আজ শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

Advertise

বৃটিশ সাংবাদিক টিউলিপকে বিব্রত করতে চেয়েছিলেন

মাসকাওয়াথ আহসান  

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক একটি টিভি ইন্টারভিউতে সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তপ্ত কথোপকথনের মাঝে “তিনি বাংলাদেশি নন বৃটেনের এমপি” এমন মন্তব্য করায়; যেসব উগ্র জাতীয়তাবাদী বিরামহীনভাবে তার সমালোচনা করছেন; তারা টিউলিপের জীবন বাস্তবতা সম্পর্কে একবারও ভাবছেন না। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার পর শেখ রেহানা সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও বাংলাদেশে প্রবেশাধিকার তাঁর ছিল না।

যে কারণে তাঁকে লন্ডনে নির্বাসিত জীবন বেছে নিতে হয়। টিউলিপের জন্ম সে কারণেই লন্ডনে হয়। শখ করে বৃটেনের নাগরিক হননি টিউলিপ।

আর টিউলিপের বৃটেনে যে রাজনৈতিক নেতা হয়ে ওঠা; এখানে তার পারিবারিক পরিচয় কোন কাজে আসেনি। বরং নানারকম তিক্ত সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অন্য বৃটিশ এমপি'র ক্ষেত্রে শেকড়ের পরিচয় এমন তিক্ততার কারণ হয়নি।

এমনকি টিউলিপ লন্ডনের যে এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন; সেখানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভোটার নেহাত কম বলেই নেতিবাচক ভোটের হাত থেকে বেঁচে গেছেন। টিউলিপের খালা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় টিউলিপ কোথাও কোন বাড়তি সুবিধা নেননি। বরং এই আত্মীয়তার সম্পর্ক এই মুহূর্ত পর্যন্ত তাকে ভুগিয়ে চলেছে। কাঁকড়ার মত পা ধরে নীচে নামানোর মনোজগতটাই নদীধোয়া বাংলাদেশের একমাত্র মালিন্যের দিক; আর সবই ঔদার্যের; সৌন্দর্যের আর উষ্ণতার।

তাই অতিনেতিবাচকতা থেকে বাংলাদেশি সমাজের বেরিয়ে আসা জরুরি। আর রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির যে কাদা ছোড়াছুড়ির সংস্কৃতি; সেটি জনসমাজের আচরণে খুবই গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে। নিকৃষ্ট আচরণের জনপদ দক্ষিণ এশিয়াতেও ভারত-পাকিস্তানের নাগরিক বা বংশোদ্ভূত অন্যদেশের নাগরিকেরা তাদের নিজ নিজ দেশের জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। এইক্ষেত্রে বাংলাদেশই একমাত্র ব্যতিক্রম যেখানে জাতির জনককে অশ্রদ্ধা জানানোর অপসংস্কৃতি চলমান। এই আদিম প্রবণতাটি বন্ধ করা গেলে রাজনীতি ব্যবসায়ীদের "বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা বা অশ্রদ্ধা জানিয়ে" ব্যবসা করার দোকানগুলো বন্ধ করে দেয়া যাবে চিরতরে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিক হিসেবে যে গুণগুলো ছিল তা থাকলে পৃথিবীর যে কোন দেশে রাজনীতিক হিসেবে সফল হওয়া সম্ভব; তার প্রোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তাঁর নাতনি টিউলিপ; যে টিউলিপ পারিবারিক রাজনীতির দোকানদারির প্রচলিত স্রোতের বাইরের মানুষ। একটি টেলিভিশন ইন্টারভিউ যেখানে সাংবাদিকতা নৈতিকতা ভেঙে একজন সাংবাদিক একজন একটিভিস্টের মত টিউলিপকে বিব্রত করতে উঠে পড়ে লেগেছেন; তার প্রধানমন্ত্রী খালাকে একটি ফোন করে বাংলাদেশে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে দেয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন, সেখানে টিউলিপ নিজের রাজনীতির কর্মসীমা বৃটেন এটা বোঝাতে বলেছেন, তিনি বৃটিশ নাগরিক; বাংলাদেশি নন।

কারণ বাংলাদেশের অসংখ্য নিখোঁজ মানুষকে খুঁজতে গেলে; টিউলিপকে সারাদিন কেবল প্রধানমন্ত্রী খালাকেই ফোন করতে হবে।

বৃটেনের রাজনীতি তথা জনসেবার সময়ই তিনি পাবেন না।

কাজেই একটি বক্তব্যের সমগ্র বার্তাকে বুঝতে চেষ্টা না করে; এই যে অংশ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া; এই প্রচলিত সামাজিক বদ-অভ্যাসটি খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে মনে হয়।

বাংলাদেশ আয়তনে ক্ষুদ্র; এখানে খুব অল্প জায়গায় আঁটোসাঁটো করে অনেক মানুষের বসবাস। দেশে বসবাসকারী মানুষের একটু শ্বাস নেবার জায়গা করে দিতে; দেশের সীমিত সম্পদে ভাগ না বসাতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছেলে-মেয়েরা অন্যদেশে বসবাস করছে; সেসব দেশের নাগরিক হচ্ছে; রাজনীতিসহ নানাপেশায় কাজ করছে। তাদের মূল দায়িত্ব সেসব দেশের দায়িত্ব পালন; সে দায়িত্ব পালনের পর তারা নিজের ফেলে আসা বাংলাদেশের জন্য কোন বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে পারলে ভালো। না পারলেও ক্ষতি নেই।

বাংলাদেশ মায়ের মত স্নেহের আঁচল বিছিয়ে রাখে; মায়ের তো সন্তানের কাছে কিছুই চাওয়ার থাকে না; সন্তান যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক; এটাই তাঁর একমাত্র প্রত্যাশা।

মাসকাওয়াথ আহসান, সাংবাদিক, সাংবাদিকতা শিক্ষক

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য ২ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ৪৮ অধ্যাপক ডা. শেখ মো. নাজমুল হাসান ২৯ অসীম চক্রবর্তী ৯ আজম খান ১১ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আনোয়ারুল হক হেলাল ১ আফসানা বেগম ১ আবদুল গাফফার চৌধুরী ৯ আবু এম ইউসুফ ৩ আবু সাঈদ আহমেদ ৮ আব্দুল করিম কিম ৩২ আব্দুল্লাহ আল নোমান ২ আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল ১০ আমিনা আইরিন ৩ আরশাদ খান ৩ আরিফ জেবতিক ১৮ আরিফ রহমান ১৬ আরিফুর রহমান ২ আলমগীর নিষাদ ১ আলমগীর শাহরিয়ার ৫৪ আশরাফ মাহমুদ ৯ আশিক শাওন ৫ ইনাম আহমদ চৌধুরী ৯ ইমতিয়াজ মাহমুদ ৭৩ ইয়ামেন এম হক ১ এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ১ একুশ তাপাদার ১ এখলাসুর রহমান ৩৭ এনামুল হক এনাম ৫৪ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ ওমর ফারুক লুক্স ৩ কবির য়াহমদ ৮৯ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান ১ কেশব কুমার অধিকারী ১ খুরশীদ শাম্মী ১৮ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু ৭ জহিরুল হক বাপি ৪৪ জহিরুল হক মজুমদার ৩ জাকিয়া সুলতানা মুক্তা ৯ জান্নাতুল মাওয়া ২ জাহিদ নেওয়াজ খান ৫ জুনাইদ আহমেদ পলক ২ জুয়েল রাজ ১২৩ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ১২ ড. কাবেরী গায়েন ২৩ ড. নাদিম মাহমুদ ৩৮ ড. মাহরুফ চৌধুরী ১৫ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ৮ ড. শামীম আহমেদ ৪৫ ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ ২০ ডা. সাঈদ এনাম ৪ ডোরা প্রেন্টিস ২ তপু সৌমেন ৩ তসলিমা নাসরিন ১০ তানবীরা তালুকদার ৩ তোফায়েল আহমেদ ৩২ দিব্যেন্দু দ্বীপ ৭ দেব দুলাল গুহ ৮ দেব প্রসাদ দেবু ১ দেবজ্যোতি দেবু ২৭ নিখিল নীল ৫ পাপলু বাঙ্গালী ৪ পুলক ঘটক ৫ প্রফেসর ড. মো. আতী উল্লাহ ৫ ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ২ ফরিদ আহমেদ ৪৪ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা ১ বদরুল আলম ৯ বন্যা আহমেদ ৪ বিজন সরকার ৪ বিপ্লব কর্মকার ৭ ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ২ ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৮ ভায়লেট হালদার ৩ মারজিয়া প্রভা ৭ মাসকাওয়াথ আহসান ১৯৬ মাসুদ পারভেজ ২ মাহমুদুল হক মুন্সী ৩ মিলন ফারাবী ১ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ৩ মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৫৩ মো. মাহমুদুর রহমান ৬ মো. সাখাওয়াত হোসেন ৩ মোছাদ্দিক উজ্জ্বল ৩ মোনাজ হক ১৪ রণেশ মৈত্র ১৮৩ রতন কুমার সমাদ্দার ১ রহিম আব্দুর রহিম ৫৫ রাজু আহমেদ ৪৪ রুমী আহমেদ ১ রেজা ঘটক ৩৮ লীনা পারভীন ৬ শওগাত আলী সাগর ৫