আজ শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২০ ইং

Advertise

বিলেতে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ছয় দশক

অসীম চক্রবর্তী  

বিলেতে বাঙালিদের পদচারণা উনিশশত শতকের শেষের দিকে শুরু হলেও বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে তা বৃদ্ধিপায় চোখে পড়ার মতো। এই সময়ে নানা ধরণের উপায়ে দেশ ছেড়ে বিলেতে পাড়ি জমান এক দল সাহসী বাঙালি। “একটু ভালো করে বাঁচবো বলে আর একটু ভালো রোজগার, ছাড়লাম ঘর আমি ছাড়লাম ভালোবাসা আমার নীলচে পাহাড় …” অঞ্জন দত্তের এই গানের মতোই একটু ভালো রোজগার আর একটু ভালো করে বাঁচার জন্য বাংলাদেশ ছেড়ে সাত সমুদ্র নোনাজল আর তেরোনদী পেরিয়ে মহামান্য রানীর দেশে এসেছিলেন নানা শ্রেণির মানুষ। তাদের অনেকেই ছিলেন শ্রমিক, ছিলেন পরিচারিকা, ছিলেন উচ্চশিক্ষা লাভের আশায় আসা একদল তরুণ। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বিহিত ওই দুর্গম সময়ে ভিনদেশে ভিনভাষী মানুষের ভিড়ে সঠিক তথ্য পাওয়া এবং আদান প্রদান করাই ছিলো এক মহাযুদ্ধ। সঙ্গত কারণে সংগ্রামটাও ছিলো ভিন্ন। তবুও সেই বন্ধ্যা সময়ে নানা প্রতিকূলতার সাথে সাথে সংগ্রাম করে ভিন দেশে অগ্রজ বাঙালিরা তৈরি করেছে নিজেদের ভিত্তি। যে ভিত তৈরির পেছনে আছে হাজারো দুঃসাহসী অভিযানের গল্প, আছে কষ্টের উপাখ্যান আছে ত্যাগ তিতীক্ষার ট্রাডেজি। সেই গল্প করবো অন্য কোনো একদিন অন্য কোনো স্থানে। আজকে কেবলই বিলেতে বাংলা নাট্যচর্চার গল্প।

বিলেতে বাংলা নাট্যচর্চার গোড়াপত্তন পঞ্চাশ সালের শেষের দিক থেকেই। কালের পরিক্রমায় বাংলা নাটক পরিভ্রমণ করেছে গ্লোব থিয়েটার, ফ্রিঞ্জ ফ্যাস্টিভ্যাল, বিবিসি, চ্যানেল ফোর সহ বিলেতের আনাচে কানাচে। পৃথিবীর সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার এবং সাহিত্যিক উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের গ্লোব থিয়েটারে বাংলা ভাষায় নাটক মঞ্চায়ন অথবা বিশ্বের অন্যতম নাট্য উৎসব এডিনবরা ফ্রিঞ্জ ফেস্টিভ্যালে বাংলা নাটক যেন সোনায় সোহাগা। সেই সোনার মুকুটে গত ২০০৩ সাল থেকে মাস ব্যাপী সিজন অফ বাংলা ড্রামা প্রতি বছর একটি করে পালক সংযুক্ত করে চলেছে। হাজারো বাঁধা, ব্যস্ত নাগরিক জীবন আর প্রতিদিনের গৎবাঁধা কর্মজীবনের ফাঁকে হাজার বছরের পুরাতন এই ইট পাথরের শহরে আজ বাংলা নাটকের মহড়া প্রায় নিয়মিতই বলা চলে। বিশ্ব নাট্যাঙ্গনে বাংলা নাটকের এই দীপ্ত পদচারণা একদিনে অর্জিত হয়নি। এর পেছনে রয়েছে যুগ যুগ ধরে শত শত বিলেত প্রবাসী বাংলাদেশী নাট্যকর্মীদের নিরলস শ্রম, সাধনা এবং ভালোবাসা।

‘আব্রাহাম মাসলো’ তাঁর ‘হায়ারাকি অফ নিডস’ থিয়োরিতে মানুষের চাহিদা এবং প্রয়োজনীয়তাকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে মানুষের প্রথম চাহিদা হলো খাদ্য, পানীয়, বস্ত্র এবং আশ্রয়, তার পরেই নিরাপত্তা এবং পরিচিতি। মাসেলো যদি বাঙালিদের নিয়ে গবেষণা করতেন তবে হয়তো বলতেন বাঙালিদের প্রথম চাহিদা খাদ্য এবং দ্বিতীয় চাহিদা বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতি। নানা ধরণের অব্যবস্থাপনা এবং দারিদ্র্য থাকলেও বাংলাদেশের আনাচে কানাচে প্রায় প্রতিটি মানুষের রয়েছে গলায় গলায় গান, গ্রামে গ্রামে নাটক, যাত্রা পালা। উৎসব প্রিয় বাঙালিরা বাংলা সংস্কৃতিকে ধারণ করে প্রাণের গভীর থেকে। সুতরাং বাঙালিরা যেখানেই যাক, সেখানে নিয়ে যায় বাংলার দোআঁশ মাটির ঘ্রাণ, কণ্ঠ ভরা গান আর বুক ভরা বাঙালি সংস্কৃতি। বিলেতের প্রারম্ভিক সময়ের বৈরিতাকে মোকাবেলা করে বাঙালিরা ধীরে ধীরে বিলেতের বুকে শুরু করে বাংলা সংস্কৃতি চর্চা। পঞ্চাশের দশকে বিভিন্নজনের বাড়িতে অথবা রেস্টুরেন্টে বাউল গানের আয়োজন হতো। তবে যেহেতু নাটক করতে লোকবল এবং টেকনিক্যাল সাপোর্টের প্রয়োজন হয় তাই বিলেতে বাংলা নাট্যচর্চা শুরু হয় তারও খানিক পরে। জানা যায় ষাটের দশকে বিলেতে বাংলাদেশী বাঙালিরা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে এবং সেই সাথে শুরু হয় সাংস্কৃতিক চর্চা।

বিলেতে বাংলাদেশী বাঙালিদের বাংলা নাট্যচর্চা ষাটের দশকে শুরু হলেও বিলেতে ওপার বাংলার সবচেয়ে পুরনো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বেঙ্গলি ইন্সটিটিউট ১৯৫৮ সালে বিজন দাশগুপ্তের পরিচালনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “চিরকুমার সভা” নাটকটি মঞ্চায়িত করে। পরিবর্তিতে বেঙ্গলি ইন্সটিটিউট সেই সময়ে আরও অনেকগুলো নাটক মঞ্চস্থ করে। নাটকগুলোতে কাজ করেন অসিত রায় চৌধুরী, নির্মল ঘোষ, বিনাধ বোস, মঞ্জু মিত্র, দীপক কর, দিলীপ চক্রবর্তী, উজ্জ্বল গুহ, শিশির দত্ত প্রমুখ।

পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে বিলেত প্রবাসী এপার বাংলার বাঙালিরা বিক্ষিপ্ত ভাবে নিজেদের মধ্যে গান বাজনা এবং সংস্কৃতি চর্চা করলেও তেমন কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন তৈরি হয়নি। ওই সময়ে পূর্ব লন্ডনের শ্রমজীবী মানুষের সাথে সম্পৃক্ততা তৈরি এবং সবাইকে নিয়ে সাংগঠনিক ভাবে নাট্যচর্চা করার লক্ষ্যে বিশিষ্ট সমাজকর্মী আব্দুল মালেক একটি নাটক মঞ্চায়নের চিন্তা করেন। অবশেষে ওপার বাংলার বাঙালিদের গড়া সংগঠন বেঙ্গলি ইন্সটিটিউটের সহায়তায় শুরু হয় নাটক সিরাজোদৌল্লা’র মহড়া এবং প্রতিষ্ঠিত হয় ইস্টার্ন কালচার সোসাইটি।সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অর্গানাইজার নির্বাচিত হন যথাক্রমে কাজি নুরুস সোবহান, অমল বোস ও আব্দুল মালেক। প্রায় নয় মাস মহড়ার পরে অমল বোসের পরিচালনায় অবশেষে বিলেতের মাটিতে মঞ্চস্থ হয় বাংলাদেশী বাঙ্গালিদের প্রথম নাটক “সিরাজোদৌল্লা”, শুরু হয় বিলেতে বাংলা নাটকের ইতিহাস।

ব্যাপক দর্শক চাহিদা এবং জনপ্রিয়তার ফলে ১৯৬২ সালে আবারো বর্তমান কমার্শিয়াল স্ট্রিটের টয়নবি হলের কার্টেন থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় নাটক সিরাজোদৌল্লা। অভিনয় করেন পরিচালক অমল বোস নিজে এবং অন্যান্য তিন তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেন ছাত্রনেতা সুবিদ আলী টিপু। নাটকে আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন স্থানীয় মেয়র জন অলওয়েল, পিটার শোর এমপি, ইয়ান মিকার্ডো এমপি ও বিল হিলটন এমপি।নাটকটি দেখে তৎকালীন এমপি পিটার শোর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সবসময় বাঙালিদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তী সময়ে বাঙালিরা মূলধারার রাজনীতিতেও যুক্ত হন।

আগেই বলেছিলাম তৎকালীন সময়ে ব্রিটেনে পড়াশোনা করার জন্য অনেকেই এসেছিলেন যারা পড়াশোনা শেষে দেশে প্রত্যাবর্তন করে নানা ক্ষেত্রে এখনো নেতৃত্বদান করে চলেছেন। এদের মধ্যে একজন হলেন বর্তমান বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ। ষাটের দশকের শেষের দিকে বাংলাদেশ জুড়ে ছিলো এক উত্তাল অবস্থা বিরাজমান ছিলো। প্রাক মুক্তিসংগ্রাম সময়ের সেই উত্তাল হাওয়া আন্দোলিত করেছিল বিলেত প্রবাসী বাংলাদেশীদের। ফলশ্রুতিতে ১৯৬৬ সালে বাংলার মুক্তিকামী জনগণের সাথে সংহতি জানাতে বিলেত প্রবাসী ছাত্রদের সংগঠন “শিল্পী সংঘ” মওদুদ আহমেদের লেখা নাটক”নবজন্ম” মঞ্চস্থ করে লন্ডনের সেইন্ট জর্জেস হলে।

নানা সময়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা বিলেতে বাংলা নাটককে আজকের এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো ১৯৬৮ সালে জনাব আব্দুল মালিকের প্রচেষ্টায় টাওয়ার হ্যামলেট গার্লস স্কুলে বাঙালিদের জন্য শুরু হওয়া ইংরেজি শিক্ষা এবং নাট্যাভিনয়ের ক্লাস। যেখানে অমল বোস শিখাতেন নাটকের কলা কৌশল আর লুৎফুর রহমান শেখাতেন ইংরেজি ভাষা। কর্মক্লান্ত দিন শেষে বাঙালিরা বিনোদনের জন্য উপস্থিত হতেন নাট্যাভিনয় ক্লাসে। চলতো মহড়া। ক্ষুদ্র পরিসরে মঞ্চস্থ হতো ছোট ছোট নাটক। যা ছিলো বিলেতের বুকে আজকের ব্যাপক নাট্যচর্চার বপনকাল।

সত্তরের দশকের দিকে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি বিলেতে বাংলা সংস্কৃতি চর্চা ধীরে ধীরে বেগবান হচ্ছিলো। যার নেতৃত্বে ছিলেন তাসাদ্দুক আহমেদ, আব্দুল মালিক, শিশির দত্ত, সবিতা দত্ত সহ বিলেতে পড়তে আসা তরুণ ছাত্ররা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৯৬৯ সালে গঠিত হলো “বাঙালি জাতীয় সাংস্কৃতিক সংসদ” এবং ১৯৭০ সালে গঠিত হলো “বেঙ্গলি কালচারাল এসোসিয়েশন”। একদিকে বিলেতের বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন এবং অন্যদিকে বাংলাদেশে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের থমথমে সময়ে বিলেতের বাঙালিদের আরও উদ্দীপ্ত করলো নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধারণ করে বিশ্বের দরবারে বাংলাকে পরিচিত করবার। দেশপ্রেম আর মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামের প্রতি সংহতি স্বরূপ অমল বোসের পরিচালনায় ১৯৭০ সালে আবারো মঞ্চায়িত হলো বিলেতের প্রথম বাংলা নাটক “নবাব সিরাজুদৌল্লা”।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশে বেজে গেছে যুদ্ধের দামামা। বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিয়েছেন এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। সেই আগুনের আঁচ সাত সমুদ্র পেরিয়ে থেমসের কূলে এসে লাগলো। এখানেও শুরু হলো সংগ্রাম। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি স্বীকৃতি আদায়ের সংগ্রাম। বিলাতের উত্তাল দিনগুলোতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করলো বিলেতে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে আসা বাংলাদেশী ছাত্রদের একটি সাংস্কৃতিক উদ্যোগ যার নাম বাংলাদেশ গণসংস্কৃতি সংসদ। বিলেতের বুকে ঠিক যেন আরও একটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। ১৯৭১ সালের মে মাসে লন্ডন ডব্লিউসি-১ এলাকার টেভিস্টক প্লেসের ৫৯ নং সেমুর হাউসে মিসেস মুন্নী রহমানের বাসায় প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। আর সেই সভাতেই সংগঠনের নামকরণ, উল্লেখিত ঠিকানায় অফিস পরিচালনার পাশাপাশি এনামুল হককে সভাপতি ও মুন্নী রহমানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ২১ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। কমিটির অন্যান্য কর্মীরা ছিলেন— সহসভাপতি যথাক্রমে শফিকুর রহমান, ফজলে লোহানী (নন্দিত টিভিব্যক্তিত্ব) ও শাহিদুদ দাহার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান ও জাকিউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বুলবুল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ আনিস আহমদ (সাপ্তাহিক জনমত পত্রিকার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক); সদস্যবৃন্দ— নারীনেত্রী লুলু বিলকিস বানু, জেবুন্নেসা খায়ের, আহম্মদ হোসেন জোয়ারদার, শিল্পী আবদুর রউফ, এম এ রউফ, মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, এ এফ এম নজরুল ইসলাম, এ রাজ্জাক সৈয়দ, জিয়াউর রহমান খান ও ড. হুজুত আলী প্রামাণিক।

১৮-১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। রেড লায়ন স্কোয়ারের কনওয়ে হ্যলে গণসংস্কৃতি সংসদ আয়োজিত দু’দিনব্যাপী উৎসবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায় সংগঠনের সভাপতি এনামুল হকের রচনা ও সুরারোপে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের বিপ্লবী গীতিআলেখ্য ‘অস্ত্র হাতে তুলে নাও’ নৃত্যনাট্য ও গীতিবিচিত্রা। সাড়া-জাগানো সেই সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধক ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদ্য বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাগত ব্রিটিশ রাজনীতিক পিটার শোর এমপি ও চিত্রপরিচালক জহির রায়হান। অনুষ্ঠানের প্রবেশমূল্য ছিল ০১ পাউন্ড। লন্ডন সাংস্কৃতিক উৎসবের একদিন আগে ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন’ (ল্যাঙ্কাশায়ার ও পার্শ্ববর্তী এলাকা) ম্যানচেস্টার-এর আমন্ত্রণে ১৬ অক্টোবর দুপুর দেড়-ঘটিকায় স্থানীয় ফ্রি-ট্রেড মিলনায়তনে ‘অস্ত্র হাতে তুলে নাও’ নৃত্যনাট্যটি পরিবেশন করে গণসংস্কৃতি সংসদ। নৃত্যনাট্যের প্রধান দুই চরিত্র কিষাণ (মাহমুদ এ. রউফ) ও কিষাণী (মঞ্জু হাফিজ)।

বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বিলেতে নানা কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে সত্তরের দশকে বিলেতে বাংলা নাট্যকর্মীদের একটি পরিমণ্ডল তৈরি হয়েছিলো। যা বিলেতে বাংলা নাট্যচর্চাকে বেগবান করে। সেই সাথে এই সময়ে অনেকগুলো ইয়ুথ সংগঠন তৈরি হয় যার মধ্যে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফ্রন্ট, প্রোগ্রেসিভ ইয়ুথ অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ ইয়ুথ লীগ অন্যতম। এসব সংগঠন ও বাংলা নাট্যচর্চার সাথে সম্পৃক্ত হয়। ১৯৭৩ সালে কুইন মেরি কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে, মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘উল্কা’। অভিনয় করেন আসাব আহমদ, জ্যোতি হাসান, অবই খান, মিফতার আলী, রোজি বেগম, খালেদা বেগম, ফৌজিয়া বেগম প্রমুখ। অমল বোস ১৯৭৪ সালে পরিচালনা করেন “মিলন সেতু” নাটক। এতে অভিনয় করেন জাহাঙ্গীর খান, মিফতার আলী, গোলাম এহিয়া, মানিকুর রহমান, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, আব্দুর রউফ, এখলাস উদ্দিন, ফয়জুর রহমান, মুজিবুল হক, গোলাম সরোয়ার, আব্দুল জব্বার, মি. মজুমদার, শফিকুর রহমান, ফাতেমা মোশাররফ, সেলিনা মোল্লা, লুৎফা বেগম। ১৯৭৪ সালের সাতই ডিসেম্বর শনিবার বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বেথনালগ্রিন এডাল্ট এডুকেশন ইন্সটিটিউটের বাঙালি ছাত্রদের অভিনয়ে বেথনালগ্রিন ডেনফোর্ড স্কুলের হলে মঞ্চস্থ হয় নাটক ডাকবাক্স। এর ঠিক পরের বছর অমল বোস পরিচালনা করেন আরও দুটি সফল নাটক “টিপু সুলতান” এবং “ভাড়াটে চাই”।