আজ রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

Advertise

উগ্রতার মুখে ইসলামের সৌন্দর্য

রাজু আহমেদ  

বাংলাদেশেও এক অদৃশ্য মহল ইসলামোফোবিয়া বাড়াতে শান্তির ধর্ম ইসলামকে উগ্রতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তারা অত্যন্ত সুকৌশলে কাজ করছে। ইসলামের নামে এমনসব কাণ্ড-কারখানা ঘটানো হচ্ছে যা সাধারণ ও সরল মানুষকে গভীর ভাবনায় ফেলছে। এই ঘৃণ্যতার সাম্প্রতিক নজির—কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়া। ধর্মের নামে বাড়াবাড়িকে শিল্পের রূপে পরিণত করা হয়েছে। এমন কিছু মানুষকে ব্যবহার করা হচ্ছে যাদের চেহারায় ‘পাক্কা মুসলিম’-এর ছাপ—জুব্বা, টুপি, লম্বা দাঁড়ি, আর বাছাইকৃত আয়াত-হাদিস। এভাবেই তাদেরকে ইসলামের ইজারাদার হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে।

নারীর চাকরি নিয়ে এরা কথার ঝড় তোলে। মা-বোনদের নিয়ে কটূক্তি করে, তাদেরকে জাহান্নামী ফতোয়া দেয়। পথে-ঘাটে মানুষকে ধরে ইসলামের নামে চাপিয়ে দেয় এমনসব কথা, যা মূলধারার ইসলাম নয়। সম্প্রীতির বন্ধনকে এরা শত্রুতায় রূপান্তরিত করে ছিন্ন করতে চায়। ধর্মীয় দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা এদের অদৃশ্য লক্ষ্য। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে গিয়ে অন্য সবাইকে বাতিল করে দেওয়ার প্রবণতা ভয়ঙ্করভাবে গেড়ে বসেছে। শুধু শত্রুর বিরুদ্ধেই নয়, নিজেদের মধ্যেও হানাহানি-মারামারি টেনে আনছে তারা। সাধারণ মানুষ এসব দেখে এখন বীতশ্রদ্ধ। “মোল্লা” শব্দটি প্রায় গালিতে পরিণত হয়েছে। ইসলামের সৌন্দর্যকে নস্যাৎ করার নীলনকশায় সক্রিয় কিছু গোষ্ঠী উঠেপড়ে লেগেছে।

ওয়াজের ময়দানে পরস্পরের বিরুদ্ধে কটু আক্রমণ চালিয়ে তারা যেন ইসলামের নয়, বরং অন্য কোনো শক্তির ভাড়াটে এজেন্ট। ইসলামের আকিদা ছেড়ে ব্যক্তিসৃষ্ট মতবাদ চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় তারা ধর্মের ডিলারে পরিণত হয়েছে। সরল বিশ্বাসী মানুষদের বলি করে চলছে ধর্মের বাণিজ্যিকীকরণ। ফলে রেষারেষির ভিড়ে সত্য আবিষ্কার ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ ধর্ম কারো ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। সবাইকে জোর করে ধার্মিক বানানোর প্রবণতা এবং নিজস্ব মতবাদের পক্ষে মানুষ টানার প্রতিযোগিতা অসহিষ্ণুতার আগুন জ্বালাচ্ছে। অথচ রবের সৃষ্ট জান্নাত ও জাহান্নামের দরজার সংখ্যা আট ও সাত—এত স্পষ্ট বার্তা থাকা সত্ত্বেও বাড়াবাড়ি সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

অবাধ স্বাধীনতার অপব্যবহারে উগ্রবাদ এখন আগ্রাসী রূপ নিয়েছে। অশিক্ষিত মানুষ উচ্ছৃঙ্খল না হলেও অর্ধশিক্ষিত ধার্মিক অনেক সময় উম্মাদের মতো আচরণ করে। সীমাহীন স্বাধীনতাকে অবমূল্যায়ন করে একদল বেছে নিয়েছে উন্মাদনার পথ। ইসলাম কায়েমের অজুহাতে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। অথচ যেকোনো মতবাদকে বিকল্প মতবাদ দিয়েই মোকাবিলা করতে হয়। ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য অধর্মের পথ নেওয়া কখনো বুদ্ধিবৃত্তিক আচরণ নয়। তবু ইসলামে কালিমা লেপনের জন্য একদল মরিয়া হয়ে উঠেছে। এরা সৌন্দর্যকে বিষে পরিণত করে। মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত এই খণ্ডচক্রকে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ব্যবহার করছে। পয়সার কাছে আদর্শ বিক্রি করা মানুষদের কাছে ধর্মের যথার্থতা আশা করা নিছক বোকামি।

এখন দায়িত্ব নিতে হবে প্রকৃত ধর্মবেত্তাদের। ইসলামের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেওয়া, আগাছা-পরগাছাদের অপচেষ্টা রুখে দেওয়া, সরল বিশ্বাসী মানুষকে সঠিক পথে দিকনির্দেশনা দেওয়া—এগুলো তাদের কর্তব্য। ইসলামের বিরুদ্ধে অন্য মতবাদগুলো একজোট হয়ে বদনাম ছড়াচ্ছে। কথিত মুসলিম গোত্রভুক্তরা যাতে তাদের হাতিয়ার হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। ধর্মের সঠিক চর্চা ও সু-মহান আদর্শ প্রচারে আলেমদের নিরলস কাজ চালিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে—ধর্মের রাজনীতিকরণ আসলে ধর্ম অবমাননার পথ সহজ করে দেয়।

সবার মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হোক—এই হোক আমাদের নিত্য প্রার্থনা।

রাজু আহমেদ, কলাম লেখক। ইমেইল: raju69alive@gmail.com

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ৪৮ অধ্যাপক ডা. শেখ মো. নাজমুল হাসান ২৮ অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১১ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আনোয়ারুল হক হেলাল আফসানা বেগম আবদুল গাফফার চৌধুরী আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ৩২ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল ১০ আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৮ আরিফ রহমান ১৬ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৫৪ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইনাম আহমদ চৌধুরী ইমতিয়াজ মাহমুদ ৭২ ইয়ামেন এম হক এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন একুশ তাপাদার এখলাসুর রহমান ৩৭ এনামুল হক এনাম ৫৪ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৬৪ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান কেশব কুমার অধিকারী খুরশীদ শাম্মী ১৮ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ৪৪ জহিরুল হক মজুমদার জাকিয়া সুলতানা মুক্তা জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুনাইদ আহমেদ পলক জুয়েল রাজ ১১৪ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ১২ ড. কাবেরী গায়েন ২৩ ড. নাদিম মাহমুদ ৩৭ ড. মাহরুফ চৌধুরী ১২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ড. শামীম আহমেদ ৪৫ ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ ২০ ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার তোফায়েল আহমেদ ৩২ দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৭ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক প্রফেসর ড. মো. আতী উল্লাহ ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৪৪ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৮ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১৯৪ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৫৩ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক ১৪ রণেশ মৈত্র ১৮৩ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ৫৫ রাজু আহমেদ ৪০ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩৮ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর