আজ বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২০ ইং

Advertise

ডিনাইয়াল ভ্যাকসিন যখন শক্তিমান

মাসকাওয়াথ আহসান  

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে কম হবে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে। এর কারণ পৃথিবীর কোথাও করোনাভাইরাসের কোন প্রতিষেধক ভ্যাকসিন বা প্রতিরোধক ওষুধ এখনো উদ্ভাবিত হয়নি। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশে যে ধন্বন্তরি ডিনাইয়াল ভ্যাকসিন উদ্ভাবিত হয়েছে অনেক আগেই; এই অমূল্য ভ্যাকসিন পৃথিবীর অন্য কোন দেশ এতো সফলভাবে উদ্ভাবন ও প্রয়োগ করতে পারেনি।

এই ডিনাইয়াল ভ্যাকসিন অনেক আগে কেবল সরকারি রেডিও ও টিভির মাধ্যমে প্রয়োগ করা হতো। সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য বেসরকারি গণমাধ্যমগুলোকে সরকারি প্রণোদনা ভ্যাকসিন দিয়ে ডিনাইয়াল ভ্যাকসিন দিয়ে বেড়ানো কর্মীদলে যুক্ত করা হয়েছে। ডিনাইয়াল ভ্যাকসিন কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভ্যাকসিন দিয়ে বেড়ানোতে; করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কম হওয়ার গৌরবের মুকুটে পরিসংখ্যানের পালক পরানো অনেক সহজ হয়েছে।

করোনাভাইরাস তো আজকের ব্যাপার; সেই কত আগে থেকে কত গণহত্যা ও দুর্ভিক্ষে প্রাণহানি ঘটেছে দক্ষিণ এশিয়ায়। কিন্তু সেই অব্যর্থ ডিনাইয়াল ভ্যাকসিন পৃথিবীর সবচেয়ে কম প্রাণহানির পরিসংখ্যানের পালক; দক্ষিণ এশিয়ার দেশ তিনটিকে গর্বিত করেছে। এই তিনটি দেশে শাসক বদলায়; শুধু বদলায় না শোষক আর ডিনাইয়ালের মহৌষধে হৃষ্টপুষ্ট মিডলম্যানের জীবন।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলো ডিনাইয়াল শিল্পকলা ও বিজ্ঞান শেখার সেরা জায়গা। যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলো ডিনাইয়াল শিক্ষা ও বিজ্ঞান শেখানোতে পিছিয়ে থাকায়; হ্যাঁচকা টানে মিডিয়া প্রকাশ করে ফেলে শাসকদের হত্যা-লুণ্ঠন-রিরংসার খবর। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ হওয়ায়; এটা প্রমাণ হয়ে যায়; সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একেবারেই ডিনাইয়াল বিদ্যায় পারদর্শী নয়। আশার দিক একটাই দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যালাভকারী দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নেতা-নেত্রীরা ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রকে সম্যক ডিনাইয়াল শিক্ষা দিতে পারবেন।

জ্বর-সর্দি-শ্বাসকষ্টে-হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু; মৃত ব্যক্তির ডেথ-সার্টিফিকেটে ইত্যাদি কত রকম মৃত্যুর কারণ বা 'কজ অফ ডেথ' লেখার অবকাশ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো 'কজ অফ ডেথ' লেখার এই ডিনাইয়াল শিল্পটি শেখায় বলেই; পৃথিবীতে সবচেয়ে সফলভাবে করোনা মোকাবেলার স্বীকৃতি মিলে যায়।

জার্মানির কথাই ভাবুন; ডিনাইয়াল-এর আদি পীঠস্থান হিসেবে যেখানে স্বৈরশাসক হিটলারের তথ্যমন্ত্রী বিশিষ্ট ডিনাইওলজিস্ট গোয়েবলস; কত চেষ্টা করেছিলেন শুধু এটুকু শেখাতে, একটা মিথ্যা একশোবার বললে তা সত্যি হয়ে যায়। অথচ জার্মান জাতি পারেনি এই ডিনাইয়ালবিদ্যা রপ্ত করতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার ইহুদি ও সাম্যবাদিদের হত্যা করেছেন; এই সত্যকে ডিনাইয়াল দিয়ে ঢেকে রাখতে পারেনি জার্মানি। ডিনাইয়াল শিক্ষার এতো নিম্নস্তরে জার্মানি পৌঁছে গেছে যে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পরপরই সেখানকার নেত্রী আঙ্গেলা ম্যারকেল সত্য উচ্চারণ করেন, প্রায় আশি শতাংশ জার্মান করোনাভাইরাস আক্রান্ত।

অথচ দক্ষিণ এশিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখুন, সাতচল্লিশের দেশবিভাগের সময় নৈরাজ্য ও ক্ষুধায় মৃতের সংখ্যাটি কী সুন্দর ঢেকে রেখেছে ডিনাইয়াল টিকাদানকারী কর্মীদের কল্যাণে। পাকিস্তান কত কলা-কৈবল্যে ডিনাই করেছে, একাত্তর সালে বাংলাদেশে পাকিস্তান দখলদারদের করা গণহত্যা আর মৃতের সংখ্যা। ভারত কী নান্দনিকভাবে ঢেকে রেখেছে, নকশাল হত্যা-শিখ হত্যা হয়ে হালের গুজরাট গণহত্যাসহ আরও কত হত্যা কত মৃত্যু। ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ঢেকে রাখা তাদের জন্য ওয়ান-টু'র ব্যাপার।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের ওষুধ ও ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়া স্বয়ংসম্পূর্ণ সৃষ্টিকর্তা ও ক্ষমতাসীন দলের পালনকর্তার প্রতি একই রকম ভক্তিরসে। এই 'ভক্তিরস' করোনাভাইরাসের চেয়ে শক্তিশালী।

পৃথিবীর আর কোন দেশে এতো ধর্মপ্রেম ও দেশপ্রেম; সর্বোপরি দলপ্রেম দেখতে পাওয়া যায়না। এ কারণে তারা দক্ষিণ এশিয়ার মতো তাক লাগিয়ে দেয়া সাফল্য পেলো না।

বিজ্ঞাপন

'৪৭-এর আগে ব্রিটিশের ডিনাইয়ালের টিকাদানকারীর ভাষা; '৪৭-এর পরে ভারত-পাকিস্তানের ক্ষমতাসীনদের ডিনাইয়ালের টিকাদানকারীদের ভাষা; ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের ডিনাইয়ালের টিকাদানকারীদের ভাষা আর আজকের করোনাকালে, বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের ক্ষমতাসীনের ডিনাইয়ালের টিকাদানকারিদের ভাষা; একই রকম। অপরিবর্তনীয় ধ্রুপদী অস্ত্র যেন এই ডিনাইয়ালের ভাষা। এরা যেন এক একজন চলন্ত-ডিনাইয়াল-কোষ।

এরকম বিশ্বসেরা ডিনাইয়াল-শাস্ত্র লালিত ও আদৃত যে ভূ-খণ্ড; সেখানে পৃথিবীর কে কোথায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সরকার-ব্যবস্থা কায়েম করে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নির্ভুলভাবে তুলে দিলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হাতে; সেসব দেখতে যাবার সময় নেই দক্ষিণ এশিয়ার চলিষ্ণু-অস্বীকার-কল্পদ্রুমদের।

মাসকাওয়াথ আহসান, সাংবাদিক, সাংবাদিকতা শিক্ষক

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২৮ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৫ আরিফ রহমান ১৬ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৪৭ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইনাম আহমদ চৌধুরী ইমতিয়াজ মাহমুদ ৬০ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ২৩ এনামুল হক এনাম ২৯ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ২৭ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩৫ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১৪ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জাকিয়া সুলতানা মুক্তা জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৭ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ১২ ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৭ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩৪ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৮ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১৪০ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৩২ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক ১৩ রণেশ মৈত্র ১৬৭ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ২৯ রাজেশ পাল ২৪ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩৪ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম আহমেদ শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম সঙ্গীতা ইয়াসমিন ১৬

ফেসবুক পেইজ