আজ রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

Advertise

আঠারোর চোখে বিস্ময়, বুকে দুঃসাহস...

সঙ্গীতা ইয়াসমিন  

একটি সমাজ তাকিয়ে থাকে তাঁর তরুণদের দিকে। তরুণেরা রাঙা অরুণ হয়ে আলোর প্রভাত নিয়ে আসবে আগামীর সকালে। সকল কালো দূর করে আশার আলো জ্বালবে জীবনে-মননে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সেই উচ্ছ্বাস-সাহস-উচ্চাকাঙ্ক্ষা বুনে দিতে হয়। দিতে হয় জ্ঞানের রসদ যুগিয়ে, একদিন সেই জ্ঞান মহীরুহ হবে, প্রজ্ঞার দ্যুতিতে চারপাশ করবে আলোকিত। আজকের তরুণ আগামীর দেশ-সমাজ গড়ার কারিগর। তরুণ সমাজকে যোগ্য করে গড়ে তোলার দায় রাষ্ট্র সমাজ তথা পরিবারের।

আজ এমনই এক তরুণের গল্প বলব আপনাদেরকে। যে কিনা তাঁর সাহসী-স্বপ্নময় উদ্যোগের জন্য সারা পৃথিবীতে এক মহান অবিসংবাদিত বীর হিসেবে খ্যাত। অথচ, তিনি বিখ্যাত হতে চাননি কোনোভাবেই; চেয়েছিলেন শুধু মানুষের পাশে দাঁড়াতে, মানুষের হিতকল্পে কিছু সহায়তা করতে।

গল্পটি খুবই সাধারণ, কিন্তু ভীষণ শক্তিশালী। ১৯৭৭ সালে সাইমন ফ্রেজার ইউনিভার্সিটিতে প্রথম বর্ষে পড়ুয়া এক এক স্বপ্নবান যুবক টেরি ফক্স; যার তৃষ্ণা ছিল জ্ঞান অন্বেষণ, মানব-কল্যাণ এবং খেলাধুলা। আঠারোতে পা দিতে না দিতেই আচমকা এক প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের মতো তাঁর পৃথিবীতে অন্ধকার নেমে এল। তিনি আবিষ্কার করলেন, অস্টিওজেনিক সারকোমা নামক একধরনের হাড়ের ক্যান্সারে তিনি আক্রান্ত। শুরু হল চিকিৎসা। দীর্ঘ ১৬ মাস চিকিৎসার চলল। শরীরের অন্যান্য অংশে যাতে দ্রুতই ক্যান্সার ছড়িয়ে না পড়ে সেকারণেই চিকিৎসক তাঁর ডান পা টি কেটে ফেলতে বাধ্য হলেন। টেরির বুঝতে অসুবিধা হল না, তাঁর জীবনকাল খুবই সংক্ষিপ্ত। ক্যান্সার তাঁর জীবনের পথ সংক্ষিপ্ত করে দিতে পারে, তবে তাঁর স্বপ্নকে অত সহজেই ছেঁটে দিতে পারবে না। হাসপাতালে চিকিৎসাকালীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনি তহবিল সংগ্রহ করবেন, যাতে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হয়।

যেই ভাবনা সেই কাজ; একটি সুস্থ পায়ের সাথে অ্যাম্পুটেসন করা একটি পা নিয়ে “ম্যারাথন অফ হোপ” নামে কানাডা জুড়ে দৌড়াতে শুরু করেন। ১২ এপ্রিল, ১৯৮০ সালে নিউফাউন্ডল্যান্ড এবং ল্যাব্রাডর থেকে দৌড় শুরু করেন, যা অন্টারিওতে গিয়ে শেষ হয়। তিনি বিখ্যাত হওয়ার জন্য দৌড়াননি; চেয়েছিলেন একটি পরিবর্তন; ক্যান্সার নিরাময়ে গবেষণার জন্য তহবিল সংগ্রহ করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

তিনি তুষার, ঝড়-উত্তাপ-আর্দ্রতার মধ্যেও একদিনের জন্য তাঁর দৌড় থামাননি। রোজ ৪২ কিলোমিটার দৌড়ের লক্ষ্য নিয়ে ভোর ৪-৩০ এ শুরু করে শেষ কিলোমিটার সন্ধ্যা ৭-০০ টার পরে শেষ করতেন। কখনও কখনো টেরি এবং তাঁর সার্বক্ষণিক সহযাত্রী বন্ধু-ড্রাইভারকে ভ্যানেই রাত্রিযাপন করতে হত। কোথাও কোথাও শত শত মানুষ রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে উত্সাহ দিত, আবার কখনো কেউই ছিল না, সেদিন কোন অর্থ সংগ্রহও হত না।। তবু তিনি আশাহত হননি। টেরি বলতেন, “নেভার গিভ আপ”। তিনি বিশ্বাস করতেন, কানাডিয়ানরা তাঁর উদ্যোগে সাড়া দেবেন, এবং বাস্তবে তাই ঘটেছিল।

১৪৩ দিনে সর্বমোট ৫,৩৭৩ কিলোমিটার পাড়ি দেবার পরে ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০ সালে অন্টারিওর থান্ডার বে তে এসে তিনি দৌড় থামাতে বাধ্য হন। হঠাৎই অসুস্থ বোধ করেন, ক্যান্সার তাঁর ফুসফুসে ছেয়ে গিয়েছিল; তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে ভর্তি হতে হল। তৎকালীন কানাডিয়ান জনসংখ্যার হিসেবে ২৪ মিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য নিয়ে দৌড় শুরু করেছিলেন। তাঁর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছিল ১৯৮০ সালের গোড়ার দিকেই।

মৃত্যুর আগে দেশবাসীকে তাঁর 'ম্যারাথন অফ হোপ'-এর সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন। মৃত্যুর আগেই টেরি জেনে যান, তাঁর নামে একটি বার্ষিক দৌড় অনুষ্ঠিত হবে যা তার মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করবে। মাত্র ২২ বছর বয়সে ২৮ জুন, ১৯৮১ সালে তাঁর জীবন প্রদীপ নিভে যায়।

টেরি মৃত্যুকে উপেক্ষা করতে পারেননি; আর কানাডিয়ান সমাজ পারেনি তাঁকে হৃদয় থেকে সরিয়ে রাখতে। যুগ যুগ ধরে পরবর্তী প্রজন্ম টেরির অদম্য ইচ্ছা, অসম সাহসিকতা, আর মানুষের প্রতি ভালোবাসার এই মহতী কর্মকাণ্ডকে কুর্ণিশ জানাবে; কানাডিয়ান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক অনন্য আশার আলো যোগাবে। টেরির স্মরণে এখনো প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে কানাডায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি দাতব্য সংস্থা টেরি ফক্স রান এর আয়োজন করে এবং সংগৃহীত অর্থ ক্যান্সার গবেষণা সোসাইটির তহবিলে জমা দেয়।

এই রান এর উদ্দেশ্য কেবল অর্থ সংগ্রহ নয়, আজকের শিশুদের মধ্যে টেরির সাহসী উদ্যোগ, উদারতা-মানবতা, ভালোবাসা-সমানুভূতির এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত তুলে ধরার জন্যই স্কুলগুলোতে টেরির জীবনদর্শন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা, মুভি প্রদর্শন, চিত্রকর্মসহ টেরির জীবনীভিত্তিক গল্পপাঠের আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে টেরির পরিবার টেরিফক্স ফাউন্ডেশন নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন, যার লক্ষ্য হল কানাডিয়ান ক্যান্সার রিসার্চ সোসাইটিতে তহবিল সংগ্রহ করে দেওয়া, এবং টেরির জীবনাদর্শ, লক্ষ্য ও কর্মচিন্তাকে আরও অধিক মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া। টেরির পরিবার সন্তানহারা-ভাইহারা হলেও টেরির কর্মের মধ্য দিয়ে তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন লক্ষ লক্ষ মানুষের ভালোবাসায়-শ্রদ্ধায়-স্মরণে।

একটি দেশ-একটি সমাজ এভাবেই তাঁর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মহা মানবদের জীবনপ্রণালী তুলে ধরেন। তাঁদেরকে অনুপ্রাণিত করতে, উৎসাহিত করতে এমন মানবতার দৃষ্টান্ত তাঁদের মননে গভীর রেখাপাত করে। তাঁদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে উদারনৈতিক মহতী কর্মউদ্দীপনা যোগাতে এরকম মহৎ মানুষের জীবনী মনের অতলে স্বপ্নের বীজ রোপণ করে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তি নয়; শিক্ষার্জন হল জীবন ও জগতের অন্যসকল বিষয়ে জ্ঞান আরোহণ তথা স্বীয় কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন হওয়া এবং সে অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনার দক্ষতা অর্জন করা। যাতে আগামীর দেশ-সমাজ বিশ্ব দরবারে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। যেখানে তরুণেরা স্বপ্ন দেখেই ক্লান্ত হবে না, তাঁরা দায়িত্ব নিতে শিখবে নির্মোহ-স্বার্থহীনভাবে, ভালোবাসতে পারবে শর্তহীন। মানুষ ও মানব কল্যাণে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করার তাগিদ অনুভব করবে তরুণেরা। আর সেই সাহস-শক্তি যোগাতে, সেই শিক্ষা প্রদানে অভিভাবক হিসেবে বাবা-মাসহ শিক্ষকের ভূমিকা অগ্রগণ্য।

আজকের বাংলাদেশের দিকে তাকালে আমরাও একরকম তারুণ্যের জয়গান শুনি বৈকি! আমাদের জেন-জি, এই স্মার্ট তরুণ সমাজ, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতায় উজ্জীবিত এই তারুণ্যের কাছে দেশ-জাতি-সমাজের কী প্রত্যাশা? আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি? কী তাঁদের স্বপ্ন, কী চায় তাঁরা? তাঁরা নিজেরাই কি জানে? কোথায় তাঁদের গন্তব্য? কেনই বা তাঁরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছোতে চায় যে কোনো কৌশলে? সেসব প্রশ্ন মনের ভেতরে উঁকি দেওয়া যেমন অস্বাভাবিক নয়, তেমনি এর উত্তরগুলো খুব জটিলও নয়। অবস্থাদৃষ্টে একটাই প্রশ্ন বুকের ভেতর অনুরণিত হয়, আমরা কি তেমন সমাজ গড়তে পেরেছি? যেখানে আমাদের সন্তানেরা সাহসী ভূমিকা নেবে মানুষের জন্য, দেশের জন্য, আগামীর সমাজ গঠনের জন্য।

আমরা তো তাঁদের সম্মুখে মডেল হয়েছি কীভাবে ক্ষমতায় যেতে হয়, কীভাবে রাতারাতি সহজ পন্থায় জনসাধারণের ধন-সম্পদ হস্তগত করা যায়। নিজ স্বার্থ হাসিলে আমরা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করেছি তাঁদেরকে, শিখিয়েছি মব সন্ত্রাস, গলাবাজি, গালিবাজি, অন্যকে হেয় করে নিজেকে বড় প্রমাণ করা, শিখিয়েছি ক্ষমতালোলুপতা। তাই তারা পড়াশুনার চেয়ে বেশী ভালোবাসে ক্ষমতা, তারা ক্ষমতা বলয়ের বুদবুদ হতে চায়, তাদের স্বপ্ন দেশগঠন নয়, দেশ সেবা নয়, বরং একজন মন্ত্রী হওয়া।

কেননা, একজন টেরি ফক্স হবার দীক্ষা নেই তাদের। তারা ছাড়তে জানে না, ক্ষমা করতে পারে না। তারা ভালোবাসতে শেখে না। হিংসা-বিদ্বেষ, বিভেদ ছাড়া আমাদের কাছে তারা আর কিছুই শেখে না। যে সমাজ গালিবাজকে শিরোপা প্রদান করে বীরের খেতাব দেয়, যাতে আগামীর সন্তানেরা নির্ভীকভাবে গালাগাল দিয়ে সমাজে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে উৎসাহিত হয়(?) সেই সমাজে কখনোই টেরির মতো তরুণদের জন্ম হয় না। বরং বহুজন গালিবাজি করতে উদ্বুদ্ধ হয়।

পরিশেষে, বলতে চাই, সুস্থ সুন্দর জাতি গঠনে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ, মানবিক মূল্যবোধে তাড়িত, পারস্পারিক সহমর্মিতা-সহভাগিতার কোনো বিকল্প নেই। সভ্যতার জয়যাত্রায় পশ্চাৎপদতার কোনো স্থান নেই।

সঙ্গীতা ইয়াসমিন, কানাডা প্রবাসী লেখক

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ৪৮ অধ্যাপক ডা. শেখ মো. নাজমুল হাসান ২৮ অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১১ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আনোয়ারুল হক হেলাল আফসানা বেগম আবদুল গাফফার চৌধুরী আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ৩২ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল ১০ আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৮ আরিফ রহমান ১৬ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৫৪ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইনাম আহমদ চৌধুরী ইমতিয়াজ মাহমুদ ৭৩ ইয়ামেন এম হক এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন একুশ তাপাদার এখলাসুর রহমান ৩৭ এনামুল হক এনাম ৫৪ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৮৫ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান কেশব কুমার অধিকারী খুরশীদ শাম্মী ১৮ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ৪৪ জহিরুল হক মজুমদার জাকিয়া সুলতানা মুক্তা জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুনাইদ আহমেদ পলক জুয়েল রাজ ১২২ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ১২ ড. কাবেরী গায়েন ২৩ ড. নাদিম মাহমুদ ৩৮ ড. মাহরুফ চৌধুরী ১৪ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ড. শামীম আহমেদ ৪৫ ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ ২০ ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন ১০ তানবীরা তালুকদার তোফায়েল আহমেদ ৩২ দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৭ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক প্রফেসর ড. মো. আতী উল্লাহ ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৪৪ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৮ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১৯৬ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৫৩ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক ১৪ রণেশ মৈত্র ১৮৩ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ৫৫ রাজু আহমেদ ৪৩ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩৮ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর