টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
Advertise
সুজাত মনসুর | ১৯ জুলাই, ২০১৫
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন কর্তৃক আয়োজিত "বাংলাদেশ: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত" শীর্ষক এক সেমিনারে একক বক্তা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কলমযোদ্ধাদের প্রধান সেনাপতি, রাজনৈতিক জ্যোতিষি, প্রখ্যাত কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরীর যৌক্তিক বক্তব্যকে সমর্থন করে একটি কলাম লিখেছিলাম গত সপ্তাহে। শিরোনাম ছিলো, `আবদুল গাফফার চৌধুরী এতো বিলম্বিত টার্গেট কেনো?`।
লেখাটি প্রকাশিত হবার পর অনেকেই সাধুবাদ ও ধন্যবাদ জানিয়ে ফেইসবুকে মন্তব্য করেছেন। আমি এমন কোন নামকরা লেখক নই যে এ ধরনের প্রশংসা বা সাধুবাদ পাবার যোগ্য। আল্লাহ্তা`য়ালার অশেষ মেহেরবানী যে তিনি আমাকে মনের ভাব প্রকাশ করার কিছুটা ক্ষমতা দিয়েছেন, তাই যা নিজের বিবেকের কাছে অন্যায়, অবিচার, অমানবিক ও অযৌক্তিক বলে মনে করি তার বিরুদ্ধে সীমিত ক্ষমতা দিয়ে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করি। আবার যা সত্য, ন্যায়, মানবিক এবং যৌক্তিক বলে মনে করি তার পক্ষে দাড়াতে কুন্ঠাবোধ করি না।তাই আবদুল গাফফার চৌধুরীর বক্তব্য যে কোন অবস্থায়ই ইসলামবিরোধী নয়, বরং ঐতিহাসিকভাবে ও যৌক্তিকতার দিক থেকে সত্য তা বলতেও দ্বিধা করিনি। কেননা আমার আছেই বা কি আর যাবেই বা কি?
হয়তো রাজিব, অনন্ত বিজয় অথবা অভিজিৎ হবো। নরকের কীট মওদুদীবাদি, জঙ্গি ও ধর্ম ব্যবসায়ীরা এরচেয়ে আর কি-ই বা করতে পারে। যাই হোক যারা অভিনন্দন বা ধন্যবাদ জানিয়েছেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং সাপ্তাহিক জনমতকে জানাচ্ছি অভিনন্দন জন্মলগ্নের অঙ্গিকারের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা ও সত্য প্রকাশে দুরন্ত সাহসের জন্য।
আবদুল গাফফার চৌধুরী মওদুদীবাদী যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গি অর্থাৎ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তির নতুন কোন লক্ষ্যবস্তু নন। যেহেতু তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন এবং তিনি কখনো এবারের মতো এতো সরাসরি ও খোলামেলা ধর্মীয় গোড়ামির বিরুদ্ধে কথা বলেননি, তাই তারা অতীতে বিভিন্নভাবে নাজেহাল ও অপমানিত করার চেষ্টা করেছে। তাঁর লেখার সমালোচনা করেছে।
বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁর দেশে প্রবেশের ব্যাপারে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কিন্তু কখনোই কাফের-মুরতাদ আখ্যা দিতে পারেনি। কিন্তু এবার ঐ অশুভ শক্তি সে সুযোগটা নিতে চাচ্ছে। আর তার সাথে তাল মেলাচ্ছে দেশ ও প্রবাস থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত কতিপয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়া। যাদেরকে আমি মিডিয়া মাফিয়া বলে মনে করি। অন্যদিকে সরকারী দল আওয়ামী লীগ, বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বুদ্ধিজীবিদের সিংহভাগ অংশের নিরবতা, এমনকি নিজের চামড়া বাচানোর নিষ্ফল চেষ্টা থেকে মওদুদীবাদিদের সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলতেও কেউ কেউ কুন্ঠাবোধ করছে না।
শুরুতেই উল্লেখ করেছি আবদুল গাফফার চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কলমযোদ্ধাদের প্রধান সেনাপতি। উনিশ` পঁচাত্তরের পনেরো আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা এবং রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর দেশে যখন কারো পক্ষেই প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর নামটি উচ্চারণ করতে সাহস পেতো না, তখন গাফফার চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখতে কলমযুদ্ধ চালিয়ে গেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় দেশকে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনার জন্য যে ক`জন কলমযোদ্ধা নিরলসভাবে, অকুতোভয়ে তাঁদের লেখনিকে সোচ্চার রেখেছেন তিনি হচ্ছেন নাম্বার ওয়ান। শুধু কি তাই ১/১১ খ্যাত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনা যখন জেলে অথবা তাঁকে যখন দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং একই সময়ে দলের কিছু সিনিয়র নেতার সংস্কারবাদী সেজে দলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টায় যখন নেতা-কর্মীরা হতাশায় নিমজ্জিত তখন আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখনি সেই সব হতাশাগ্রস্থ নেতা-কর্মীদের সাহস যুগিয়েছে। যা ছিলো ৭৫-এর পরে আওয়ামী লীগারদের জন্য আরেকটি বড় ধরনের ক্রান্তিকাল।
তাইতো গত মাসে বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার বিলেত সফরের সময় যুক্তরাজ্য আওযামী লীগ যে গণ সংবর্ধনার আয়োজন করে সেখানেও প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বীকার করেছেন গাফফার চৌধুরীর লেখনি তাঁকে সাহস ও প্রেরণা যোগায়। যদিও মাঝে মাঝে কোন লেখা তাঁক কষ্ট দেয়। এটাই বাস্তবতা গাফফার চৌধুরী চাটুকার নন বলে অথবা সরকারের কাছ থেকে কোন সুযোগ-সুবিধা আদায় করেন না বলে, সর্বদা সত্য কথাটি বলতে পারেন। আর অপ্রিয় সত্য কথা সব সময়ই শুনতে খারাপ লাগে।
তাই আবদুল গাফফার চৌধুরীর বিরুদ্ধে যখন তাঁর একটি বক্তব্যের খন্ডিত অংশকে পুঁজি করে তাঁকে মওদুদীবাদী ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা কাফের-মুরতাদ আখ্যা দিয়ে প্রতিরোধ, বর্জন ও কতল করার হুমকি-ধামকি দিচ্ছে তখন আশা করেছিলাম, আমাদের বাতিঘর, গাফফার চৌধুরীর পক্ষে আওয়ামী লীগ সহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রগতিশীল শক্তি সোচ্চার হবে। যেভাবে সোচ্চার হয়েছে অতীতে বিভিন্ন সময়ে। আশা করেছিলাম অন্তত পক্ষে গাফফার চৌধুরীর সতীর্থ বা প্রগতিশীল নামধারী অথবা নিদেনপক্ষে যারা তাঁর নাম ভাঙ্গিয়ে বা তাঁর সুপারিশে টাইপিস্ট থেকে কলামিস্ট, সেলিব্রেটি অথবা দলের পদ-পদবীসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছে তারা সোচ্চার হবে। অনন্তঃ একটি বিবৃতিও না হয় দেবে।
যে যুক্তরাজ্যে তিনি বসবাস করছেন, যুক্তরাজ্যের যে সব রাজনৈতিক নেতা-কর্র্মী, সাংবাদিক, সাহিত্য-সংস্কৃতি কর্মী তাঁর সান্নিধ্য পাবার জন্য লালালিত থাকেন তাদের অধিকাংশই নিরবতা পালন করছে। এমনকি কিছু কিছু নাবালক কলামিস্ট ও বুদ্ধিজীবি অথবা ইঁচড়েপাকা সাংবাদিক হয় মওদুদীবাদীদের পক্ষে কলম ধরেছেন নতুবা সুবিধাবাদী বক্তব্য দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
ভয় একটাই যদি নিজেরা কাফের-মুরতাদ খেতাবে ভুষিত হয়ে যান। তাহলে যে ইহকাল-পরকাল দু`টোই খোয়াতে হবে। অন্যদিকে তো যুক্তরাষ্ট্রে দেখলাম মওদুদীবাদীদের পাশাপাশি কোথাও সরাসরি আবার কোথাও আড়ালে-আবডালে, গাফফার চৌধুরী যাতে কোথাও কোন সমাবেশ করতে না পারেন সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব তৎপর রয়েছেন।
খোদ গাফফার চৌধুরী নিজেই অভিযোগ করেছেন তাঁর সমাবেশ না হবার জন্য মূলতঃ স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরিন কোন্দলই দায়ি। তবে এতকিছুর পরেও কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর নাগরিক সংবর্ধনা হযেছে। আয়োজন করেছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল স্তরের শুভবুদ্ধির মানুষজন। যে হলটিতে সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয় সেখানে তিল ধারণের স্থান ছিলো না। তবে ঐ অনুষ্ঠানেও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃস্থানীয় কারো উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।
এখানে একটি কথা বলে নেয়া দরকার, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক-সামাজিক-বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিটি আন্দোলনেই নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা। এমনকি শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তার অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন এই শ্রেণির মানুষেরাই। সেই নিরিখে যুক্তরাষ্ট্রে পেশাজীবি, বুদ্ধিজীবী, কবি, সাহিত্যিক, প্রাজ্ঞ সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীরা নিউইয়র্ক ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে যে নাগরিক সংবর্ধনা দিয়েছেন- তা নন্দিত হয়েছে গোটা বিশ্বব্যাপী মিডিয়ায়, জনমানসে।
অন্যদিকে ঢাকার নাকি আওয়ামী লীগের অগনিত দোকানের একটি দোকান আওয়ামী ওলামা লীগ সমাবেশ করে আবদুল গাফফার চৌধুরীর বিচার দাবি করেছে এবং সংসদে কোনো এক অর্বাচিন সাংসদ গাফফার চৌধুরীকে তওবা করে পুনরায় মুসলমান হবার আহ্বান জানিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে- তারা কি তা বুঝে করলো? জেনে করলো? ইউটিউবে যে ভাষণটি রয়েছে গাফফার চৌধুরীর- তাতে তিনি একবারও বলেননি এগুলো ছিল- দেবতাদের নাম। তিনি বলেছেন, এগুলো ছিল- দেবতাদের ভাষা। 'নাম' ও 'ভাষা'র পার্থক্য এসব নালায়েকরা বুঝতে পারছে না কেন?
এ লেখাটি শুরু করার আগে ঢাকার সাংবাদিক ও কবি জাফর ওয়াজেদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, ঢাকায় গাফফার চৌধুরীর পক্ষে কোন ধরনের তৎপরতা লক্ষ করা গেছে কিনা। তিনি আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন, না উনার পক্ষে কেউ নেই, তবে মুনতাসির মামুন লিখেছেন। শুধু মুনতাসির মামুন নন, এর আগে শাহরিয়ার কবির জনকন্ঠে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট ফকির ইলিয়াসও দৈনিক ভোরের কাগজে একটি কলাম লিখেছেন। তিনি নাগরিক সংবর্ধনার অন্যতম উদ্যোক্তা।
তবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকেও অনেকে তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়ে লড়াই চালিয়েছেন, এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন। আর যারা প্রতিবাদ করছেন তাদের নৈতিক ভিত্তি অনেক শক্ত এবং ক্ষমতার স্বাদ নেবার ইচ্ছাও নেই, ছিলোও না কোনদিন। আমার একটা আশার স্থল ছিলো গণজাগরণ মঞ্চ। যার নেতৃত্বে রয়েছেন ই্মরান এইচ সরকার, মওদুদীবাদের বিরুদ্ধে ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার, তরুণ প্রজন্মের হিরো। যিনি অনন্ত বিজয় নিহত হবার পর ফেইসবুকে নিজে রক্ত দিতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন, যদিও এখনো দেননি। সেই গণজাগরণ মঞ্চ বা ইমরান এই্চ সরকারকেও এ ব্যাপারে শাহবাগ গরম করতে দেখলাম না। অথচ প্রতিটি ব্লগার হত্যার পর আবদুল গাফফার চৌধুরীর কলম কিন্তু এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে। ঢাকায় গিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। আর তিনি তা করেছেন তাঁর চেতনা ও নৈতিকতাবোধ থেকে। গণজাগরণ মঞ্চের সাথে একাত্মতা ঘোষণা ও ব্লগার হত্যার প্রতিবাদও গাফফার চৌধুরী মওদুদীবাদীদের চক্ষুশুল হবার অন্যতম কারণ।
আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের নিশ্চুপ থাকার বিষয়টি অনুধাবন করা যায়। তারা যেহেতু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে আছেন, দেশে আন্দোলন সংগ্রাম নেই। বিরোধীদলও ভুল পথে চলতে গিয়ে নিজেদের অস্তিত্বই বিপন্ন করে তুলেছে। অদুর ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোন আন্দোলন গড়ে তোলারও সম্ভাবনা নেই। সুতরাং কি দরকার আবদুল গাফফার চৌধুরীর পক্ষে কথা বলে হেফাজতিদের আড়ালে জামাতিদের মাঠে নামার সুযোগ করে দেবার। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লেবাসধারী লেখক-বুদ্ধিজীবীদের কি হলো? দুই-একজন বাদে আর সবাই নিশ্চুপ কেনো? নাকি মনে করছেন তুফানটা গাফফার চৌধুরীর উপর দিয়েই যাক। অহেতুক নিজেদের নামের শেষে কাফের-মুরতাদ লাগিয়ে ইহকাল-পরকাল হারানোর দরকারটা কি?
কিন্তু সরকারী দলের নেতা-কর্মী, এমপি-মন্ত্রী বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবি যারা এটা ভাবছেন বা উট পাখির মতো নাক-কান বুঝে থাকার চেষ্টা করছেন, তারা কি একবারও ভেবে দেখেছেন আবদুল গাফফার চৌধুরী শুধু একজন ব্যক্তি নন, প্রতিষ্ঠান। তিনি হচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিশেষ করে কলমযোদ্ধাদের বাতিঘর, প্রধান সেনাপতি। সেই যুদ্ধের মাঠে যদি সৈন্যদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে সেনাপতির পরাজয় হয় তাহলে সমগ্র বাহিনীর পরাজয় হবে। আজকে যদি মওদুদীবাদী ও তাদের সাঙ্গাপাঙ্গরা কাফের-মুরতাদ আখ্যা দিয়ে আবদুল গাফফার চৌধুরী কলমকে স্তব্ধ করে দিতে পারে তাহলে, তা হবে তাদের জন্য বড় বিজয় আমাদের জন্য পরাজয়।
গাফফার চৌধুরীর কলমকে বন্ধ করা গেলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এত জোরালো ও অকুতোভয়ে কলম চালানোর মতো কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। আবার যদি ১/১১-এর মতো অবস্থা হয়, দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা সংস্কারপন্থিরা যদি আবারো তৎপর হয় তাহলে অগণিত আওয়ামী লীগের লক্ষ-কোটি তৃণমূল কর্মীদের সাহস ও প্রেরণা যোগানোর অবশিষ্ট কেউ থাকবে কি? মনে রাখতে হবে আমাদের ভুল ও স্বার্থপরতার কারণে যদি আবদুল গাফফার চৌধুরী পরাজিত হন, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিই ক্ষতিগ্রস্থ হবে; আবদুল গাফফার চৌধুরী নন। ইতিহাসে তিনি অমর হয়েই থাকবেন।
মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।
আপনার মন্তব্য