আজ শনিবার, ০৬ জুন, ২০২০ ইং

Advertise

সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ আইন ও একটি প্রতিশোধের ইতিহাস

রাজেশ পাল  

নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশনার অমান্য করলে সরকার সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ ( ২০১৮ সনের ৬১ নং আইন ) প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি ইতালি থেকে আসা প্রবাসীরা কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সংবাদটি দৃষ্টিগোচর হওয়ায় ভাবলাম এটা নিয়ে কিছু আলোচনা করি।

এই আইনের ১১ ধারায় বলা হয়েছে-

(১) মহাপরিচালক, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, আদেশ দ্বারা, নিম্নবর্ণিত কোনো এলাকাকে সংক্রমিত এলাকা হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবেন, যথা:-

(ক) বাংলাদেশের স্থানীয় কোনো এলাকা বা অঞ্চল যাহা কোনো সংক্রামক ব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত হইয়াছে বা আক্রান্ত হইয়া থাকিতে পারে মর্মে যুক্তিসঙ্গতভাবে সন্দেহ হইতেছে;

(খ) সংক্রমণের বিস্তার নির্মূল বা সীমিত করিবার জন্য সংক্রমিত ব্যক্তি কর্তৃক ব্যবহৃত দ্রব্যাদি, গৃহ, আঙ্গিনা, বাসস্থান বা যানবাহন।

(২) মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংক্রামক রোগ সীমিত বা নির্মূল করা সম্ভব নহে, তাহা হইলে তিনি সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে বা সংক্রমিত স্থানে অন্য কোনো ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ, সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবেন।

(৩) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

১৪ ধারায় বলা হয়েছে- "যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোনো সংক্রমিত ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করা না হইলে তাহার মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত হইতে পারেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তিকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, সাময়িকভাবে অন্য কোনো স্থানে স্থানান্তর বা জনবিচ্ছিন্ন করা যাইবে।"

২৪ ধারায় বলা হয়েছে-
"যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক জীবাণুর বিস্তার ঘটান বা বিস্তার ঘটিতে সহায়তা করেন, বা জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও অপর কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত ব্যক্তি বা স্থাপনার সংস্পর্শে আসিবার সময় সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি তাহার নিকট গোপন করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।"

২৫ ধারায় বলা হয়েছে- "(১) যদি কোনো ব্যক্তি-

(ক) মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তাহার উপর অর্পিত কোনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, এবং

(খ) সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন,

তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

২৬ ধারায় বলা হয়েছে- (১) যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদান করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ২ (দুই) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

২০ ধারায় বলা হয়েছে- (১) যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগে মৃত্যুবরণ করেন বা করিয়াছেন বলিয়া সন্দেহ হয় তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির মৃতদেহ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নির্দেশনা মোতাবেক দাফন বা সৎকার করিতে হইবে।

(২) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

বোঝাই যাচ্ছে , বৃহত্তর জনগণকে সংক্রামক ব্যাধি থেকে নিরাপদ রাখাই এই আইনের মুখ্য উদ্দেশ্য।

উপমহাদেশে এই ধরণের আইন কিন্তু এটাই প্রথম নয়। এধরণের প্রথম আইনটি ছিলো ,The Epidemic Diseases Act, 1897( ACT NO. III Of 1897 )

১৮৯৭ সাল ছিলো মহারাণী ভিক্টোরিয়ার ভারত শাসনের সুবর্ণজয়ন্তী। আর সে বছরই প্লেগ মহামারি রূপে ছড়িয়ে পড়ে মহারাষ্ট্রে। কাকতালীয় ব্যাপার হলো আজকের করোনার মতো সেদিন এই প্লেগ মহামারিও শুরু হয়েছিল ১৮৫৫ সালে চীনের ইউনান প্রদেশে। এই বুবোনীয় প্লেগের পর্বটি সমগ্র মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ভারত ও চীনে ১২ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারা যায়, প্রায় ১০ লাখ মানুষ মারা যায় শুধুমাত্র ভারতেই। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের মতে, এই মহামারিটি ১৯৬০ সাল পর্যন্ত সক্রিয় ছিল, যখন বিশ্বজুড়ে হতাহত সংখ্যা প্রতি বছর ২০০ ছাড়িয়ে যায়।

প্লেগ দমনের জন্য সাঁতারা থেকে বদলি করে কুখ্যাত ব্রিটিশ অফিসার র‍্যান্ড সাহেবকে পাঠিয়ে দেওয়া হল প্লেগ কমিশনার করে। তার স্বেচ্ছাচারে স্তম্ভিত হয়ে গেল সারা দেশ। ভারতীয় নেটিভদের অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেন তিনি। প্লেগ দমনের নামে তিনি শুরু করলেন অকথ্য অত্যাচার। কোনো মহল্লায় যদি একটিমাত্রও প্লেগ রোগী পাওয়া গেছে তবে র‍্যান্ড সাহেবের হুকুমে সেই বস্তির ঘরে আগুন দিতে শুরু করল সেনাবাহিনী। মানুষের ঘরের জিনিসপত্র সরিয়ে নেবারও সময় দিল না ওরা।
প্রতিবাদে ফেটে পড়ল দেশের মানুষ। মহারাষ্ট্রের 'কেশরী’, কলকাতার অমৃতবাজার পত্রিকায় সম্পাদকীয়তে তা ছাপা হলো। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার বাধ্য হয়ে একটি কমিশন গঠন করল। কমিশন খুঁজে দেখবে প্লেগ দমনের নামে কোনও অন্যায় কেউ করছে কিনা!

আশ্চর্যের কথা, কমিশন তাদের রিপোর্টে বললেন: “The system of discovering plague cases by house-visitation is absolutely intolerable to the people who looked upon the plague-measures as more horrible than the plague itself."

ইংরেজ সরকার র‍্যান্ড সাহেবকে সতর্ক, এমনকি অনুরোধ পর্যন্ত করেন না যাতে তিনি সংযত হন। কমিশন নিয়োগে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে র‍্যান্ড। তার অত্যাচারের মাত্রা সে বাড়িয়ে দিল আরও এক কাঠি। হুকুম দিলেন, "এরপর সন্দেহের বশবর্তী হয়ে প্লেগ রোগীর প্রতিবেশীর ঘরে আগুন দেবার পূর্বে সে বাড়ির প্রতিটি লোককে ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে। দেখতে হবে তারা রোগাক্রান্ত কিনা।

আপাতদৃষ্টিতে এ উপদেশ মানা যুক্তিপূর্ণ হলেও কার্যক্ষেত্রে তার প্রয়োগবিধী পিছনে দেখা গেল বিকৃতকামীর এক ন্যক্কারজনক মনোবিকার। রাইফেলের বেয়নেট নিয়ে ফিরিঙ্গি সেপাই ঘিরে ফেলে একের পর এক মহল্লা। নরনারী নির্বিশেষে প্রতিটি বাসিন্দাকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে উন্মুক্ত স্থানে তাদের জড়ো করে ওরা। তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা একদিকে চলে পরীক্ষাকার্য, অন্যদিকে একদল সেপাই গিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় খালি বস্তিতে। বিবস্ত্র নরনারী ছুটে যায় সেদিকে।

ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে রাখা ১১ মার্চ, ১৮৯৭ সালের ‘মিত্র’ পত্রিকা, (মহারাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত)-তে সম্পাদকীয় লেখা হয়, "The men are completely stripped in presence of others and made to wait in that position for some time while the women are asked to undo their cholies (bodices) and to hold up their wearing apparel in presence of others."

এই পৈশাচিক খেলার অবসান দাবি করে শহরের গণ্যমান্য কয়েকজন। প্লেগ কমিশনারের এজলাসে এক গণডেপুটেশন দেওয়া হল ১২ এপ্রিল তারিখে। এরআগেই গণতি পূজা আর শিবাজী উৎসব হয়ে গিয়েছিল তাই র‍্যান্ড সাহেবকে হাসতে হাসতে বললেন, দেখুন, মুসলমান পর্দানশীন মহিলাদের ক্ষেত্রে আমি একান্তে পরীক্ষার নির্দেশকারী করতে রাজি আছি, কিন্তু হিন্দু নারীর ক্ষেত্রে প্রকাশ্য দিবালোকে এবং সর্বসমক্ষেই পরীক্ষাকার্য চালাতে হবে। এ আদেশের কোন পরিবর্তন হবে না।

জননী-জায়া ভগিনী-বনিতা অপরিসীম অবমাননায় আগুন ধরে গেল মহারাষ্ট্র তারুণ্যের ধমনীতে। আক্রোশে ফুঁসছে সারা দেশ—প্রতিশোধ চাই। প্রতিশোধ চাই।

মারাঠা জাতীয়তাবাদের নেতা বালগঙ্গাধর তিলক কেশরী পত্রিকাতে লিখলেন, “তোমরা দেখ! দুঃশাসন আজ দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করে পৈশাচিক উল্লাসে হাসছে। দর্পহারী মধুসূদন। কোথায় তুমি? তোমার সুদর্শনচক্র নেমে আসার সময় কি এখনও হয়নি চক্রপাণি?” তার এই লেখার কারণে দেড় বছরের জন্য তাকে কারাবন্দি করল ইংরেজ সরকার।

এরই বদলা নিলেন বিপ্লবী চাপেকর ভাইরা। বড় ভাই দামোদর চাপেকর কারারুদ্ধ নেতা গঙ্গাধর তিলকের প্রবন্ধ পড়ে সে স্থির করে ফেললেন র‍্যান্ড সাহেবকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে। তিনি তার দুই ভাই আর প্রিয় বন্ধু রাণাডেকে জানালেন সকল কথা। ওরা রাজি হয়ে গেলেন। চারজনে একদিন মায়ের কাছে বিদায় নিয়ে চলে এলেন পুনার লৈখদিপুল মহল্লার একটি বস্তিতে। মহামারির প্রকোপে মহল্লায় মন্দিরের পুজো বন্ধ। জাতে ব্রাহ্মণ দামোদরের পুরোহিত হিসেবে মন্দিরে আশ্রয় পেতে অসুবিধা হলো না। পাশের মাঠেই বোঝাই নেটিভ ইনফ্যান্ট্রির চতুর্দশবাহিনী ছাউনি ফেলেছে। দামোদর ওদের বাহিনীর কয়েকজনের সঙ্গে ভাব জমালো। কদিন পরেই মিলিটারি ছাউনি থেকে চুরি গেল দুটি মার্টিন হেনরি রাইফেল এবং দুটি তলোয়ার। মন্দিরের দেবী প্রতীমার নিচে লুকিয়ে রাখা হলো অস্ত্রগুলো। দামোদরের স্থির সঙ্কল্প অ্যাটেম্পট-টু-মার্ডার নয় ইন্সট্যান্টেনিয়াস ডেথ হওয়া চাই।

অবশেষে এলো সেই সুযোগ: ২২ জুন ১৮৯৭।
মহারাণী ভিক্টোরিয়ার জুঝিলী-উৎসবের রাত; সারা পুণা শহরে সেদিন আলোর মেলা। ভারত সম্রাজ্ঞী মহারাণী ভিক্টোরিয়ার জুবিলী উৎসব। গভর্নমেন্ট হাউস থেকে রাত সাড়ে সাতটায় বের হয়ে এল পর পর দুখানি ব্রুহাম গাড়ি, প্রথমটায় সজ্জিত কমিশনার র‍্যান্ড; দ্বিতীয়টায় তার সহকারী আয়ার্স্ট; সস্ত্রীক। দুটি গাড়ির দূরত্ব প্রায় পঞ্চাশ হাত। সন্ধ্যা থেকেই রাজবাড়ির সামনে, ফটক থেকে একটু দূরে গাছের আড়ালে লুকিয়ে ছিল দামোদর আর তার সহকারী রাণাডে। এগিয়ে আসছে র‍্যান্ড সাহেবের গাড়ি। ঐ একই ছন্দে দামোদরের বুকে বাজছে মৃদঙ্গ। ব্যবসায়ী জামসেদজি জীজীয়ের বাড়ির কাছাকাছি গাড়িটা এগিয়ে আসতেই গতি একটু কমে এল, এবার মোড় ঘুরতে হবে। তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ গতিতে, অন্ধকারের বুক চিরে বের হয়ে এল দামোদর। পিছন থেকে শোনা গেল মেজ ভাই বালকৃষ্ণের সঙ্কেত— ন্যারা, ন্যারা।

ব্রুহাম গাড়ির পিছনে দাঁড়িয়ে ছিল একজন গার্ড। অন্ধকারের ভিতর থেকে আসা একটা প্রচণ্ড ঘুঁষিতে সে ছিটকে পড়ল রাস্তায়। দামোদর লাফ দিয়ে উঠল পিছনের পাদানিতে। পিছনের ফাঁকা জায়গা দিয়ে রিভলবার গলিয়ে দিল। র‍্যান্ড আতঙ্কে আর্তনাদ করে উঠতে গেলেন। কিন্তু তার আগেই রিভলভার গর্জন করে উঠল। র‍্যান্ডের মাথার খুলি উড়ে গেল। তৎক্ষণাৎ লুটিয়ে পড়ে র‍্যান্ড। ওখানেই মৃত্যু হয় তার।

পঞ্চাশ হাত পিছনে আসছিল যে গাড়িটা তার সওয়ার ছিলেন মিস্টার এবং মিসেস আয়ার্স্ট। আয়ার্স্ট সাহেব গুলির শব্দ শুনে গাড়ি থেকেই মুখ বাড়িয়ে দেখতে গেল। এই সুযোগে তাকে পরিষ্কার দেখতে পান রাণাডে। গর্জে উঠল তার পিস্তল! স্ত্রীর কোলে লুটিয়ে পড়ল আয়ার্স্ট। তার মৃত্যু হল এগারো দিন পরে, হাসপাতালে।

দামোদর ধরা পড়েন ৯ আগস্ট। সম্পূর্ণ নির্বিকারভাবে স্বীকার করলেন অকপটে- "হ্যাঁ, নিজ হাতে সে র‍্যান্ডকে হত্যা করেছ। শুধু তাই নয়, ইতিপূর্বে মহারাণী ভিক্টোরিয়ার মর্মর মূর্তির গলায় যে জুতোর মালাটি একদিন দেখতে পাওয়া গিয়েছিল সেটাও সে নিজে হাতে পরিয়েছে।"

বালকৃষ্ণকে জীবিত বা মৃত ধরে দিতে পারলে বিশ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে ঘোষণা করল ইংরেজ সরকার। বালকৃষ্ণ তখন হায়দ্রাবাদে। সেখানেই সে ধরা পড়ে। হায়দ্রাবাদের নিজাম বালকৃষ্ণকে সমর্পণ করলেন ইংরেজ-পুলিশের কাছে। রাণাডেসহ তিন চাপেকর ভাই দামোদর চাপেকর, বালকৃষ্ণ চাপেকর ও বাসুদেব চাপেকর আদালতের বিচারে অভিযুক্ত হন ও বিচারে তাদের ফাঁসি হয়।

ব্রিটিশ সরকার আইনটি করেছিলেন দেশবাসীকে প্লেগের প্রকোপ থেকে রক্ষা করার জন্যই। নিঃসন্দেহে ভালো একটি উদ্দেশ্য ছিলো তাদের। কিন্তু দাম্ভিক কমিশনারের অত্যাচার আর দায়িত্ব পালনে নির্মমতা সেদিন আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো মহারাষ্ট্রে। করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণেও এই আইনের ব্যাপারে ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরি করা তাই অত্যন্ত প্রয়োজন। নাহলে একটি সুযোগসন্ধানী মহল হয়তো আবার অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে উল্টো ক্ষেপিয়ে তুলতে পারে দামোদর ভাইদের মতোই।

তথ্যসূত্র:
১. Bangladesh Law Digest
2. The British Era in India
3. সশস্ত্র বিপ্লবে তিন বাঙালী মহানায়ক : শ্রীভাষ্কর
4. অগ্নিযুগের বিপ্লবী সিরিজ

রাজেশ পাল, আইনজীবী, ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কর্মী

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২৮ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৫ আরিফ রহমান ১৬ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৪৭ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইনাম আহমদ চৌধুরী ইমতিয়াজ মাহমুদ ৬০ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ২৩ এনামুল হক এনাম ২৯ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ২৭ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩৫ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১৪ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জাকিয়া সুলতানা মুক্তা জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৭ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ১২ ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৭ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩৪ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৮ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১৪০ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৩২ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক ১৩ রণেশ মৈত্র ১৬৭ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ২৯ রাজেশ পাল ২৪ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩৪ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম আহমেদ শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬

ফেসবুক পেইজ