টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
Advertise
অধ্যাপক ডা. শেখ মো. নাজমুল হাসান | ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
১
শপথের সাংবিধানিক অবস্থান: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে সংসদ সদস্যদের শপথের বিধান নির্ধারিত আছে।
অনুচ্ছেদ ১৪৮: শপথ বা ঘোষণা সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত।
অনুচ্ছেদ ৬৫: সংসদ হলো আইন প্রণয়নকারী একমাত্র কর্তৃপক্ষ।
অনুচ্ছেদ ৭: সংবিধানই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে একজন এমপি- সংবিধান রক্ষা, সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা, দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন বিষয়ে অঙ্গীকার করেন। এই শপথ একবারই প্রয়োজন, এবং সেটি সাংবিধানিকভাবে যথেষ্ট।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: সংবিধানের কোথাও উল্লেখ নেই যে, সংসদের কোনো উপকমিটি, বিশেষ কমিটি বা পরিষদে কাজ করার জন্য আলাদা শপথ নিতে হবে।
২
সংসদীয় কমিটি বনাম “সংবিধান সংস্কার পরিষদ”
সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশে সংসদের স্থায়ী কমিটি, বিশেষ কমিটি, সিলেক্ট কমিটি ইত্যাদি গঠন করা হয়, কিন্তু এসব কমিটিতে সদস্যরা আলাদা করে শপথ নেন না, কারণ— কমিটি সংসদের একটি অঙ্গ (organ of Parliament), আলাদা কোনো সাংবিধানিক সত্তা নয়। অতএব, যদি “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” সংসদের একটি কমিটি বা সাব-স্ট্রাকচার হয়, তাহলে আলাদা শপথের প্রয়োজনীয়তা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত নয়।
৩
গণপরিষদ (Constituent Assembly) হলে কি ভিন্ন হতো?
ঐতিহাসিকভাবে দেখলে—
Constituent Assembly of Pakistan
Constituent Assembly of India
এসব ছিল স্বতন্ত্র সংবিধান প্রণয়নকারী সংস্থা। এগুলো ছিল আইনসভা থেকে ভিন্ন ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সংস্থা।
বাংলাদেশেও ১৯৭২ সালে একটি গণপরিষদ-সদৃশ কাঠামো ছিল, যা সরাসরি সংবিধান প্রণয়নের জন্য কাজ করেছিল।
যদি বর্তমান কাঠামো সংসদের পরিবর্তে একটি নতুন “গণপরিষদ” হতো, তবে নতুন শপথ যুক্তিযুক্ত হতে পারত, কারণ তখন- ম্যান্ডেট আলাদা, আইনি ভিত্তি আলাদা, সাংবিধানিক অবস্থান আলাদা। কিন্তু বর্তমান সংসদের এমপিরা ইতোমধ্যেই সাংবিধানিক শপথ নিয়েছেন। ফলে, তাদের আর আলাদা কোরে শপথ নেবার প্রয়োজন নাই।
৪
“জুলাই সনদ” কি বাধ্যতামূলক?
“জুলাই সনদ” সংবিধানের অংশ নয়। সংবিধানের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধানই সর্বোচ্চ আইন। কোনো রাজনৈতিক ঘোষণা বা চুক্তি সংবিধানের সমতুল্য নয়, যদি না তা সংসদীয় প্রক্রিয়ায় আইন বা সাংবিধানিক সংশোধন হিসেবে গৃহীত হয়।
অতএব, “জুলাই ঘোষণা” রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হতে পারে, কিন্তু তা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নয়, এবং সাংবিধানিক শপথের বিকল্প বা পরিপূরকও নয়।
৫
তাহলে আলাদা শপথের যৌক্তিকতা কোথায় দাঁড়ায়?
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তিনটি সম্ভাবনা:
সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়: কারণ, সাংবিধানিকভাবে একটিই শপথ যথেষ্ট।
রাজনৈতিক প্রতীকী অঙ্গীকার: এটিকে শুধুমাত্র একটি "রাজনৈতিক কমিটমেন্ট” হিসেবে দেখা যেতে পারে—কিন্তু কোনো আইনি শর্তে নয়।
ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি: যদি কোনো দল ভবিষ্যতে সংসদের বাইরে পৃথক কোনো সাংবিধানিক কাঠামো গঠনের মনোবাসনা পোষণ করে, তবে পৃথকভাবে শপথ নেবার বিষয়টি তাদের রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে।
৬
আইনগত বিশ্লেষণ:
সংবিধান অনুযায়ী এমপি হিসেবে শপথ একবারই যথেষ্ট।
সংসদের অভ্যন্তরীণ কোনো কমিটি/পরিষদের জন্য আলাদা শপথের বিধান নাই।
“জুলাই সনদ” সাংবিধানিক দলিল নয়। ফলে, আইনি বাধ্যবাধকতার দৃষ্টিকোণ থেকে আলাদা শপথের প্রয়োজনীয়তা নাই।
এটি রাজনৈতিক বা প্রতীকী পদক্ষেপ হতে পারে, কিন্তু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নয়।
মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।
আপনার মন্তব্য