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা উল্লেখ করেছে, কমনওয়েলথের মহাসচিব মন্তব্য করেছেন যে, আরও অনেক নারীর সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ অন্য দু’জন নেত্রী তাঁর কাছে এমন একটি বিশ্বের জন্য প্রত্যাশা জাগিয়েছেন, নারী ও পুরুষের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ জাগ্রত করবে এবং বিশ্বব্যাপী সবার মঙ্গল সাধন করবে। শেখ হাসিনা একজন খাঁটি বাংলাদেশী নেত্রী যিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় পুষ্ট এবং নারী অগ্রগতির ক্ষেত্রে কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। পাশাপাশি শেখ হাসিনা বৈশ্বিক নেত্রীও বটে। তার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব গুণের পাশাপাশি মানবিক গুণাবলী দেশ ও বিশ্বের অন্যান্য মানুষের আত্ম উন্নয়নে সমধিক অনুসৃত। যদি সবাই নেত্রীর ইচ্ছা স্বপ্ন ও নির্দেশনা, সততা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার আলোকে বাস্তবায়ন করতেন তবে দেশের অগ্রগতি আরও বেশি সাধিত হতো, হতো টেকসই ।

১৯৯৬ থেকে তার পথচলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। মাঝখানে ষড়যন্ত্রকারীদের কারণে কিছুটা সময় বিবর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু আবার ২০০৯ থেকে পুনরায় অবিরাম গতিতে পথচলা। দেশে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কিন্তু পর্যাপ্ত হচ্ছে না। যারা উচ্চবিত্ত অনেকেই দেশের মধু খেয়ে অন্য দেশে বিনিয়োগে উৎসাহী। এটা আমাদের উন্নয়নের জন্য প্রতিবন্ধকতাস্বরূপ। কেননা তারা যখন অন্যত্র বিনিয়োগ করে তখন এটি কিভাবে দেশ থেকে অর্থ পাচার হয়ে যায় সেটি খুঁজে বের করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের। অথচ তারা মরুভূমির মধ্যে মুখ গুঁজে উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিংয়ের বিপক্ষে কোন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা কি নিতে পেরেছে? কোন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কি কাউকে দেয়া গেছে। যদি এমন হয় তবে তো একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের ক্ষেত্রে পুঁজি পাচার একটি সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। ইতোমধ্যে দেশ থেকে পুঁজি পাচার হয় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেরিয়েছে। এটির সত্যতা যাচাই করার দায়িত্ব অর্থ মন্ত্রণালয় এবং গোয়েন্দাদের।

যে দুর্বার গতিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দর্শন শেখ হাসিনা শুরু করেছেন সেটি সফল হতে হলে দেশের পুঁজি দেশে থাকতে হবে। তার আমলে গ্রামীণ অঞ্চলের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কিন্তু উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে দক্ষ জনসম্পদের প্রয়োজন। দক্ষ জনসম্পদের পাশাপাশি এ জন্য দরকার সুসমন্বিত উপায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ শেষে উপযুক্ত কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে মাত্র ২৭% কাজ করে থাকে। বাদ বাকিরা অন্যত্র বদলি হয়ে যান। ৭৩% তাদের সুবিধামাফিক অন্য কাজ করে থাকে। সরকার অর্থায়ন দিয়ে লোকবল তৈরি করতে চায়। কিন্তু সুসমন্বিত কর্মসূচির কারণে দক্ষরা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে থাকেন না।

বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থায় সরকারপ্রধানের নির্দেশনায় কিছুটা শৃঙ্খলা স্বাস্থ্যখাতে আসছে। তার পরও যেতে হবে অনেক দূর। প্যাশেন্ট ইভ্যালুয়েশন ফর্ম প্রতিটি হাসপাতালে রোগীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে কি ধরনের চিকিৎসা পাচ্ছে, তার মূল্যায়ন করা দরকার। এমনিতে বড় বড় কথা বলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। অসৎ ব্যক্তিরা এবং দুর্নীতিগ্রস্তরা অনেক ক্ষেত্রেই বড় বড় কথা বলেন, যা ঠিক নয়। তার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে গেলে দেখা যায় কি ধরনের অব্যবস্থাপনা। যেখানে কমফোর্টের একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ৫০০ টাকা নেন, সেখানে তার নগর হাসপাতালে আউটডোরে প্যাশেন্ট দেখালে লাগে ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা। এত উচ্চমূল্য, অথচ দাবি করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার জন্য নগর হাসপাতাল গণস্বাস্থ্যে পরিচালিত হয়। প্রস্তাবনা রাখছি, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল এবং সাভারের গণস্বাস্থ্য মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যক্রম নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, যারা চিকিৎসক রয়েছেন, নার্স রয়েছেন তাদের যোগ্যতা, প্যাথলোজিক্যাল ল্যাবের অব্যবস্থাপনা এবং গরিব-দুঃখী রোগীদের কাছ থেকে বীমা করা বা বীমাবিহীন উভয় গ্রুপ কেমন চিকিৎসা পাচ্ছে এবং গণস্বাস্থ্য কর্তৃক তৈরি ওষুধের মান পরীক্ষা করে দেখার জন্য। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের প্রয়াস কেন অবহেলিত হচ্ছে সেটি দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসক ও তৎসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে খুঁজে বের করতে হবে।

সরকারপ্রধানের ইচ্ছায় কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এগুলোকে কিভাবে আরও ভালভাবে পরিচালনা করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। করোনাকালে স্যাটেলাইট ক্লিনিক এবং টেলিমেডিসিন ব্যবস্থাপনার ওপর গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি এক বিরূপ চিত্র। তাদের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দিচ্ছিল না। এই ভয়ানক অব্যবস্থাপনার চিত্র দেশে প্রকট হয়ে উঠেছে। প্রতিকার করা দরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে স্বাস্থ্য শিক্ষা থেকে আরম্ভ করে দেশে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি করা জরুরি ও আবশ্যক হয়ে পড়েছে। দেশে গুণগত মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেলে মানুষ নিশ্চয়ই বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাবে না। একজন নার্স বা চিকিৎসক বিদেশে গেলে বিদেশীরা যে আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করেন হয়ত রোগীর আধিক্যে আমাদের দেশের চিকিৎসক এবং নার্সরা সে ধরনের কাজ ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও করতে পারেন না। বিদেশী চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য খাত পর্যালোচনা করে স্বল্প খরচে, সৎ ও নির্ভুল ডায়াগনোসিস করে চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়নের একটি প্রকল্প দুটো পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পর পর যদি অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তবে অবশ্যই দেশে স্বাস্থ্য খাতের পর্যটন শিল্পে (ইনবাউন্ড মেডিকেল ট্যুরিজম) গড়ে উঠতে পারে।

কুসুম কুমারী দাশের সেই অনবদ্য পঙক্তি, ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’। আসলে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর উচিত তার প্রতিষ্ঠানকে আগে ঠিক করা বড় বড় কথা না বলে। কুসুম কুমারী দাশ ‘আদর্শ ছেলে’তে আরও লিখেছিলেন, ‘মনেপ্রাণে খেটে সবে, শক্তি কর দান, তোমরা মানুষ হলে দেশের কল্যাণ।’ কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে সবাইকে নিজ নিজ স্থানে থেকে লড়তে হবে, মঙ্গল করতে হবে। অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে অথবা মিথ্যা দোষারোপের বেসাতী করে আর যাই হোক কখনও সত্যকে অম্লান করা যায় না। সর্বাগ্রে নিজের ঘর গুছিয়ে বাইরের দিকে তাকাতে হয়।

পরজীবীদের দিয়ে আর যাই হোক কখনও উন্নয়ন হয় না। উন্নয়নের চক্রে অবশ্য দুর্নীতির বিরোধিতা, পরস্পর লুণ্ঠনহীনতা, ভূমির নিরাপত্তা, টেবিলে টেবিলে দান বাক্স থাকা বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়েছে। সে জন্যই সরকার বিডার মাধ্যমে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে চেয়েছে। যদিও অগ্রগতির ধারা বোঝা যাচ্ছে না। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রতি স্তরে স্তরে ধাক্কা তুলে দেয়া গেলে অবশ্যই দেশে উদ্যোক্তাদের সহজে ব্যবসা করার ইচ্ছা পূরণ হবে। নিজের সম্পত্তিতে অধিকার কিন্তু ব্যবসা সহজীকরণের অন্যতম উপাদান। এ উপাদানটিকে কার্যকর করতে সততা ও নিষ্ঠাবান হতে হবে প্রতি স্তরে যুক্ত ব্যক্তিবর্গকে। দুঃখজনক যে, একজন নিম্নপদস্থ ব্যক্তিও তার স্তরে বসে আমাদের মতো সাধারণ জনমানুষকে যেভাবে নাকানি চুবানি খাওয়ান, তাতে মনে হয় ইংরেজরা-পাকিস্তানীরা এবং জিয়া-এরশাদ ও খালেদার আমলে যে ধরনের প্রেতাত্মা তৈরি করে গেছে তারা প্রত্যেকেই নিজের স্তরে যেন রাজায় পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ভূমির ওপর খাজনা ও পৌর কর দেয়ার পর যাতে সঠিক নিয়মে অধিকার থাকে এবং যারা অন্যের ভূমির লুণ্ঠনে ব্যাপৃত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিধান রেখে আইন করা উচিত।

দুর্বৃত্তরা সাধু কথায়, সুপরামর্শে নিবৃত্ত হচ্ছে না। সরকার চাচ্ছে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডকে সহজ করার জন্য ১০০ এর নিচে সূচককে আনয়ন করতে। আজকে যে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে তার কৃতিত্ব সরকারপ্রধানের। বটবৃক্ষের মতো শেখ হাসিনার ছায়াতলে বসে অন্যরা চলছেন। যাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে তারা সঠিক পন্থায় কাজ করছেন কিনা সেটি দেখা দরকার। যারা অন্যায়ের সিন্ডিকেট কোন কোন ক্ষেত্রে করতে চাচ্ছে তাদের দেখাও সরকারের কর্তব্য। তাদের বিচার হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে আমরা স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি পালন করতে যাচ্ছি। যে বঙ্গবন্ধুর জন্য দেশ স্বাধীন হলো, যিনি ৭ মার্চের ভাষণে সুস্পষ্টভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার জন্মশতবার্ষিকী চলছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের কল্যাণের আকাঙ্ক্ষায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উৎসর্গ করেছেন। করোনাকালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর নানা কর্মসূচি কাটছাঁট করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবসেবা করেছেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে বিভিন্ন জনকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ায়। যারা ভাল প্রকৃতির তারা তার নির্দেশ শুনেছেন। আর কিছু কিছু লোক প্রকিউরমেন্টের নামে কতটুকু সৎ ছিলেন সেটি এখন পর্যালোচনা করে খুঁজো বের করা দরকার। শিক্ষা ক্ষেত্রে অনলাইন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। অনলাইনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অনেক আগেই সরকার ৪জি চালুর ব্যবস্থা করলেও সার্ভিস প্রোভাইডাররা যে ধরনের সার্ভিস দিচ্ছে তা মোটেও ৪ জি-এর সমতুল্য নয়। করোনাকালে সততার সঙ্গে কেবল টেলিটক ব্যবসা করেছে। ৮ মার্চ নিলামে ওঠা পুরো তরঙ্গ বিক্রি হয়ে গেলেও টেলিটক তেমন তরঙ্গ কিনতে পারেনি। সব মিলিয়ে গ্রামীণফোনের তরঙ্গ ৪৭.৪, রবি ৪৪, বাংলালিংক ৪০ ও টেলিটকের ২৫.২ মেগাহার্টজে দাঁড়িয়েছে। ধানমণ্ডিতেই গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক তেমন পাওয়া যায় না। বার বার কাস্টমার কেয়ারে চেয়ে কমপ্লেইন করেও গত দু’বছরে সুরাহা হয়নি। অধিক তরঙ্গ কিনে তারা কি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো ব্যবসা করতে চায়? ওলিগোপলিস্টিক নেচার থেকে কি তারা বাজারের অন্যদের তাড়িয়ে মনোপলি হতে চায়? একচ্ছত্র আধিপত্য নিলে অনলাইনের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী, ম্যাক্রো ও ফিন্যান্সিয়াল ইকোনমিস্ট; ইমেইল: Pipulbd@gmail.com

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ৩৪ অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ৩০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৭ আরিফ রহমান ১৬ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৫০ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইনাম আহমদ চৌধুরী ইমতিয়াজ মাহমুদ ৬১ ইয়ামেন এম হক একুশ তাপাদার এখলাসুর রহমান ২৭ এনামুল হক এনাম ৩৩ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ৩১ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩৫ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১৫ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জাকিয়া সুলতানা মুক্তা জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৮৩ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ১২ ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার তোফায়েল আহমেদ দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৭ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩৪ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৮ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১৬৭ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৫০ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক ১৪ রণেশ মৈত্র ১৮৩ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ৩৫ রাজেশ পাল ২৫ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩৪ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম আহমেদ ২০ শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা

ফেসবুক পেইজ