টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
Advertise
এনামুল হক এনাম | ০৯ জুন, ২০২৪
বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সিলেট শহরের জলাবদ্ধতা পর্যবেক্ষণ করে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে পেরেছি: নগরে বাস করতে হলে অভিযোজন ক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি। এই জলাবদ্ধতা যেন এক স্থায়ী সঙ্গী হয়ে গেছে। বর্ষাকালে রাস্তা, দোকানপাট, বাসাবাড়ি সবকিছুই যেন একটি বৃহৎ জলাশয়ে পরিণত হয়, এবং এই জলাশয়ে সাঁতরে আমাদের জীবন অতিবাহিত করতে হয়।
জলাবদ্ধতার এই স্থায়ী রূপে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে নিজেকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে 'উভচর' প্রাণি হিসেবে অভিযোজিত করা। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন, জলাবদ্ধতার ক্রমাগত প্রকোপের ফলে সিলেটের বাসিন্দাদের মধ্যে এমন জিনগত পরিবর্তন (মিউটেশন) প্রয়োজন যা তাদের স্থল ও জল উভয় পরিবেশে সহজেই বসবাস করতে সক্ষম করবে।
জলাবদ্ধতার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তাবিত সমাধান হলো 'অ্যাম্বিফিবিয়ান ট্রান্সমিউটেশন'। এই প্রক্রিয়ায় মানবদেহে এমন জিনগত পরিবর্তন আনা হবে যা তাকে উভচর প্রাণির মতো স্থল এবং জলের উভয় পরিবেশে অভিযোজিত হতে সাহায্য করবে। বিশেষত, আমরা এমন এক প্রজাতি তৈরি করব যারা সমান দক্ষতায় ডাঙায় হাঁটতে পারবে এবং পানিতে সাঁতরাতে পারবে।
বিজ্ঞানের এই যুগান্তকারী প্রস্তাবনা আমাদের নগরের সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে। ভাবুন তো, একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি আবিষ্কার করলেন যে আপনার পায়ে ঝিল্লিযুক্ত আঙুল এবং গায়ে উভচর প্রাণির মতো শ্বাসযন্ত্র রয়েছে। এখন আপনি বৃষ্টির দিনে রাস্তার পানিতে হাঁটবেন না, বরং সাঁতরাবেন! এবং এটা হবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি দৃশ্য।
কল্পনার জগতে যাওয়ার আগে বাস্তবতার কিছু প্রেক্ষাপট দেখে নেওয়া যাক। সিলেটের রাস্তা ঘাটে একসময় মানুষ গাড়ি চালাতো, এখন সেই গাড়ি নৌকায় রূপান্তরিত হয়েছে। রাস্তার ধারে দোকানগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতারা জলের মধ্যে হাঁটু গেড়ে দাঁড়িয়ে লেনদেন করেন। অফিস-আদালত থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ পর্যন্ত সবখানেই পানির প্রভাব বিরাজমান। এই পরিস্থিতিতে আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভিযোজন ক্ষমতার উন্নতি করা অত্যাবশ্যক।
এখন ভাবুন, যদি আমরা সত্যিই এই 'অ্যাম্বিফিবিয়ান ট্রান্সমিউটেশন' প্রক্রিয়াটি গ্রহণ করি, তবে আমাদের জীবনে কেমন পরিবর্তন আসতে পারে? প্রথমত, জুতো কোম্পানিগুলোকে নতুন ধরনের 'উভচর' জুতো তৈরি করতে হবে, যা পানির নিচেও আরামদায়ক হবে। দ্বিতীয়ত, সাঁতারের পোশাকের মতো পোশাকও হবে দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এবং স্কুলের পাঠ্যক্রমেও নতুন অধ্যায় যোগ হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা 'উভচর জীবনের কলাকৌশল' শিখবে।
এছাড়া, বাসাবাড়ির নকশায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। পানির নিচে শ্বাস নেওয়ার উপযোগী জানালা ও দরজা তৈরি করতে হবে। জলাবদ্ধতার দিনে ঘর থেকে বের হতে নৌকা থাকবে প্রতিটি পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকায়।
জলাবদ্ধতার দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার এমন সমাধান ভাবতে ভাবতে আমরা একটি বাস্তবতাকে অবহেলা করছি। প্রকৃতপক্ষে, নগরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য যথাযথ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। ড্রেনেজ সিস্টেমের উন্নতি, নদী ও খাল খনন, এবং বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনার সঠিক পরিকল্পনা আমাদের বর্তমান চ্যালেঞ্জের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান এনে দিতে পারে।
তবে, যদি আমরা বিজ্ঞান ও কল্পনার মেলবন্ধনে এই 'অ্যাম্বিফিবিয়ান ট্রান্সমিউটেশন' প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে তা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে। আমরা তখন প্রকৃতির সঙ্গে আরো একাত্ম হয়ে, একটি নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতে পারব, যেখানে নগরের জলাবদ্ধতা আর কোনো সমস্যাই নয়, বরং এক নতুন অভিযোজনের অধ্যায়।
মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।
আপনার মন্তব্য