আজ শুক্রবার, ২১ জুন, ২০২৪

Advertise

সিলেটের জলাবদ্ধতা: এক নতুন অভিযোজনের প্রস্তাব

এনামুল হক এনাম  

বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সিলেট শহরের জলাবদ্ধতা পর্যবেক্ষণ করে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে পেরেছি: নগরে বাস করতে হলে অভিযোজন ক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি। এই জলাবদ্ধতা যেন এক স্থায়ী সঙ্গী হয়ে গেছে। বর্ষাকালে রাস্তা, দোকানপাট, বাসাবাড়ি সবকিছুই যেন একটি বৃহৎ জলাশয়ে পরিণত হয়, এবং এই জলাশয়ে সাঁতরে আমাদের জীবন অতিবাহিত করতে হয়।

জলাবদ্ধতার এই স্থায়ী রূপে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে নিজেকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে 'উভচর' প্রাণি হিসেবে অভিযোজিত করা। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন, জলাবদ্ধতার ক্রমাগত প্রকোপের ফলে সিলেটের বাসিন্দাদের মধ্যে এমন জিনগত পরিবর্তন (মিউটেশন) প্রয়োজন যা তাদের স্থল ও জল উভয় পরিবেশে সহজেই বসবাস করতে সক্ষম করবে।

জলাবদ্ধতার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তাবিত সমাধান হলো 'অ্যাম্বিফিবিয়ান ট্রান্সমিউটেশন'। এই প্রক্রিয়ায় মানবদেহে এমন জিনগত পরিবর্তন আনা হবে যা তাকে উভচর প্রাণির মতো স্থল এবং জলের উভয় পরিবেশে অভিযোজিত হতে সাহায্য করবে। বিশেষত, আমরা এমন এক প্রজাতি তৈরি করব যারা সমান দক্ষতায় ডাঙায় হাঁটতে পারবে এবং পানিতে সাঁতরাতে পারবে।

বিজ্ঞানের এই যুগান্তকারী প্রস্তাবনা আমাদের নগরের সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে। ভাবুন তো, একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি আবিষ্কার করলেন যে আপনার পায়ে ঝিল্লিযুক্ত আঙুল এবং গায়ে উভচর প্রাণির মতো শ্বাসযন্ত্র রয়েছে। এখন আপনি বৃষ্টির দিনে রাস্তার পানিতে হাঁটবেন না, বরং সাঁতরাবেন! এবং এটা হবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি দৃশ্য।

কল্পনার জগতে যাওয়ার আগে বাস্তবতার কিছু প্রেক্ষাপট দেখে নেওয়া যাক। সিলেটের রাস্তা ঘাটে একসময় মানুষ গাড়ি চালাতো, এখন সেই গাড়ি নৌকায় রূপান্তরিত হয়েছে। রাস্তার ধারে দোকানগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতারা জলের মধ্যে হাঁটু গেড়ে দাঁড়িয়ে লেনদেন করেন। অফিস-আদালত থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ পর্যন্ত সবখানেই পানির প্রভাব বিরাজমান। এই পরিস্থিতিতে আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভিযোজন ক্ষমতার উন্নতি করা অত্যাবশ্যক।

এখন ভাবুন, যদি আমরা সত্যিই এই 'অ্যাম্বিফিবিয়ান ট্রান্সমিউটেশন' প্রক্রিয়াটি গ্রহণ করি, তবে আমাদের জীবনে কেমন পরিবর্তন আসতে পারে? প্রথমত, জুতো কোম্পানিগুলোকে নতুন ধরনের 'উভচর' জুতো তৈরি করতে হবে, যা পানির নিচেও আরামদায়ক হবে। দ্বিতীয়ত, সাঁতারের পোশাকের মতো পোশাকও হবে দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এবং স্কুলের পাঠ্যক্রমেও নতুন অধ্যায় যোগ হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা 'উভচর জীবনের কলাকৌশল' শিখবে।

এছাড়া, বাসাবাড়ির নকশায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। পানির নিচে শ্বাস নেওয়ার উপযোগী জানালা ও দরজা তৈরি করতে হবে। জলাবদ্ধতার দিনে ঘর থেকে বের হতে নৌকা থাকবে প্রতিটি পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকায়।

জলাবদ্ধতার দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার এমন সমাধান ভাবতে ভাবতে আমরা একটি বাস্তবতাকে অবহেলা করছি। প্রকৃতপক্ষে, নগরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য যথাযথ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। ড্রেনেজ সিস্টেমের উন্নতি, নদী ও খাল খনন, এবং বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনার সঠিক পরিকল্পনা আমাদের বর্তমান চ্যালেঞ্জের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান এনে দিতে পারে।

তবে, যদি আমরা বিজ্ঞান ও কল্পনার মেলবন্ধনে এই 'অ্যাম্বিফিবিয়ান ট্রান্সমিউটেশন' প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে তা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে। আমরা তখন প্রকৃতির সঙ্গে আরো একাত্ম হয়ে, একটি নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতে পারব, যেখানে নগরের জলাবদ্ধতা আর কোনো সমস্যাই নয়, বরং এক নতুন অভিযোজনের অধ্যায়।

এনামুল হক এনাম, কলামিস্ট, সাহিত্যিক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ৪৮ অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১১ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আনোয়ারুল হক হেলাল আফসানা বেগম আবদুল গাফফার চৌধুরী আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ৩২ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল ১০ আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৮ আরিফ রহমান ১৬ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৫৪ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইনাম আহমদ চৌধুরী ইমতিয়াজ মাহমুদ ৭১ ইয়ামেন এম হক এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন একুশ তাপাদার এখলাসুর রহমান ৩৭ এনামুল হক এনাম ৪৪ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ৩৩ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৬৩ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান কেশব কুমার অধিকারী খুরশীদ শাম্মী ১৭ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ৪৪ জহিরুল হক মজুমদার জাকিয়া সুলতানা মুক্তা জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুনাইদ আহমেদ পলক জুয়েল রাজ ১০৭ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ১২ ড. কাবেরী গায়েন ২৩ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ড. শামীম আহমেদ ৪১ ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ ২০ ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার তোফায়েল আহমেদ ৩১ দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৭ নাজমুল হাসান ২৪ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক প্রফেসর ড. মো. আতী উল্লাহ ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৪২ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৮ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১৯১ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৫৩ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক ১৪ রণেশ মৈত্র ১৮৩ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ৫৫ রাজু আহমেদ ১৯ রাজেশ পাল ২৮ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩৮ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাওন মাহমুদ