আজ বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬

Advertise

মুগ্ধরা কী পেল?

ড. শামীম আহমেদ  

৫ অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানে বিগত সরকার পতনের পর যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলো, তাদের কাছ থেকে গত ৩ মাসে মুগ্ধরা কী পেল?

সাধারণ আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার মধ্যে পানি বিলিয়ে যাচ্ছিল মুগ্ধ; পানি লাগবে পানি? সেই মুগ্ধ গুলি খেয়ে মারা পড়ে। মৃত্যুর আগের দিন মুগ্ধ ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছিল ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনকে যাতে রাজনৈতিক কারণে স্যাবোটাজ না করে বিএনপি-জামায়াত। মুগ্ধ’র ওই পোস্টের পরের দিনই তার মৃত্যু এখন আর কারও কাছে কাকতালীয় বলে মনে হচ্ছে না।


মুগ্ধ, আবু সাইদসহ শত শত মানুষ নিহত হয়েছে ১৫ জুলাই থেকে ৫ অগাস্ট ২০২৪। নিজের দেশের সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা মূলত গৃহযুদ্ধ ছাড়া কমই হয়। বাংলাদেশে হয়েছে। ব্যর্থ সরকার, অযোগ্য নেতৃত্ব খুব সাধারণ একটা বিষয়কে জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হতে দিয়েছে; সেই ইস্যুকে কেন্দ্র করে নানা ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অনিবার্য হয়েছে সরকার পতন ও সম্পূর্ণ অসাংবিধানিকভাবে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ যা বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। এই বিষয়টি মনে রাখা দরকার বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোন বিধান নেই, আর সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত নতুন সরকার শপথ নেবার আগ পর্যন্ত পূর্ববর্তী সরকার প্রধান দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদায় যেভাবে হয়েছে, তাতে করে ঐ সময়ে তার কোন জনসমর্থন ছিল না এবং ওই অবস্থায় ইউনূসের সরকার গঠনকে সবাই স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে ইউনূস সরকারের চাইতে খারাপ সরকার সম্ভবত কেবলমাত্র আর একটি আছে – সেটি হচ্ছে ৭৫ এর ১৫ অগাস্ট পরবর্তী খন্দকার মোশতাকের সরকার। যেহেতু ইউনূস সরকার সর্বৈব ব্যর্থ, সুতরাং মানুষ শেখ হাসিনার উপর বীতশ্রদ্ধ হলেও এখন এই সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা শুরু করেছে, এটাই স্বাভাবিক।


কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা, অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণজাগরণ, শোষণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধের অভিপ্রায়ে কোটা আন্দোলনে নামা মুগ্ধরা গত ৩ মাসে তবে কী পেল? মনে রাখতে হবে এই আন্দোলনকে যারা জোরদার করেছিল, তাদের অনেকেই এটি ১ দফায় পরিণত হবার আগেই নিহত হয়েছে। তাদের লাশের উপর পা দিয়ে এটিকে ১ দফায় রূপান্তর করা হয়েছিল; যার যৌক্তিকতাকেও হয়ত অগ্রাহ্য করা যাবে না। শত শত ছাত্র হত্যার পর বিগত সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোন সুযোগ ছিল না। প্রথমত, এটি পরিষ্কার যে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে কোটা বিষয়ক সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে জনগণের সামনে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

দ্বিতীয়ত, সরকারের সরাসরি নির্দেশে ছাত্রদের দমন-পীড়ন করা হচ্ছিল। অসংখ্য ছাত্র, পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে, যা থামানোর কোন চেষ্টা সরকারের মধ্যে ওই সময়ে দেখা যায়নি।

তৃতীয়ত, সম্পূর্ণ দলীয়ভাবে গড়ে তোলা নিরাপত্তা বাহিনী, ভারতের হস্তক্ষেপে পরিচালিত সামরিক ও নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কোটা আন্দোলনকে জঙ্গি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, জঙ্গি মৌলবাদী গোষ্ঠীর পরিকল্পনায় কোটা আন্দোলনকে সরকার পতনের একদফা ষড়যন্ত্রে পরিণত হওয়া ঠেকাতে পারেনি। পারেনি সরকারের ছায়ার মধ্যে থেকে জঙ্গি বাহিনী দিয়ে ছাত্রদের গুলি করে মারার ঘটনাও।

চতুর্থত, ছাত্রদের আবেগকে না বুঝতে পারা; ছাত্রলীগের কর্মীদের হাসপাতালে দেখতে যাওয়া, মানুষের জীবনের চাইতে বিটিভির পোড়াভবনকে নিয়ে মাতম করা, বাবা-মা হারানোর শোককে সন্তান হারানোর শোকের চাইতে উপরে রাখার চেষ্টা, সর্বোপরি, ৪৯ বছরের ভাঙা রেকর্ড বাজানোর ক্লান্তিকর চেষ্টা ও দুর্বল ন্যারেটিভ গত সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল।


কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, মুগ্ধরা কী পেল? যে ধর্মীয় উগ্র মৌলবাদী শক্তিকে তাদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত না হবার আহ্বান জানিয়েই সম্ভবত গুলির শিকার হতে হয়েছিল মুগ্ধকে, দেশের সর্বস্তরে আজ তাদেরই আস্ফালন দেখতে পাচ্ছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ভূলুণ্ঠিত করা হচ্ছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতীক ধানমন্ডির ৩২ নম্বরকে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, সারাদেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর চিহ্ন মুছে দেবার চেষ্টা চলছে, আমাদের ধর্ম নিরপেক্ষ-অসাম্প্রদায়িক সংবিধানকে বাতিল করে উগ্র ডানপন্থীদের দিয়ে নতুন সংবিধান লেখার চেষ্টা চলছে, সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিদের অপমান-লাঞ্ছনা করা হচ্ছে, জাতীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা’ বলতে বাধা দেয়া হচ্ছে; সরকারে-প্রশাসনে বদলি-নিয়োগ-বরখাস্ত করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্রদের তৈরি করা তালিকা ধরে যাদের বেশিরভাগের মূল উদ্দেশ্য মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শকে ধূলিসাৎ করে দেয়া। অনেকে নিয়মিত বিধবা-প্রতিবন্ধী-মুক্তিযুদ্ধ ভাতা পাচ্ছেন না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন ও সহযোগিতা করা প্রধান দুটি দেশ ভারত ও রাশিয়ার সাথে সরাসরি বিরোধিতার প্রয়াস ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র শত্রু পাকিস্তান ও প্রধান বিরোধিতাকারী আমেরিকার সাথে দাসত্বমূলক আচরণ দেখা গেছে ইউনূস সরকারের মধ্যে।


যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে ৫ অগাস্ট গত সরকারের পতন ঘটিয়েছিল ছাত্রজনতা, ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার তাদের সকল কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। কোটা বাতিলের সূত্র ধরে যে অভ্যুত্থান, সেই কোটাকেই প্রধান চালিকাশক্তি করে নিয়েছে ইউনূস-মাহফুজের সরকার। সরকারের শীর্ষ পদ থেকে প্রশাসনের সর্বনিম্ন স্তরের নিয়োগও হচ্ছে মূলত ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী” কোটা ব্যবস্থায়। তার চাইতেও ভয়ংকর এটি যে কে সরকার ও প্রশাসনে জায়গা পাবে আর কে পাবে না, সেটি অনেকক্ষেত্রেই নির্ধারণ করা হচ্ছে তাদের ফেইসবুকের স্ট্যাটাস দেখে! দেশের মানুষকে অন্ধকারে রেখে ইউনূস নিজের ও প্রতিষ্ঠানের অর্ধ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করিয়ে নিয়েছেন। জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছে হাজার হাজার দাগী অপরাধীকে।


যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বের বাংলাদেশীরা রাস্তায় নেমেছিল, ৫ অগাস্টের পর থেকে সেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শত শত পুলিশ, ছাত্রলীগ কর্মীসহ অসংখ্য মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শ অন্তরে ধারণ করা মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা গৃহযুদ্ধ এবং ‘এথনিক ক্লিনজিং’ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও কখনও দেখা যায়নি। তার চাইতেও ভয়ংকর ব্যাপার ৫ থেকে ৮ অগাস্ট পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যাকে ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে। ইউনূসের সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়েছে দিয়েছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এই সময়ে সংগঠিত কোন খুন-হত্যা মামলা করা যাবে না। পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে এটি হতে পারে, সেটি আমাদের ভাবনারও বাইরে।


দেশের অর্থনীতি ডুবে যাচ্ছে, তৈরি পোশাকশিল্পের অন্তত ২৫ শতাংশ কাজ ভারত-পাকিস্তান-ভিয়েতনাম-চায়না-কম্বোডিয়ায় চলে গেছে; ব্যাংকিং সেক্টর স্থবির, বিনিয়োগ নেই, মূল্যস্ফীতি সর্বকালের সর্বোচ্চ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্মরণকালের মধ্যে সর্বনিম্ন, শিক্ষাব্যবস্থায় অরাজকতা চলমান, খুন-গুম-ছিনতাই-লাঞ্ছনা নিত্যনৈমিত্তিক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে।

বিগত সরকার পতনে প্রায় একযুগ ধরে কাজ করা উচ্চবিত্ত-উচ্চমধ্যবিত্ত-শিক্ষিত প্রবাসী বাংলাদেশী-ধনাঢ্য পরিবারগুলো “সবকিছু ঠিক হতে কিছুদিন লাগবে” এই ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা চালাচ্ছিল, তাও এখন সাধারণ মানুষের কাছে ঠুনকো লাগছে। সাধারণ মানুষ বিগত সরকারের দুর্নীতি ও অযোগ্য মন্ত্রী-এমপি বিষয়ে অবগত, কিন্তু অর্থনৈতিক যে স্বচ্ছন্দ সবক্ষেত্রে ছিল, সে বিষয়ে বর্তমান সরকারের সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবী-সুশীলদের বয়ানে সাধারণ মানুষ মোটেও আস্থা রাখতে পারছে না।


অন্তর্বর্তী সরকারের ৩ মাসে এটি পরিষ্কার যে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে একটি উগ্র ইসলামী গোষ্ঠী। এরা গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মধ্যে মিশে গিয়ে স্যাবোটাজ চালাচ্ছিল, এখন ভোল পাল্টে সরাসরি দেশকে একটি ধর্মীয় উগ্রবাদী চেহারা দেবার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের একটা বিপুল জনগোষ্ঠী মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটায়নি, তারা পতন ঘটিয়েছে এমন একটি সরকারের যারা দেশে উগ্র মৌলবাদ প্রতিষ্ঠা করতে বাধা দিচ্ছিল। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, দেশের একটি বিপুল জনগোষ্ঠীর কাছে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক সুরক্ষা, নারীর স্বাধীনতা, শিক্ষা ও প্রগতির চাইতে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ; এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে প্রগতিশীলতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা মুছে দিয়ে একটি ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যই ছাত্র আন্দোলনের ছদ্মাবরণে তারা আজকের পর্যায়ে নিয়ে গেছে বাংলাদেশকে। এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে, ইরান ও আফগানিস্তানের উদাহরণ আমাদের খুব দূরবর্তী নয়।


উগ্র ইসলামী গোষ্ঠীর বাইরে দ্বিতীয় যে গোষ্ঠী বিগত সরকারকে নিজেদের স্বার্থে উৎখাত করেছে তাদের সাথে আবার ধর্মের কোন সম্পৃক্ততা নেই। এদের অঢেল টাকা-পয়সা, সন্তানদের পড়ালেখা আমেরিকা, ইংল্যান্ডের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে, তাদের পরিবারের কারও না কারও সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। এদের মূল ক্ষোভ বিগত প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে ধারাবাহিকভাবে দূরে সরিয়ে দেয়ায়। একসময় আওয়ামী লীগে একচ্ছত্র আধিপত্য পাওয়া এই গোষ্ঠী বিগত সরকারের ‘পছন্দের তালিকা’ থেকে সরে যাওয়ায় তারা স্রেফ ‘ইগো’ থেকে খুব সহজেই দেশের ডানপন্থী ও আমেরিকার পৃষ্ঠপোষক ‘সিভিল সোসাইটি’ অর্গানাইজেশনগুলোর স্লো ইনভেস্টমেন্টে সম্পৃক্ত হয়ে বিগত সরকার পতনে মূল ভূমিকা রেখেছে। এদের অনেকে শাহবাগ আন্দোলনসহ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক নানা উদ্যোগে একসময় সামনের কাতারে ছিল, কিন্তু ব্যক্তি উদ্যোগে আঘাত লাগায়, তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে সময় লাগেনি। এরা এখন খুব ধীরে ‘আফসোস লীগ’ ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে, যেখানে তাদের সবারই আমেরিকা-ক্যানাডায় সেকেন্ড হোম এস্টাবলিসড করা হয়েছে দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে।

১০
বর্তমান সরকার গত ৩ মাসে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বৈশ্বিক রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের অসাংবিধানিক সরকার, বিচারবহির্ভূত সকল কর্মকাণ্ড আগামী দিনগুলিতে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। জাতিসংঘ ও আমেরিকার যে আশীর্বাদ তারা পেয়েছিল, তা শীঘ্রই ম্রিয়মাণ হওয়া শুরু করবে। এমতাবস্থায়, বিএনপির একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনে আশু নির্বাচনের দাবী করা উচিৎ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, ইউনূস সরকারের ব্যর্থতা, বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ, এইসব পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএনপির উচিৎ হবে জনগণের মনের কথা বুঝতে পেরে নির্বাচনের দাবী তোলা। এটি মানুষের মনে জায়গা করে নেবার জন্য তাদের সামনে একটি বিরল সুযোগ, যা হেলায় হারানোর কোন মানে হয় না।

আর আপনি, আমি - আমাদের কাজ আওয়ামী লীগের সরকার হিসেবে প্রত্যাবর্তনের দায়িত্ব নেয়া নয়; এটি যারা গত ১৫ বছরে শত শত কোটি টাকা কামিয়েছে, তাদের। তারা কীভাবে তাদের দলকে পুনর্গঠন করে আবার রাজনীতিতে ফিরবে, সেটি তাদেরই ঠিক করতে হবে। কিন্তু আমাদের কাজ হচ্ছে ইউনূস সরকারের অসাংবিধানিক কাজের প্রতিবাদ করা, ভয়াবহ অরাজকতা থামানোয় উচ্চকিত হওয়া। বিগত সরকারের সুবিধাভোগী, ও পরবর্তীতে ভোল পাল্টে ইউনূস সরকারের অংশ হয়ে যাওয়া যে ‘সুশীল’ গোষ্ঠীটি বর্তমান সরকারের যৌক্তিক সমালোচনাকে ‘আফসোস লীগ’ নামে অপপ্রচার করছে; আপনার আমার কাজ হচ্ছে মুগ্ধ’র যে ছবি প্রিন্ট করে তাদের তেলতেলে মুখের উপর সাঁটিয়ে দিয়ে দেশরক্ষায় সাহায্য করা।

ড. শামীম আহমেদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সামাজিক-বিজ্ঞান গবেষক।

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ৪৮ অধ্যাপক ডা. শেখ মো. নাজমুল হাসান ২৮ অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১১ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আনোয়ারুল হক হেলাল আফসানা বেগম আবদুল গাফফার চৌধুরী আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ৩২ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল ১০ আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৮ আরিফ রহমান ১৬ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৫৪ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইনাম আহমদ চৌধুরী ইমতিয়াজ মাহমুদ ৭৩ ইয়ামেন এম হক এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন একুশ তাপাদার এখলাসুর রহমান ৩৭ এনামুল হক এনাম ৫৪ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৬৪ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান কেশব কুমার অধিকারী খুরশীদ শাম্মী ১৮ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ৪৪ জহিরুল হক মজুমদার জাকিয়া সুলতানা মুক্তা জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুনাইদ আহমেদ পলক জুয়েল রাজ ১১৭ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ১২ ড. কাবেরী গায়েন ২৩ ড. নাদিম মাহমুদ ৩৭ ড. মাহরুফ চৌধুরী ১২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ড. শামীম আহমেদ ৪৫ ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ ২০ ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার তোফায়েল আহমেদ ৩২ দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৭ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক প্রফেসর ড. মো. আতী উল্লাহ ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৪৪ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৮ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১৯৪ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৫৩ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক ১৪ রণেশ মৈত্র ১৮৩ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ৫৫ রাজু আহমেদ ৪১ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩৮ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর