আজ বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০২২ ইং

Advertise

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাবি কোন পথে?

রণেশ মৈত্র  

আমি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িনি। আমার পাঠ্যজীবন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজেই শেষ হয় বিগত শতকের পঞ্চাশের দশকে। এডওয়ার্ড কলেজ বিপুল ঐতিহ্যবাহী একটি কলেজ হিসেবে স্বীকৃত ছিল অতীতে অবিভক্ত বঙ্গদেশে।

ঐ এডওয়ার্ড কলেজে পড়াকালেই কত যে শুনতাম, মূলত: কলেজের শিক্ষকদের কাছ থেকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবগাঁথা, তার সুনাম ও ঐতিহ্যের কথা। তাই খুব ইচ্ছে হতো এডওয়ার্ড কলেজ থেকে বি.এ পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে মাস্টার্স পড়বো-পারলে অনার্সও। উল্লেখ্য তখন এডওয়ার্ড কলেজে কি বিজ্ঞান, কি সাহিত্য কলা, কি বাণিজ্য কোন বিভাগেই অনার্স পড়ার সুযোগ ছিল না।

কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দূরে থাক, বাড়ির কাছের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগও পাই নি। সে ব্যাপারে চেষ্টাও করি নি। কারণটা সহজ-সরল। অর্থাৎ আর্থিক। বাবাকে হারাই ১৯৫৪ সালে ইন্টারমিডিয়েট পড়াকালে। টিউশানি করে পড়ালেখা চালাতাম। স্কুল বা কলেজে অবশ্য ট্যুইশন ফি দিতে হতো না। তারাই নিতেন না। তাই কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার বাসনা পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলাম।

তবে হ্যাঁ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে বা তার ক্যাম্পাস পর্যন্ত ঢুকতে না পারলেও রাজশাহী যেতে হয়েছে বা যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি বহুবার। গন্তব্যস্থল ছিল রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার। সেখানে বিনাবিচারে আটক থাকতে হতো বছরের পর বছর। অপরাধ ছিল পূর্ব পাকিস্তান (আজকের বাংলাদেশ) ছাত্র ইউনিয়নের অন্যতম নেতা হিসেবে ভাষা আন্দোলনের অভিজ্ঞতায় গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলিতে পাবনায় অন্যতম নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করা।

যে কার রাজশাহী থেকে ছাড়া পেতাম রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সরাসরি চলে রাজশাহী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত, বহু গৌরবান্বিত ইতিহাসের ধারক ভুবন মোহন পার্কের বিপরীত দিকে একটি দোতলা দালানের উপরতলায় অবস্থিত ছাত্র ইউনিয়ন কার্যালয়ে। সেখানে দলীয় সম্বর্ধনা শেষে ভুবন মোহন পার্কে গণ সম্বর্ধনা। অত:পর পাবনা প্রত্যাবর্তন ট্রেন যোগে।

ট্রেনযোগে বা বাসে চড়ে বন্দি বা মুক্ত মানুষ হিসেবে যতবারই রাজশাহী গিয়েছি ততবারই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার হলগুলি, শহীদ মিনার বিশাল ক্যাম্পাসের অংশ বিশেষের প্রতি আপন মনেই চোখ দুটি নিবন্ধ হতো। মতিহারের সেই অঙ্গনও ছিল নানা দিক থেকে গৌরবমণ্ডিত। আরও ভাল লাগতো এ কারণে সে কালের উত্তরবঙ্গের ছাত্ররা ছাত্ররা অর্থাৎ আমরাই আন্দোলন করে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়টি চাই”, “উচ্চ শিক্ষার সুযোগ চাই” ইত্যাদি দাবিতে ছিল ঐ আন্দোলনটি। তাই লোভ হলেও সুযোগ ঘটতো না রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢোকার।

এভাবে শুধুই অনুভব করতাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়? সে তো অনেক দূরে অবস্থিত। তখন যমুনা সেতু হয় নি। তাই পাবনা থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগতো প্রায় ২৪ ঘণ্টা। যেতাম বাসে প্রথম ঈশ্বরদী পাবনা থেকে বেলা ১১ টার দিকে রওনা হয়ে। অত:পর রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে ঈশ্বরদী জংশন থেকে ঢাকার দিতে যাত্রা। সিরাজগঞ্জ ঘাট ষ্টেশনে পৌঁছে ট্রেন থেকে নেমে ও পারে জগন্নাথগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত যেতে হতো যমুনা নদী দিয়ে বিশাল ষ্টীমারে চড়ে। জগন্নাথগঞ্জ ঘাট ষ্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেন অপেক্ষা করতো। সেই ট্রেনে চড়ে সারা রাত জেগে বেলা ৮টা নয়টার দিকে ঢাকায় তখনকার ফুলবাড়িয়া ষ্টেশনে এসে ট্রেন থেকে নামতে হতো। এভাবে ২৪ ঘণ্টা না হলেও ২০-২১ ঘণ্টা অবশ্যই লেগে যেতো। ধকল কম সহ্য করতে হতো না।

কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতাম। ভর্তি হতে না পারলেও শুধুমাত্র যেতাম তাই নয় তার ক্যাম্পাসে যেতেই হতো বাড়ির আনন্দ, উৎসাহ ও গর্বের সাথেই। গর্ব এ কারণে যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সহ-সভাপতি হিসেবে, তার আগে অন্যতম সদস্য হিসেবে ছাত্র সমাজের দাবি-দাওয়া এবং জাতীয় সমস্যাগুলি নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার নীতিগত ও কৌশল গত কর্মসূচি নির্ধারণ করার উৎসাহে কখনও ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কখনও বা মধুর রেস্তোরাঁয় বৈঠক করতে। থাকতে হতো সহকর্মীদের সাথে সাধারণত: ফজলুল হক মুসলিম হলে সহকর্মীদের রুমে।

একবার দুবার না যেতে হয়েছে অনেকবার সম্মানে-গর্বটা এখানেই। আর তো ছিল সেকেন্ড হোম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার যেকানে সারা প্রদেশের প্রবাদপ্রতিম ত্যাগীও নিষ্ঠাবান বিজ্ঞান চেতনায় উদ্বুদ্ধ প্রবীন বামপন্থী নেতাদেরকে বছরের পর বছর বিনাবিচারে আটকে রাখা হতো। তাদের সান্নিধ্যও ছিল শিক্ষণীয়।

যা হোক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনের লম্বা প্রেক্ষাপট বলতে হলো। সেদিনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন হতো পড়াশুনা তেমনই হতো ছাত্র সমাজের নানাবিধ ন্যায্য দাবি দাওয়া আদায়ের কর্মসূচি নিয়ে। আন্দোলন করেছি পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি এবং সিয়াটো ও সেন্টো চুক্তি বাতিল, পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্ত শাসন প্রভৃতি বিদেশ নীতি ও বিদেশ সংশ্লিষ্ট কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবি নিয়ে।

তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমাজ যারা ১৯৪৮ ও ১৯৫২ তে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন করেন বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি আদায় করেছেন তাদের অনেকের সাহসী পদচারণা ও কারও কারও আত্মদানের ফলে জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি দুর্লভ মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।

তখন যাঁদেরকে ভাইস চ্যান্সেলর হিসাবে, যাঁদেরকে শিক্ষাক-শিক্ষয়িত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতো তাদের শিক্ষাদান এবং বিষয় সমূহের উপর দখল ছিল আশ্চর্য ধরণের। ছাত্র বান্ধব ছিলেন স্বদেশ প্রেমিকও তাই তখনকার ছাত্র আন্দোলনকারীরা পেতেন শিক্ষকদের নৈতিক এবং অনেক ক্ষেত্রে বৈষয়িক সহযোগিতাও।

আজ যখন তখনকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর কথা, তখন এক গৌরবোজ্জ্বল অতীতের কথাই স্মরণে আসে। ডাকসুতে নির্বাচিত হতেন কখনও জনপ্রিয় ছাত্রনেতারা কখনও বা জনপ্রিয় ছাত্রলীগ নেতারা। ডাকসুর নেতারা ছাত্র আন্দোলনে বিশেষ মর্যাদার অবস্থান পেয়ে যেতেন। আর দলমত নির্বিশেষে সকলের অকুণ্ঠ সমর্থন পেতেন অবিতর্কিত এক মর্যাদাকর এক বিশেষ অবস্থান।

শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ভোটে নির্বাচিত হলেও সারা দেশের অপরাপর সংসদ ও জেলা সমূহের এবং কেন্দ্রীয় নানা ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সমবায় টিম গঠন করে সারা দেশ সফর করে বেড়িয়েছেন ডাকসু নেতৃবৃন্দ। এভাবে ডাকসুর ভি.পি.জি.এস’রা হয়ে দাঁড়াতেন দেশের তরুণ নেতৃত্বেরই শুধু নন-ভবিষ্যতের জাতীয় নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি।

সেই ডাকসুর নির্বাচন স্থগিত করে রাখা হয়েছিল প্রায় দুটি যুগ। এই দুই যুগ ডাকসু নির্বাচন স্থগিতের কারণ হিসেবে মোটামুটি ধারণা দেওয়া হতো সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ার আর কোন বিকল্প নেই ডাকসু নির্বাচন স্থগিত রাখা ছাড়া। দেশের প্রকৃত গণতান্ত্রিক শক্তি সমূহ ভিন্নমত প্রকাশ করতেন। তাদের বক্তব্য ছিলো সন্ত্রাস মুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে হলে তার বিরুদ্ধে সংগঠিত ছাত্র সমাজকে নিয়ে লড়তে হবে। আর সেই লড়াই এ নেতৃত্ব দিতে পারেন শুধুমাত্র তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই। আর এই প্রক্রিয়া পরিচালনার মূল শক্তি আদর্শনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন যা আমরা পঞ্চাশ-ষাটের দশকে দেখেছি।

প্রকৃষ্ট উদাহরণ ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে আছে। আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসেই। তখন গভর্নর মোনায়েম খানের যুগ। ছাত্র সমাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে নানা ইস্যুতে মুসলিম লীগ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলে তারা গদির নিরাপত্তা অনিশ্চিত করে তুলছিল দেশে আতংকিত মোনায়েম খান অর্থের বিনিময়ে গড়ে তুললেন ছাত্র ফেডারেশন নামক এক সন্ত্রাসী চক্র অস্ত্র সজ্জিত। এই সংগঠনের উপর দায়িত্ব বর্তেছিল ছাত্র ইউনিয়ন ছাত্রলীগ পরিচালিত আন্দোলনগুলি শান্তভাবে প্রতিরোধ করার বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা ভীতির রাজত্ব গড়ে তোলা।

আসলেই ছাত্র ফেডারেশন যৌক্তিক বহু আন্দোলনের পিঠে ছুরিকাঘাত করছিল প্রগতিকামী ছাত্র নেতাদের জীবনের নিরাপত্তা অনিশ্চিত করে তুলছিল। এমন কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়েও তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিমনা শিক্ষকদের উপরও হামলা চলছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র সংগঠন, সাধারণ ছাত্র সমাজ ও শিক্ষকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে ছাত্র ফেডারেশন নামক গুণ্ডাবাহিনীকে বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার আবাসিক ছাত্রগুলি হল থেকে তাড়িয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।

এই ইতিহাস প্রমাণ করে যে আদর্শনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন, ডাকসু এবং হলগুলিতে নির্বাচিত সংসদের প্রয়োজন। বর্তমানে কি সরকারে, কি রাজনৈতিক দলগুলির নেতৃত্বে সাবেক ছাত্র নেতারাই রয়েছেন এবং দেশ বা রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ভূমিকা রাখছেন।

কিন্তু এমন অভিজ্ঞতার পরেও দীর্ঘকাল যাবত শিক্ষাঙ্গনসমূহে ছাত্র সংগঠন সমূহের অস্তিত্ব নিরুৎসাহিত করা হচ্ছিল ডাকসু নির্বাচন ও স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরিণতিতে কি বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে, কি রাজনৈতিক এক অস্বাভাবিক অগণতান্ত্রিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘটেছে সন্ত্রাসবাদের উত্থান।

এমনই এক মুহূর্তে একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে ভাষণ দিতে গিয়ে ডাকসু নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন। অত:পর ডাকসু সহ পূর্বের মত সকল শিক্ষাঙ্গনে ও ছাত্রাবাসে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি ক্রমান্বয়ে জোরদার হতে থাকে। এক পর্যায়ে এসে ডাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠিতও হলো। নির্বাচনে ছাত্রলীগ নিজস্ব ব্যানারে, ছাত্র ইউনিয়ন এবং অপর বামছাত্র সংগঠন সমূহ ঐক্যবদ্ধভাবে এবং সাধারণ ছাত্র সমাজ নামে নূরের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনী ফলাফলে জি.এস. সহ সকল আসনে ছাত্রলীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হলেও ভি.পি’র মত সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদটি বিরাট সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে জিতে নিয়েছেন সাধারণ ছাত্র সমাজ এর নূর যিনি কি রাজনৈতিক কি ছাত্র সংগঠনে সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি নাম। তার আদর্শিক চিন্তাধারা সম্পর্কেও কেউ অবহিত ছিলেন না আজও নন।

দেখা গেল, অতীতের আদর্শিক সংগঠন ছাত্রলীগ জি.এস. সহ সবগুলি আসনে জেতার পরও ভি.পি নূরকে সহ্য করতে রাজি নয়। পদে পদে বাধা দেওয়া থেকে শুরু করে এমন কি সন্ত্রাসী হামলা পর্যন্ত করতে ছাত্রলীগ প্রস্তুত।

কিন্তু আমরা সবাই জানি, ছাত্র লীগের প্রধান উপদেষ্টা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং। তিনি বারংবার শুদ্ধি অভিযান চালালেও এবং কোন কোন পদ থেকে ছাত্রলীগের কোন কোন কেন্দ্রীয় নেতকে তার পদ থেকে অপসারণ করালেও ডাকসুতে নির্বাচিত ছাত্রলীগ নেতারা সন্ত্রাসপন্থী পদক্ষেপ নিতে আদৌ নিবৃত্ত হচ্ছে না।

সম্প্রতি নূর ও তার সঙ্গী সমর্থক সহকর্মীদের উপর যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী তাণ্ডব ঘটালো ছাত্রলীগ ও ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামে বেনামী ছাত্রলীগরা তাতে নূর সহ কারও কারও জীবন এখনও পুরোপুরি আশংকামুক্ত নয়। অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আজ প্রায় এক সপ্তাহ হলো। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি জানামাত্র আদেশ দিলেন নূরের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার। অত:পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেন।

কিন্তু মূল সমস্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বয়ং ভাইস চ্যান্সেলরকে নিয়ে। অভিযোগ বহু মহলের যে ভাই চ্যান্সেলর স্বয়ং সশস্ত্র ছাত্রলীগারদের উপদেষ্টাতুল্য কাজ করছেন এবং প্রশাসন বা রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ মহল থেকে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ঐ সন্ত্রাসী বাহিনীর ছাত্র লীগের নেতৃত্বে থেকে এমন ঘটনাবলী ঘটাতে সাহস পাচ্ছে। এবারই শুধু নয় নূর ও তার সমর্থকদের উপর ছাত্রলীগ এ যাবত নয় বার সশস্ত্র আক্রমণ পরিচালনা করেছে কিন্তু কোন বিচার হচ্ছে না। বিচারের বানী নীরবে নিভৃতে কাঁদে যদিও ব্যাপক ছাত্রসমাজ, অপর সকল ছাত্র সমাজ, শিক্ষকমণ্ডলী এবং অভিভাবক সমাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন, সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন করে চলেছেন।

তাই আজকের ভাবনা, এখনও কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে অভিহিত করা যাবে? অথবা প্রশ্ন জাগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজ কোন পথে?

রণেশ মৈত্র, লেখক, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক; মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। ইমেইল : [email protected]

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ৪৫ অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আফসানা বেগম আবদুল গাফফার চৌধুরী আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ৩০ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল ১০ আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৭ আরিফ রহমান ১৬ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৫৩ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইনাম আহমদ চৌধুরী ইমতিয়াজ মাহমুদ ৬৭ ইয়ামেন এম হক একুশ তাপাদার এখলাসুর রহমান ৩০ এনামুল হক এনাম ৩৫ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ৩৩ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৫৬ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান কেশব কুমার অধিকারী খুরশীদ শাম্মী ১৬ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ৪৪ জহিরুল হক মজুমদার জাকিয়া সুলতানা মুক্তা জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৮৫ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ১২ ড. কাবেরী গায়েন ২৩ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ ১৫ ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার তোফায়েল আহমেদ ১৯ দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৭ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক প্রফেসর ড. মো. আতী উল্লাহ ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩৯ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৮ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১৮৫ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৫৩ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক ১৪ রণেশ মৈত্র ১৮৩ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ৪৭ রাজেশ পাল ২৫ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩৮ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাওন মাহমুদ শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম আহমেদ ৩৫ শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ

ফেসবুক পেইজ