আজ বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪

Advertise

ভাস্কর্য বিতর্কের স্থায়ী সমাধান জরুরি

এস এম নাদিম মাহমুদ  

ভাস্কর্য’ বিতর্কে দেশ। পক্ষ-বিপক্ষের বক্তব্যে শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গন উত্তপ্ত। ধর্মীয় বিতর্কে আমাদের মনন-বিকাশে কতিপয় ব্যক্তিদের দ্বারা আঘাত একদিনের ফসল নয়। গত এক যুগের এই পথ পরিক্রমায় প্রতিক্রিয়াশীলদের দখলদারিত্ব আর রাজকীয় সম্মান দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় যে ছুরি বসেছে তারই ফসল হচ্ছে আজকের ‘বঙ্গবন্ধু’ ভাস্কর্য অপসারণের দাবি।

‘বঙ্গবন্ধু’ ভাস্কর্য সারা দেশে ঠিক কতটি আছে তা আমার জানা নেই, তবে দেশের প্রতিটি বড় ও মাঝারি শহরে যে ভাস্কর্য রয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জানানোর জন্য এইসব শিল্পকর্মকে যুগের পর যুগ ধরে মানুষ ভাস্কর্য তৈরি ও সংরক্ষণ করে আসছে। অন্তত আমাদের কয়েকশ বছর আগের ইতিহাসে সেটাই বলে। আপনি যদি উত্তরের জনপদ নওগাঁর বদলগাছীর পাহাড়পুরে যান, সেখানে পাহাড়ের পাদদেশে টেরাকোটা দেখতে পাবেন। সেইসব টেরাকোটায় সেই সময়ের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখা যাবে। আর এইসব টেরাকোটা আছে বলে, আমরা আজও ইতিহাসে সেই সময়ে সংস্কৃতি ও জীবন ছবি স্মৃতিপটে আঁকতে পারি।

বিষয়টি শুধু এখানে শেষ নয়, দেশের বিভিন্ন জাদুঘরে যেসব ভাস্কর্য রয়েছে, সেইগুলোও আমাদের আদি অবস্থান কেমন ছিল তা জানান দেয়। যারা পুরাকীর্তি নিয়ে পড়াশুনা করেন, নৃবিজ্ঞান নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন, তারা বিষয়গুলো আরও বিশদভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধান ( ২০১৬ সংস্করণ) অনুযায়ী ভাস্কর্য শব্দের অর্থ হিসেবে বলা হয়েছে, পাথর, ধাতু, কাঠ প্রভৃতি খোদাই করে নির্মিত শিল্পকর্ম। আর মূর্তি শব্দের অর্থ হিসেবে বলা হয়েছে দেহ, আকৃতি, রূপ, প্রতিমা। ঠিক এই শব্দগুলো অর্থ আমরা ছোটকাল থেকে জেনে এসেছে। আর পত্র-পত্রিকাগুলোতে তাই ব্যবহার হয়ে আসছে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, যে মূর্তির মানে কী, অনায়াসে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দেব-দেবী বলে উত্তর পাওয়া যাবে। কিন্তু ভাস্কর্য বললে, কেউ বলবে রাজু ভাস্কর্য, সাবাস বাংলাদেশ, শাপলা চত্বরের শাপলা কিংবা মুক্তিযুদ্ধের যোদ্ধাদের সম্মানে গড়া কোন মানব অবয়ব হিসেবে চিহ্নিত করবে। কিন্তু আজ মন্দির বা উপাসনালয়ে থাকা প্রতিমার অবয়ব আর ভাস্কর্যের অবয়বকে একাকার করে দেয়া কিছু মানুষ সম্ভবত এইসব ইতিহাসকে অস্বীকার করতে শিখছে। জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত মানুষগুলোও হঠাৎ যেন অসহনীয় ও বর্বরতার আচলে নুয়ে পড়ছে।

আমরা যেন এক অন্যরকম সময়কে আলিঙ্গন করতে যাচ্ছি, যেটিকে আলিঙ্গন করতে গিয়ে পৃথিবীর অনেক দেশের মেরুদণ্ডে চিড় ধরেছে। কোথাও কোথাও অনুভূতির প্রলয়ে ‘অপরাধীদের’ স্বর্গরাজ্য খ্যাত হচ্ছে। আজকের এই পৃথিবী যে প্রান্তে দাঁড়িয়ে, সেই প্রান্তে দাঁড়িয়ে থেকে কয়েক শ বছর আগের অনগ্রসরমান চিন্তা ভাবনা আমাদের জেঁকে বসেছে। যার লক্ষণগুলো ক্রমেই স্পষ্টতর হচ্ছে। দৃশ্যমান ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কথা সবাই জানলেও ঠিক এক অজানা কারণে সবাই মুখে কুলুপ টানছে।


বিষয়টি নিয়ে সমাজ কিংবা রাষ্ট্র বিজ্ঞানীরা ভাল একটা বিশ্লেষণ দিতে পারতেন। তবে কালের পরিক্রমায় আমাদের দেশের সমাজ কিংবা রাষ্ট্র বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ কিংবা ডেটা মূলক প্রবন্ধ সাময়িকীগুলোতে দেখা পাওয়া খুব মুশকিল।

তবে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা উচিত বলে মনে করছি।

ভাস্কর্য বিরোধী যেসব শব্দ বাক্য আজ আমরা যা শুনছি ২০০৮ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ঢাকার বিমানবন্দরের সামনে স্থাপিত ‘বাউল ভাস্কর্য’ অপসারণে হারমোনিক সুর দেখেছি। সেই সময় সেই ভাস্কর্যগুলোকে টেনে হিঁচড়ে নামানো হয়।

বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য সরানোর ‘যুক্তি’ তারা দিচ্ছে, ঠিক একই যুক্তি দিয়ে একযুগ আগে এই গোষ্ঠী কামিয়াব হয়েছে। কয়েক বছর আগেও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে আরও একটি ভাস্কর্য স্থানান্তরের একই গোষ্ঠী সফল হয়েছে। তাহলে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যতে এসে কেন ঠেকবে? একাত্তরে পাকিস্তানীদের হাতে বাঙালিদের রক্তে বুড়িগঙ্গার পানি লাল হয়েছিল, সেই বুড়িগঙ্গায় স্বাধীনতার ঘোষক ও দেশের স্থপতির ভাস্কর্যকে নিক্ষেপ করার অভিপ্রায়কে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? বাংলায় যে প্রবাদ আছে, খাইতে চাইলে বসতে দিতে হয়, আর বসতে দিলে শুতে চাওয়াকে ‘আপনি কীভাবে’ তা অস্প্রর্ধা’ সামিল করবেন?


আমার বিশ্বাস, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য’ জায়গায় যদি রবীন্দ্রনাথ কিংবা জীবনানন্দ দাসের ভাস্কর্য স্থাপন করা হতো, আর সেখানে যদি এই প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী তা অপসারণের দাবি তুলতো, তাহলে তারা সেখানে শতভাগই সফল হতো। কারণ, তারা জানে, তাদের বিশ্বাসকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও সম্মান করেন।

প্রগতিশীলতা মানে একদল মানুষ নাস্তিকতা মনে করে। তারা মনে করে, অসাম্প্রদায়িকতা মানে হলো অন্য ধর্মে বিশ্বাস করা। ভাস্কর্য আর মূর্তিকে যেমন গুলিয়ে ফেলে সহজে লাখ লাখ মানুষের বিশ্বাসকে তারা দখল করেছে। ইউটিউবে কিংবা ফেইসবুকের লাইভে একটি বাক্যে অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত কিংবা শিক্ষিত সব সম্প্রদায় বিনা বাক্যে তা গ্রহণ করে। তাই শিল্পীর ভাস্কর্যকে শিল্প না মনে করে, মূর্তির উপাসনাকে এক কাতারে সামিল করতে তারা দ্বিধা করেননি। আমি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের এমন কোন মুর্তিপূজাকারীকে পাইনি, যারা নিজ ধর্মের প্রতিমা ব্যতীত সাধারণ মানুষের ভাস্কর্য (তাদের ভাষায় মূর্তি) পূজা করেছে। এমন কোন মানুষ পাইনি, যারা ভাস্কর্যকে নিজদের দেব-দেবী মনে করে ঘরে নিয়ে গিয়ে অর্চনা করেছে।

পৃথিবীর বহু মনীষী বিশ্বাস করেন, যে দেশ শিল্প-সাহিত্য যত বেশি উন্নত সে জাতি তত বেশী উন্নত। শিল্পের ভাস্কর্যকে সম্মান দেখানো আর সেটাকে ধর্মীয় দেব-দেবী মনে করা মানুষ ঠিক কতজন আমাদের দেশে আছে? ঠিক কতজন মন্ত্রপাঠ করে, দূর্বা-বেল পাতা অর্ঘ্য সম্প্রদান করে?

আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলামে অন্য ধর্মের বিশ্বাসের প্রতি বিষাদগার করার কথা আছে বলে আমার জানা নেই। তবে শিল্পীর ভাস্কর্যকে ভিন্ন মতাবলম্বীদের উপাসক মনে করা কখনোই বিবেকবান মানুষের কাজ হতে পারে না। পড়াশোনা জানা এই মানুষগুলো হঠাৎ করে কেন ভাস্কর্য আর মূর্তিকে গুলিয়ে ফেললো? কেন আমরা এই দুই শব্দের মধ্যে তফাৎ করতে পারি না? কেন আমরা ভাস্কর্যকে ভালোবাসাকে ‘ঈমানহীনতার’ কাতারে ফেলে দিচ্ছি?

ভাস্কর্য বিরোধীদের দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জিইয়ে রাখার জন্য এই রাষ্ট্র দায়ী। ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক উঠার পরও এই বিষয়ে দৃশ্যত ব্যাখ্যা কোন সরকারই দেয়নি। মূর্তি আর ভাস্কর্য যে ভিন্ন তা তুলে ধরার সক্ষমতা রাষ্ট্র কখনোই দেখায়নি।

২০০৮ সালে বাউল ভাস্কর্য অপসারণের সময় বেশ কিছু প্রগতিশীল সংগঠন প্রতিবাদ করে। 'ভাস্কর্য রক্ষা আন্দোলন' ব্যানারে এক কর্মসূচিতে পাঁচ দফা দাবি তুলেছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল- মুক্তিযুদ্ধ ও লোকজ সংস্কৃতিকে মূল বিবেচ্য রেখে জিয়া বিমানবন্দর চত্বরে ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণ, মানসম্পন্ন বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা ও ধর্ম নিরপেক্ষ সংস্কৃতির চর্চা নিশ্চিত, মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করা। (সূত্র-বিডিনিউজ,৩০ অক্টোবর ২০০৮)

আর সেখানে অংশ নিয়েছিলেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মুনতাসীর মামুন, আনোয়ার হোসেন, হারুন-অর-রশিদ, আআমস আরেফিন সিদ্দিক, আখতারুজ্জামান, আহমেদ কামাল, সাদেকা হালিম, ইসরাফিল শাহীন, সাইফুল ইসলাম খান, মুহম্মদ সামাদ, হাফিজুর রহমান কার্জন, পারভীন হাসান প্রমুখ

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষাসহ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে ছিলেন এইসব শিক্ষাবিদ।

তারা যা যা চেয়েছিলেন গত ১২ বছরে দেশের নিজেদের সেরাটা প্রকাশের সুযোগ থাকা সত্ত্বে শিক্ষা ব্যবস্থায় ঠিক কোন বিষয়গুলো তারা পরিবর্তন আনতে পেরেছে তা আমার জানা নেই। আমরা এমন শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারিনি যে কারণে ভাস্কর্য আর মূর্তির বিষয়গুলো পরিস্কার হয়েছে। আমরা এমন কারিকুলাম প্রণয়ন করতে পারিনি, যেখানে পড়াশুনা করে একজন শিক্ষার্থী শিল্প ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয় ঘটিয়ে ভাস্কর্যকে শিল্পকর্ম চিহ্নিত করতে পারবে। মঙ্গল শোভা যাত্রা যে সংস্কৃতি তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছি। বরং সাম্প্রদায়িক মানুষগুলোকে ভালোবেসে পাঠ্যপুস্তকে অর্ধশত পরিবর্তন এনেছি। নিজের কল্পনা শক্তিরে অবাধ ব্যবহার করতে শিখেছি। যার ফলে, নর্থ আমেরিকার একটি দেশের সাথে এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ হিসেবে গণ্য করার সক্ষমতা আমাদের হয়েছে।

যেসব বন্ধুদের, জ্যেষ্ঠদের কয়েক বছর আগেও প্রগতিশীল চিন্তায় মগ্ন থাকতে দেখতাম, প্রতিক্রিয়াশীলতার জাল কেটে আলো ফেরানোর চেষ্টায় লিপ্ত ছিল, সেই সব মানুষগুলো যেন দিনে দিনে বর্ণচোরা হয়ে যাচ্ছে। ফেইসবুক, পত্র-পত্রিকায় যারা দুই হাত দিয়ে অবাধে লিখতো, কল্পনাশক্তির ব্যবহারের চেয়ে যুক্তি, বিজ্ঞান ও ধর্ম গভীরতা নিয়ে লিখতো, পড়তো, সেই সব মানুষের নীরব উপস্থিতি এক অন্য রকম বার্তা দিচ্ছে।

বিদ্বেষের রেখা এতোটাই দীর্ঘ হয়েছে যে, এখন যারা এই বিষয়ে কথা বলবে, তাদের নামের আগে পিছে ‘নাস্তিকতা’ ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া হবে। যে বিষয়টি সরকার দেখেও না দেখার ভান করেছে বছরের পর বছর, সেই মারপ্যাঁচে আটকা পড়েছে জাতির স্থপতি। চিহ্নিতদের দুর্বৃত্তায়নে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ সংকোচিত হয়ে যাচ্ছে। চিন্তাশীলতার প্রসরতায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের যে দৃষ্টি ভঙ্গি হওয়া উচিত, পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকায় থাকা উচিত, সেখানে ক্ষমতার দীর্ঘয়ানের রসদে প্রগতিশীলদেরই কোণঠাসার ফসল যে ভয়াভয় তা সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সরানো কেবল নমুনা মাত্র। এর সাথে যতটা রাজনৈতিক হিসেব নিকেশ আছে, তার চেয়ে বড় হিসেব হচ্ছে , এক বিশাল জনগোষ্ঠীর র‌্যাপিড ট্রান্সফরমেশন।

যার সুবিধা নিচ্ছে ওই গোষ্ঠী। ধর্মের সাথে রিলেট করে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিতর্কের বিষ ছড়াতে পিছপা হচ্ছে না। ফলে ভাস্কর্য আর মূর্তির ডিস্টিংগুয়েশিং ফ্যাক্টরগুলো সাধারণ মানুষদের বোধগম্যতার বাহিরে চলে যাচ্ছে। যারা জানে, তারাও নিশ্চুপ হয়ে থাকছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভ্রাতৃত্ববোধের রেখা ডট ডট পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।

‘ভাস্কর্য’ আর ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য’ মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে প্রগতিশীল দাবিদার সুশীল সমাজ বিভক্তি না নতুন কোন সংযুক্তি তা ক্রমেই স্পষ্টতর হচ্ছে। সৃজনশীল সৃষ্টিকর্ম গুলোকে আপনি যখন রক্ষা করতে ব্যর্থ হবেন, তখন স্পষ্টত অনগ্রসরতা আমাদের গ্রাস করবে এটাই স্বাভাবিক। নিয়তির চরম দুর্গতি ছুতা টেনে লাভ নেই।

ভাস্কর্যের বিতর্কে প্রতিগতিশীলরা দায় এড়াতে পারেন না। সরকারেরও এই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীয় প্রগতিশীল মানুষদের কোণঠাসা আর বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যসহ সারাদেশের ভাস্কর্য রক্ষায় নিরাপত্তার চাদর কিছুতেই প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তাশীলদের উল্লম্ফন ভবিষ্যতের ‘বিষবাষ্প’ হিসেবে থাকছে।

আজকে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠকন্যা দেশ চালাচ্ছে। সত্তোরর্ধ্বো এই শাসকের কাঁধে বাংলাদেশের স্বপ্ন এগিয়ে চলছে। রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়গুলো যদি না টানি, তাহলে তার মত বিচক্ষণ মানুষ শুধু এশিয়া নয়, বিশ্বের খুব কম সংখ্যক শাসকের মধ্যে রয়েছে। আমি যদি ভুল করে না থাকি, তাহলে দেশের একটি বড় অংশ তাকেই সবকিছুর ভরসাস্থল মনে করে।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে যখন সাম্প্রদায়িক মানসিকতার মানুষদের মনে ঐকতান, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নীরব থাকলেও দিনশেষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য এই যাত্রায় টিকে থাকবে। কিন্তু শঙ্কার বিষয় হলো ‘আগামীর দিনে’ তা টিকবে তো? বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর বয়সসীমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সাহসিকতায় প্রতিক্রিয়াশীলদের এই চাওয়াকে থমকে দিলেও প্রধানমন্ত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যুর পর কোন বাংলাদেশ তিনি রাখবেন তা নিয়ে শঙ্কা করা কিছুতেই অমূলক হবে না।

দেশে যদি কোনদিন, ভাস্কর্য বিরোধীদের জয়গান সফল হয়, তাহলে স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে জন্ম নেয়া বাংলাদেশ থেকে ‘সাম্প্রদায়িক বঙ্গ’ হিসেবে পরিচিতি দানের জন্য ক্ষমতানশীনদের দায় এড়ানোর কোন সুযোগ নেই। যাবতীয় অর্জন নিমিষে মুছিয়ে দিতে প্রস্তুত তারা। তখন স্মৃতিসৌধ থেকে শহীদ মিনার, বাউল থেকে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ভুলুণ্ঠিত হওয়াতে কারো হৃদয়ে দাগ কাটবে কী না তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে যাচ্ছে। আমি চাই, আমার এই ভাবনা কখনোই সত্য না হোক। আমার জীবদ্দশায় অন্তত সেই হাতছানি দেয়া বাংলাদেশকে দেখতে চাই না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত বাংলাদেশ দেখেই যেন আমাদের মৃত্যু হয়।

এস এম নাদিম মাহমুদ, গবেষক, ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ৪৮ অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১১ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আনোয়ারুল হক হেলাল আফসানা বেগম আবদুল গাফফার চৌধুরী আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ৩২ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল ১০ আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৮ আরিফ রহমান ১৬ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৫৪ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইনাম আহমদ চৌধুরী ইমতিয়াজ মাহমুদ ৭১ ইয়ামেন এম হক এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন একুশ তাপাদার এখলাসুর রহমান ৩৭ এনামুল হক এনাম ৪৪ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ৩৩ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৬৩ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান কেশব কুমার অধিকারী খুরশীদ শাম্মী ১৭ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ৪৪ জহিরুল হক মজুমদার জাকিয়া সুলতানা মুক্তা জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুনাইদ আহমেদ পলক জুয়েল রাজ ১০৭ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ১২ ড. কাবেরী গায়েন ২৩ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ড. শামীম আহমেদ ৪১ ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ ২০ ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার তোফায়েল আহমেদ ৩১ দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৭ নাজমুল হাসান ২৪ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক প্রফেসর ড. মো. আতী উল্লাহ ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৪২ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৮ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১৯১ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৫৩ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক ১৪ রণেশ মৈত্র ১৮৩ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ৫৫ রাজু আহমেদ ১৯ রাজেশ পাল ২৮ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩৮ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাওন মাহমুদ