আজ শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

Advertise

একাধিক বিয়ে নিষিদ্ধ নয়, তবে স্রেফ কাবিননামায় তা সিদ্ধও নয়

কবির য়াহমদ  

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এক বিব্রতকর ও জটিল সমীকরণের মুখে পড়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তার একাধিক ভিডিয়ো ফাঁসের পর তিনি আইনি, সামাজিক ও রাজনৈতিক— সব দিক থেকেই চাপে রয়েছেন। অবস্থা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে তার সব কূল হারানোর উপক্রম। যদিও তিনি দাবি করছেন ভিডিয়োতে থাকা মেয়েটি তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’। ভিডিয়ো ভাইরালের পর ওই মেয়ে নিজে, মেয়ের বাবা এবং সংসদ সদস্য ও তার প্রথম স্ত্রী একই দাবি করছেন। ফেসবুকে জামায়াত-দলীয় অ্যাক্টিভিস্টরা প্রথমে ‘এআই জেনারেটেড ভিডিয়ো’ বললেও, শেষ পর্যন্ত তারাও ভিডিয়োকে কবুল করে দ্বিতীয় বিয়ে তত্ত্বে মনোনিবেশ করেছেন। ইত্যবসরে সামাজিক মাধ্যমে একটা স্বাক্ষরিত কাবিননামার দেখা মিলেছে। ওই কাবিননামায় অন্য অনেকের সঙ্গে স্বাক্ষর আছে প্রথম স্ত্রীর। কিন্তু এই কাবিননামা কি পারবে সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় বিয়ের আইনি ভিত্তি দিতে?

বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পুরুষদের একাধিক বিয়ে করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থাতেও একজন পুরুষ নতুন আরও বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু এই অধিকার অনিয়ন্ত্রিত নয়। ১৯৬১ সালের ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ’ আইনে পুরুষদের বহুবিবাহের সুযোগ রাখা হলেও এটিকে কঠোর আইনি শর্ত ও বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে কোনো পুরুষ চাইলেই বা গোপনে একটি কাবিননামায় সই করে রেজিস্ট্রি করিয়ে নিলেই সেই বিয়ে আইনত সিদ্ধ হয়ে যায় না।

ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর সবশেষ যখন কাবিননামার দেখা মিলল, তখন হয়তো অনেকেই ভাবছেন এর মাধ্যমে খুব সহজে পার পেয়ে যাবেন সংসদ সদস্য। বিষয়টি তত সহজ নয় আসলে। বরং এই কাবিননামা আসলে এখানে কেবল সংসদ সদস্যই নয়, আরও অনেককে নানা আইনি ঝামেলায় ফেলতে পারে। ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১’-এর ৬(১) ধারায় বলা আছে: “সালিসি পরিষদের পূর্বানুমতি ব্যতীত, বহাল থাকা কোনো বিবাহের সময়ে, কোনো পুরুষ অন্য কোনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না; এবং এই ধরনের অনুমতি ব্যতীত সম্পাদিত কোনো বিবাহ [মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর অধীনে নিবন্ধিত হবে না।” অর্থাৎ, দ্বিতীয় বিয়ের প্রথম ও প্রধান আইনি শর্তই হলো— বিয়ের পূর্বে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার ‘সালিসি পরিষদ’ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি গ্রহণ করা।

আইনের ৬(২) ও ৬(৩) ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ফি দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে অনুমতির আবেদন করতে হয়। সেখানে দ্বিতীয় বিয়ে করার গ্রহণযোগ্য আইনি কারণ এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতি আছে কি না, তা উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। আবেদন পাওয়ার পর চেয়ারম্যান স্বামী ও প্রথম স্ত্রী— উভয় পক্ষকে নিজ নিজ প্রতিনিধি পাঠাতে বলবেন এবং ৩ সদস্যের সালিসি পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদ শুনানি শেষে যদি মনে করে প্রস্তাবিত বিয়েটি যুক্তিসঙ্গত ও অপরিহার্য, তবেই কেবল শর্তসাপেক্ষে অনুমতি মিলতে পারে।

মঙ্গলবার দিনভর নানা নাটকীয়তা, এমপির ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, দ্বিতীয় বিয়ের দাবি, তরুণী ও তার বাবার বক্তব্য এবং সবশেষে কাবিননামা প্রদর্শনের পরও আইনি শর্ত পূরণের বিষয়টি অপূর্ণ থেকে গেছে। কারণ, সালিসি পরিষদের কোনো পূর্বানুমতি নেওয়া হয়নি। সালিসি পরিষদের পূর্বানুমতি নেওয়া হয়নি এটা নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরার গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, ‘দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির জন্য সংসদ সদস্যের কাছ থেকে কোনো আবেদনই তিনি পাননি।’ তিনি বলেছেন, ‘আমি বিয়ের কথা শুনেছি, তবে তা এই আজকেই (২১ জুলাই)।’ অর্থাৎ, আইনে উল্লিখিত বাধ্যবাধকতা শুরুতেই লঙ্ঘিত হয়েছে। অন্যদিকে, সালিসি পরিষদের অনুমতি ছাড়া কীভাবে রেজিস্ট্রি হলো—প্রশ্নে এই বিয়ের নিবন্ধক কাজী মাওলানা বাকী বিল্লাহর দাবি, প্রথম স্ত্রী সশরীর উপস্থিত ছিলেন বলেই তিনি রেজিস্ট্রি করেছেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতি কোনোভাবেই সালিসি পরিষদের বিকল্প হতে পারে না। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদা খানমের ভাষ্য, ‘প্রথম স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব, গুরুতর শারীরিক অক্ষমতা বা তীব্র দাম্পত্য বিরোধের মতো নির্দিষ্ট কারণ দেখিয়েই কেবল সালিসি পরিষদে আবেদন করা যায়। কিন্তু এমপি নজরুলের প্রথম স্ত্রী শারীরিক বা সন্তান ধারণে অক্ষম নন; ত্রয়োদশ নির্বাচনের হলফনামাতেই তার সন্তানদের সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। [টাইমস অব বাংলাদেশ, ২১ জুলাই ২০২৬]’

এখানেই শেষ নয়, ‘মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন, ১৯৭৪’-এর ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কাজী নিজে বিয়ে পড়ালে তাত্ক্ষণিকভাবে রেজিস্ট্রি করবেন, আর অন্য কেউ পড়ালে ৩০ দিনের মধ্যে নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে রিপোর্ট করতে হবে। অন্যথায় তা সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানাযোগ্য অপরাধ। এমপির দাবি মতে ১৭ জুন বিয়ে হলেও, ভিডিয়ো ভাইরালের পর তাড়াহুড়া করে তা নিবন্ধিত হয়েছে ২১ জুলাই। ফলে ৩০ দিনের আইনি সময়সীমার ব্যত্যয় ঘটেছে। এখানে কাজীর যুক্তি আর ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্যের ব্যবধান থেকেই স্পষ্ট— ফেসবুকে প্রদর্শিত এই কাবিননামা সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের আইনি সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপে পড়ে কাজী সালিসি সনদ ছাড়া রেজিস্ট্রি করলেও আদালত সেই বেআইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে না।

সালিসি পরিষদের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১’-এর ৬(৫) ধারা অনুযায়ী সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ। এ আইনের অধীনে অপরাধী পুরুষকে: বিদ্যমান স্ত্রী বা স্ত্রীগণকে দেয় দেনমোহরের পুরো টাকা (তৎক্ষণাৎ প্রদেয় হোক বা বিলম্বিত হোক) অবিলম্বে পরিশোধ করবেন; এবং উক্ত টাকা যদি এভাবে পরিশোধ করা না হয়, তবে তা বকেয়া ভূমি রাজস্ব হিসেবে আদায়যোগ্য হবে; এবং অভিযোগের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ এক বছর মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা সর্বোচ্চ [দশ হাজার টাকা] জরিমানায়, কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

তড়িঘড়ি করে তৈরি করা কাবিননামাটির পেছনে জালিয়াতির চিহ্নও স্পষ্ট। কাজী নিজে স্বীকার করেছেন, ২০ জুলাই রাতে ঢাকা থেকে ফোন পেয়ে তিনি পেছনের তারিখ [১৭ জুন] বসিয়ে ২১ জুলাই কাবিননামা তৈরি করেন। অন্যদিকে, ২২ জুন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম নিজে ওই তরুণীর সিভিতে নিজ হাতে ‘অবিবাহিত’ লিখে সবুজ কালিতে সই করেছেন। ১৭ জুন বিয়ে হয়ে থাকলে ২২ জুনের দাপ্তরিক সিভিতে মেয়েটিকে ‘অবিবাহিত’ দেখানো সরাসরি অসত্য তথ্য প্রদান ও জালিয়াতির শামিল। এটাও আমলযোগ্য অপরাধ, অবশ্য যদি আমলে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশের সংবিধান ও সংসদীয় নীতিমালায় জনপ্রতিনিধিদের ‘নৈতিক স্খলন’ গুরুতর বিষয়। এমনটা প্রমাণিত হলে সংসদ সদস্যের সদস্যপদ থাকে না। দ্বিতীয় বিয়ে করা আইনত অপরাধ না হলেও, আইন অগ্রাহ্য করে গোপন বিয়ে, সালিসি পরিষদের অনুমোদন না নেওয়া, পেছনের তারিখে কাবিননামা বানিয়ে জালিয়াতি করা এবং তথ্যের চরম বৈপরীত্য তৈরি করাও এখানে অপরাধ। তিনি যে কাবিননামাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন, আইনি কাঠামোর সামনে তা কোনোভাবেই টিকে যাওয়ার কথা নয়। এই কাবিননামা না পারবে তাকে আইনি সুরক্ষা দিতে, না পারবে সংসদীয় পদের জবাবদিহি থেকে রক্ষা করতে। তাড়াহুড়ো করে আইনি ফাঁকফোকর ঢাকা দেওয়ার এই চেষ্টা তার রাজনৈতিক ও সংসদীয় ভবিষ্যৎকে আরও বড় সংকটের মুখেই ঠেলে দিল। জানি না, তার এই ঘটনা আদালত পর্যন্ত পৌঁছাবে কি না। তবে এই নারী-কাণ্ড তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে সামাজিকভাবে যে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

গাজী নজরুল ইসলামের এই নারী-কাণ্ড নিয়ে তার দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রথমে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়, পরে তারা তাকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেওয়া জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবৃতিতে বলেছেন, ‘অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে। ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ভিডিয়ো বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’ জামায়াতের এই বিবৃতিটি ছিল মাঝামাঝি পর্যায়ের ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ টাইপের। বিবৃতির ভাষায় মনে হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হলে তারা হয়তো কঠিন সিদ্ধান্ত নেবে। পরে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার পর বুধবার (২২ জুলাই) দলটি তার দলের এই সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিস্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানায়। জামায়াত জানায়, তারা সংসদ সদস্য পদ বাতিলে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেবে।

আমাদের যে রেওয়াজ তাতে দেখা যায়— যদি কোনো দল কাউকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বরখাস্ত করে এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তার এমপি পদ রহিত করার জন্য আবেদন করে তাহলে এমপি পদ বাতিল হয়। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটেছিল। এই রেওয়াজের আবার দীর্ঘসূত্রিতা এবং ব্যত্যয়ও আছে, স্পিকারের কাছে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদনের পরেও স্পিকার বাতিল না করার ঘটনাও আছে, সঙ্গে আছে আইনি লড়াইও। এটা ঘটেছিল আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ সরকারের আমলে। আওয়ামী লীগের তৎকালীন জাতীয় ঐকমত্যের সরকারে ১৯৯৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ থেকে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত হাসিবুর রহমান স্বপন উপমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন; এর এক সপ্তাহ পর বিএনপির রাজশাহীর আরেক সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিনও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর বিএনপি তাদের দুজনকে দল থেকে বহিস্কার করে স্পিকারের কাছে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন করে। কিন্তু স্পিকার সে আবেদন আমলে নেননি। পরে বিএনপি আদালতে যায়। আদালত ওই দুজনের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার ছেড়ে দেন নির্বাচন কমিশনের ওপর। নির্বাচন কমিশন দুজনের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করে। এইসব ঘটনার বাইরে আরও কিছু ঘটনা আছে— কোনো দল যদি শুধু সাংগঠিক পদ বাতিল করে এবং স্পিকারের কাছে এমপি পদ বাতিলের আবেদন না করে তাহলে এমপি পদ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নবম জাতীয় সংসদের জাতীয় পার্টির এমপি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এইচএম গোলাম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানোর কারণে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল ছিল। অদ্যকার আলোচিত জামায়াত-দলীয় সংসদ সদস্যকে দলটি বহিস্কার করলেও যে তার সংসদ সদস্যপদ চলে যাবে এমনটা না। সংবিধানে বহিস্কার সম্পর্কিত সুস্পষ্ট ধারা না থাকায় এবং রেওয়াজের ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকায় এক্ষেত্রে কী হবে সেটা বলা যাচ্ছে না।

এরবাইরে থাকে ‘নৈতিক স্খলন’-এর সংসদ সদস্যপদ বাতিলের প্রসঙ্গ। এই ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণ করবে কে? এটাকে স্পিকারকে নোটিস করবে কে? প্রাতিষ্ঠানিক অথবা আইনি ক্ষেত্রে প্রমাণ ও স্পিকারকে নোটিস ছাড়া এটা নিয়ে স্পিকারের করার সুযোগ সীমিত। ভাইরাল ভিডিয়ো এবং বিয়ে নিয়ে নানা ঘটনা ও আইনের ব্যত্যয়ের যে আলোচনা চলমান, তাতে দেখা যাচ্ছে এর আইনি প্রতিবিধান চাওয়ার মতো কেউ নেই। যে তরুণীকে নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি সংসদ সদস্যের, সেই তরুণী থেকে শুরু করে সংসদ সদস্যের পরিবার, সবাই তার পক্ষে। সবাই তাকে রক্ষা করতে চায়; এটা সম্পর্কের কারণে হোক আর চাপে পড়ে যেভাবেই হোক। ফলে এমপি গাজী নজরুল এক্ষেত্রে ওই পরিবার থেকে যে আইনি সমস্যায় পড়বেন, এটা বলা যাচ্ছে না। ফলে আইন অমান্য করলেও আইনের কাঠগড়ায় তার দাঁড় হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এখানে আশার বিষয় ছিল ‘সুয়োমোটো রুল’ বা ‘স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে’ রুল জারি করে বিয়ে সম্পর্কিত আইনের ব্যত্যয়কে আইনি কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর। কিন্তু বাংলাদেশের বিচারিক বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই আশা করা যাচ্ছে না। তবু কেউ এইসব ঘটনার আইনি প্রতিকার না চাওয়ার পর, যদি কোনো বিচারপতি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই ঘটনায় দৃষ্টিপাত করেন, তবে হয়ত এটা অনেক দূর যেতে পারে।

গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যম কোনো বিচারালয় নয়। ওসব জায়গায় নানা ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়, এসব আলোচনায় জনমত প্রভাবিত হয় ঠিকই, কিন্তু কারও পক্ষে-বিপক্ষে রায় দেওয়ার জায়গা এটা নয়। রাষ্ট্রের বিধিবদ্ধ ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক যে সিদ্ধান্ত সেটার পথ ধরেই এগোয় সমাজ-রাষ্ট্র। সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে যে সব ঘটনা ঘটেছে, এর একটা আইনি প্রতিবিধান হওয়া জরুরি। ধর্মের আলখেল্লা গায়ে জড়িয়ে সমাজ-নীতিনৈতিকতা ও ধর্মবিরোধী এইধরনের কাজ বন্ধ হওয়া জরুরি।

২২ জুলাই ২০২৬

কবির য়াহমদ, প্রধান সম্পাদক, সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর; ইমেইল: kabiraahmed007@gmail.com

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ৪৮ অধ্যাপক ডা. শেখ মো. নাজমুল হাসান ২৮ অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১১ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আনোয়ারুল হক হেলাল আফসানা বেগম আবদুল গাফফার চৌধুরী আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ৩২ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল ১০ আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৮ আরিফ রহমান ১৬ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৫৪ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইনাম আহমদ চৌধুরী ইমতিয়াজ মাহমুদ ৭৩ ইয়ামেন এম হক এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন একুশ তাপাদার এখলাসুর রহমান ৩৭ এনামুল হক এনাম ৫৪ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৬৯ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান কেশব কুমার অধিকারী খুরশীদ শাম্মী ১৮ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ৪৪ জহিরুল হক মজুমদার জাকিয়া সুলতানা মুক্তা জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুনাইদ আহমেদ পলক জুয়েল রাজ ১১৯ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ১২ ড. কাবেরী গায়েন ২৩ ড. নাদিম মাহমুদ ৩৭ ড. মাহরুফ চৌধুরী ১২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ড. শামীম আহমেদ ৪৫ ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ ২০ ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার তোফায়েল আহমেদ ৩২ দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৭ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক প্রফেসর ড. মো. আতী উল্লাহ ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৪৪ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৮ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১৯৪ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৫৩ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক ১৪ রণেশ মৈত্র ১৮৩ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ৫৫ রাজু আহমেদ ৪৩ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩৮ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর