আজ শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬

Advertise

শিক্ষার্থী আন্দোলন, দায়ভার ও সমাধান

এনামুল হক এনাম  

আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে শীর্ষ নেতারা চলমান আন্দোলনের ধ্বংসযজ্ঞের জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করছেন। আন্দোলনে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার ব্যর্থতা এড়িয়ে পুরো দোষ বিএনপি-জামায়াতের ওপর চাপাতে চাচ্ছেন।

যদি আন্দোলনের টাইমলাইন দেখি, তবে সহজেই বোঝা যায় কখন একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল। এটি নিয়ে কিছু বলতে নিজেরই লজ্জা লাগে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা কি ভেবেছিলেন যে, ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নেমে কয়দিন চিৎকার-চেঁচামেচি করে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে যাবে?

আওয়ামী লীগের মতো দক্ষ নেতায় দলভারি থাকা সত্ত্বেও, তারা কি টের পাননি যে আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে বিএনপি-জামায়াত সুযোগ নেবে? অতীতে একক আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াত সফল হতে পারেনি, তবে সুযোগ বুঝে তারা আলু পোড়া খাবেই।

বর্তমান আন্দোলন একটি নির্দিষ্ট ইস্যু "কোটা" নিয়ে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত তো আদর্শিক রাজনীতি করে। ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনে নিজেরা অংশগ্রহণ করে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে, এটা বুঝতে বিশাল গবেষণার প্রয়োজন নেই।

ছাত্রছাত্রীদের ইস্যু কোটা, যা বর্তমানে হত্যার বিচার চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের ইস্যু সরকারের পতন। তারাই সুযোগ বুঝে ছাত্রছাত্রীদের মুখে তুলে দিয়েছে, "তুমি কে, আমি কে... রাজাকার, রাজাকার"। তারাই স্লোগান দিচ্ছে, "দাবী এখন একটাই, স্বৈরাচারের পতন চাই"।

বুদ্ধি বিচার, বিবেচনা আর কৌশলে দেশ শাসন করতে হয়। জোরপ্রয়োগ সবসময় কাজ করে না, বরং হিতে বিপরীত হয়, যেমন এখন হচ্ছে। আর জোর প্রয়োগ করবেন কার বিরুদ্ধে? ছাত্রছাত্রীরা তো এদেশেরই জনগণ, এরা তো সরকারের শত্রু নয়। আদতে বিএনপি-জামায়াতও আপনার শত্রু নয়। এরা একটি ভিন্ন মতাদর্শ, যারা যে কোন কৌশলে ক্ষমতায় যেতে চায়। তাই তাদের কৌশলেই মোকাবিলা করা উচিত।

চলমান আন্দোলনের সমাধানে কী করা যেতে পারে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।

১. দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং নেতাদের পদত্যাগ এবং জবাবদিহির মুখোমুখি করা।
২. বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে সকল হত্যার সুষ্ঠু এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
৩. এই আন্দোলন থেকে শিক্ষা নেওয়া, বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশলে দ্রুত এবং নমনীয়ভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা।

একটা উদাহরণ দিতে চাই। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের সময় জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাহারা খাতুন দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থল বিডিআর সদর দপ্তরে যান, বিদ্রোহী সদস্যদের সাথে আলোচনা করে পরিস্থিতি সামাল দেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, ২০২৪ সালে এসে কেন অভিজ্ঞ আওয়ামী নীতিনির্ধারণী মহল তরুণ কয়েকজন নেতাকে কোটা আন্দোলন সমন্বয়কদের কাছে শুরুতেই পাঠালো না? কেন তাদের বক্তব্য শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি সমাধান করা হলো না? দিনশেষে তো তাদের দাবী সরকার মেনেই নিয়েছিল, তা আদালত মারফত হোক বা কৌশলেই হোক।

কেন এই দুই অবস্থানের পার্থক্য? বিডিআরদের হাতে অস্ত্র ছিল, আর ছাত্ররা নিরস্ত্র। কি প্রয়োজন ছিল ছাত্রলীগ আর পুলিশকে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি করার?

নাকি দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ গায়ে গতরে মোটা হয়ে ভাবছে... মুই কি হনুরে!!!

আওয়ামী নেতাদের বলি, আসুন শিখি... নিজের ভুল থেকে, ইতিহাস থেকে। বর্তমানে সরকার পরিচালনার যে কৌশল আওয়ামী লীগ অবলম্বন করছে, এই ধরনের উদাহরণ পৃথিবীতে আরও ছিল, ইতিহাসে যার পরিণতি খুবই খারাপ।

আসুন, এখনো দেরি হয়ে যায়নি, নিজেদের শোধরাই।

এনামুল হক এনাম, কলামিস্ট, সাহিত্যিক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ৪৮ অধ্যাপক ডা. শেখ মো. নাজমুল হাসান ২৭ অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১১ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আনোয়ারুল হক হেলাল আফসানা বেগম আবদুল গাফফার চৌধুরী আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ৩২ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল ১০ আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৮ আরিফ রহমান ১৬ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৫৪ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইনাম আহমদ চৌধুরী ইমতিয়াজ মাহমুদ ৭২ ইয়ামেন এম হক এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন একুশ তাপাদার এখলাসুর রহমান ৩৭ এনামুল হক এনাম ৫৪ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৬৪ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান কেশব কুমার অধিকারী খুরশীদ শাম্মী ১৮ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ৪৪ জহিরুল হক মজুমদার জাকিয়া সুলতানা মুক্তা জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুনাইদ আহমেদ পলক জুয়েল রাজ ১১২ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ১২ ড. কাবেরী গায়েন ২৩ ড. নাদিম মাহমুদ ৩৭ ড. মাহরুফ চৌধুরী ১০ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ড. শামীম আহমেদ ৪৫ ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ ২০ ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার তোফায়েল আহমেদ ৩২ দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৭ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক প্রফেসর ড. মো. আতী উল্লাহ ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৪৪ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৮ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১৯৪ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৫৩ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক ১৪ রণেশ মৈত্র ১৮৩ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ৫৫ রাজু আহমেদ ৩৯ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩৮ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর